শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০২০ ২০:৩৫
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২০ ২২:০৫

জীবন নিয়ে খেলা

আহমেদ আল আমীন

জীবন নিয়ে খেলা
আহমেদ আল আমীন

একটি ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী মানবজাতি তটস্থ। কয়েক মাস ধরে অদৃশ্য এ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই চলছে। এখনো কুলকিনারা নেই। লড়াই করতে গিয়ে মানুষ আজ নিঃস্বপ্রায়; কতো মানুষের ঘর ভেঙেছে, বাড়ি ভেঙেছে। কতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, জীবিকা হারিয়েছে। কতো মানুষ যে পথে নেমেছে পেটের ক্ষুধায়, তার হিসাব নেই। 

কিন্তু, শত্রু নিধনে কার্যকর অস্ত্রটি এখনো পাওয়া যায়নি। তবু লড়াই চলছে। যে যেভাবে পারছে, শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 

এ অবস্থায় বাংলাদেশে কিছু মানুষের হৃদয়ের সংকীর্ণতা বেরিয়ে এসেছে। এরা এই দুর্যোগেও মানুষের ক্ষতি করে, নিজের আখের গোছাতে পিছপা হয় নি। ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর মতো স্বাস্থ্যখাতের কয়েকজন দুষ্টু কিসিমের লোক করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিতো। 

যেখানে শত্রু অদৃশ্য আর তাকে চিহ্নিত করাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ; সেখানে রিপোর্ট ভুয়া হলে তো সেটি সম্ভবই না। ভুয়া রিপোর্ট এমনই ক্ষতি করেছে। হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে পৈশাচিক আনন্দে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কতজনকে যে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে এই ভুয়া রিপোর্ট, তা কে জানে! 

জীবন নিয়ে খেলা বুঝি একেই বলে। আত্মহত্যা যেখানে মহাপাপ, নিজের জীবন নিয়েই খেলার অধিকার আপনাকে দেওয়া হয়নি; সেখানে হাজার হাজার মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া তো পিশাচের কাজ। এতো ঠাণ্ডা মাথায় খুন।
এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবেও দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাসির পাত্র হয়েছে আমার দেশ।

ডাক্তাররা এতেদিন যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের চিকিৎসা করলেন, প্রাণটা পর্যন্ত বিলিয়ে দিলেন; সে ত্যাগের মহিমা আড়ালেই পড়ে গেলো। লাখ টাকার বাগান বুঝি দুই টাকার ছাগলে এভাবেই খায়। এক বালতি দুধের প্রতি অভক্তি জন্মালো এক ফোটা চ্যানা থেকে।   

তাই জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ ঘটনায় সাবরিনাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ তাকে যে চোখে দেখছে, যেভাবে মূল্যায়ন করছে; তাতে যে কোনো সাধারণ মানুষও আহতবোধ করতে পারে। কিন্তু, সাবরিনার ফেসবুক আইডিতে ঢুকলে মনে হবে, তিনি এসব গায়েই মাখছেন না। সারা দেশ তার বিরুদ্ধে যখন তোলপাড়, তখনও তিনি নিরোর মতো বাঁশি বাজাচ্ছেন আপন মনে। 

আইডিতে প্রায় অর্ধলক্ষ ফলোয়ারের সামনে সর্বশেষ ১০ জুলাইও হাজির হয়েছেন তিনি। মানুষের সামনে যেখানে তার মুখ দেখাতে লজ্জা হওয়ার কথা, সেখানে তিনি মনের সুখে একটি সেলফি ছুঁড়ে দিয়েছেন টাইমলাইনে। 

আসলে এ রাষ্ট্র ও সমাজ সাবরিনাদের ঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। ফলে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে মানুষ। মানুষের জীবন আজ মশা-মাছির চেয়েও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। সামনে মশাটা পনপন করছে, ঠাস করে দিলাম এক চড়। এটা কোনো ব্যাপারই না। 

কিছু মানুষের ভেতরে মনুষ্যত্ববোধ আছে বলে মনে হয় না। অথচ এই মনুষ্যত্বের কারণেই মানুষ অন্য প্রাণির থেকে আলাদা মর্যাদার দাবি করে। মনুষ্যত্ব না থাকলে, মানুষের মতো দেখতে একটি জীব যে কতোটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, সাবরিনারা তার প্রমাণ।  
একদিকে কিছু লোক বলে যাচ্ছে, মানে প্রতিবাদ করছে। অন্যদিকে কিছু লোক অপকর্ম যা করার তা করেই যাচ্ছে। আর ভাবছে, ওরা এতো বকবক করছে কেন?

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর