যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্বের সুযোগ দিতে চালু হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’ কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। শুরুতে ব্যাপক আগ্রহের দাবি করা হলেও বাস্তবে পাঁচ মাসে আবেদন এসেছে ৩৩৮টি। এর মধ্যে নাগরিকত্ব পেয়েছেন কেবল একজন।
আদালতের মামলা, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ধনীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় কর্মসূচিটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার ‘গোল্ড কার্ড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। পরে গত ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রথম সপ্তাহেই আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের অমিল উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিক গত ২৩ এপ্রিল কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানান, ওই সময় পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন বিদেশি আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগ্রহ আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
নিউজউইক সাময়িকী গত ১০ মে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে উলটো অনেক আমেরিকানই এখন বিদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্য দেশে চলে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে করের চাপ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক ধনী মার্কিন নাগরিক বিকল্প নাগরিকত্ব বা বিদেশে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৬৫ জন আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ড কার্ডের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত ফিও পরিশোধ করেছেন। তবে এসব আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন বা কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত রয়েছে।
এর প্রধান কারণ আদালতে দায়ের হওয়া মামলা। এই কর্মসূচি স্থগিতের দাবিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সিটিজেনশিপ প্রদানের নির্দেশ কখনোই প্রেসিডেন্ট দিতে পারেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নতুন নয়। বিনিয়োগের মাধ্যমে (ইবি-৫) যুুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি বিধি আগে থেকেই চালু রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। তারপরেও প্রেসিডেন্ট কেন ‘গোল্ড কার্ড’-এর নামে নতুন নির্দেশ জারি করেছেন, তা জানতে চেয়েছেন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলো।
শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করেছিলেন, বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ীরা এই কর্মসূচিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাবেন। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলেই মন্তব্য করেছে নিউজউইক।
বিডি-প্রতিদিন/এমই