শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৫০

৩০ সাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ সাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদে জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিক্রয় মূল্য ও সরবরাহ ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সরকার গত একদশকে এ খাতে প্রায় ৫২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বাজেটারি সার্পোট-ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় হয়, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক গড়ে ১৩-১৪ টাকা, ডিজেলভিক্তিক ব্যয় হয় ২৫-৩০ টাকা, গ্যাসভিত্তিক ব্যয় হয় ২.৫-৩.০ টাকা। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বাল্ক পর্যায়ে সরবরাহ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৮২ টাকা এবং বাল্ক পর্যায়ে গড় বিক্রয় মূল্য ৪ দশমিক ৮০ টাকা।

অবৈধ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ২ লাখ ৪৪ হাজার মিটার

ফখরুল ইমামের (ময়মনসিংহ-৮) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে শনাক্তকৃত অবৈধ বিতরণ লাইনের মাধ্যমে আবাসিকে অবৈধ সংযোগের উৎসমুপ চিহ্নিত করা হয়েছে ১২১টি এবং অবৈধ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬০ মিটার।

গ্রাহকদের মধ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব

মো. হাবিবর রহমানের (বগুড়া-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেশে উত্তোলনযোগ্য মজুদ ১০.৬৩ ট্টিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ২৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। উত্তোলনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণ, শিল্প কারখানাসহ অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত সরবরাহ সম্ভব হবে।

গ্যাসে দৈনিক ঘাটতি ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট

মো. মামুনুর রশীদ কিরনের (নোয়াখালী-৩ ) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দৈনিক উৎপাদিত গ্যাসের উৎপাদন ২৫৭০ মিলিয়ন ঘটনফুট। এছাড়া আমদানি করা দৈনিক ৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুট সমপরিমাণ এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ হিসেবে দৈনিক ঘাটতি রয়েছে ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে ঘাটতি পূরণের জন্য অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ল্যাল্ড বেইসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ফ্যাসিবিলিটি স্টাডি ও টার্মিনাল ডেভলপারস সিলেকশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য