ফিলিস্তিনিদের সাহায্যকারী সংস্থা ‘ইউএনআরডব্লিউএ’ চরম অর্থসংকটে পড়েছে। সংস্থাটির ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিভিন্ন দেশের কাছে এই অর্থ সাহায্যের আবেদন করেন। তিনি জানান, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের সহিংসতা এবং লেবাননে হামলার কারণে ফিলিস্তিনিরা চরম কষ্টে আছেন। টাকার অভাব এবং ইসরায়েলের নানা বাধার কারণে সংস্থাটিকে বাধ্য হয়ে তাদের ত্রাণ কাজ কমাতে হচ্ছে।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ায় কাজ করে। তারা ২৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে খাবার, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষা দিয়ে আসছে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিল ইসরায়েল এমন অভিযোগ তোলার পর, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমেরিকা তাদের অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেয়। তবে জাতিসংঘের তদন্তে অভিযুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধেই কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যান্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, সংস্থাটির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও আইনি বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সংস্থাটির ৩৯০ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। তার পরও সংস্থাটি নিজেদের কাজে স্বচ্ছতা আনতে নানা সংস্কার করেছে। অন্যদিকে, তুরস্কের প্রতিনিধি সংস্থাটির ওপর ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও শারীরিক হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ভাঙছে। ফিলিস্তিনিরা যেন নিজেদের দেশে ফিরতে না পারে, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য। বুধবার সংস্থাটির তহবিলের বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
গাজার শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে ইসরায়েল : ইসরায়েলের জ্বালানি ও অবকাঠামোমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো গাজা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। স্থানীয় রেডিও গালেই ইসরায়েলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামাসকে এক মিলিমিটারও মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। কোহেনের দাবি, দুই মাস আগে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক মাস আগে সেই নিয়ন্ত্রণ বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছায়। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সামরিক অভিযান চলতে থাকায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত এলাকার পরিমাণ আরও বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত গাজার শতভাগ অঞ্চলই তাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। এদিকে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ২০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি ইসরায়েলের বিভিন্ন ‘সংবেদনশীল স্থাপনার’ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। টাইমস অব ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্ট পুলিশের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক এজেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রতিটি কাজের বিনিময়ে তিনি কয়েক ডলার থেকে শুরু করে কয়েক শ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।-রয়টার্স ও আলজাজিরা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৯ জুন জেরুজালেম জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরের ঘোষণা (প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন) দাখিল করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। -রয়টার্স ও আলজাজিরা