শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৬

সুন্দরবনে ফের মাছ- কাঁকড়া আহরণ শুরু

হাজার হাজার জেলে পরিবারে স্বস্তি

বাগেরহাট প্রতিনিধি

সুন্দরবনে ফের মাছ- কাঁকড়া আহরণ শুরু

সুন্দরবনের নদী-খালে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নেমেছেন জেলেরা। মাছের প্রজনন মৌসুম ঘিরে জুলাই ও আগস্ট মাস গোটা সুন্দরবনে জেলেদের নদী ও খালে প্রবেশ বন্ধ রাখে বন বিভাগ। দুই মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতিতে সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল হাজার-হাজার জেলে পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

সুন্দরবন বিভাগ ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪.১ বর্গকিলোমিটার, যা গোটা সুন্দরবনের ৩১.১৫ ভাগ। এ বিশাল জলভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল আছে। এসব খালে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, বিশ^খ্যাত শিলাকাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। তবে, এ ম্যানগ্রোভ বনভূমির মধ্যে অভয়ারণ্য ঘোষিত ৩০টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছরই মাছ ও কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ থাকে। বাকি অংশের নদী ও খালে বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ৩০ হাজার জেলে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। এদের বেশির ভাগই বংশ পরম্পরায় সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা পিরোজপুর ও বরগুনাসহ সুন্দরবন লাগোয়া এলাকার বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠী সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ আহরণ ও বিকিকিনির সঙ্গে জড়িত। সুন্দরবনে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানসের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী বন বিভাগ প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ  ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিষেধাজ্ঞা সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়। তবে, সুন্দরবন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করতে বিলম্বের কারণে গতকাল ভোর থেকে জেলেরা ফের মাছ ও কাঁকড়া আহরণ শুরু করেছেন। এখন মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্টেশন থেকে অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করতে জেলেদের ভিড় বেড়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে। তবে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত আকারে জেলেদের মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন,  ‘ছদ্মবেশে কেউ যাতে সুন্দরবনে মাছ শিকারসহ বেআইনি কর্মকান্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য বনরক্ষীদের টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর