শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১৭

রাজনীতি তুমি কার?

বাণী ইয়াসমিন হাসি

রাজনীতি তুমি কার?
বাণী ইয়াসমিন হাসি

বেশ কিছু দিন ধরে প্রচণ্ড কাজের চাপ। গতরাতে হুট করেই সিদ্ধান্ত নিলাম এক বেলার জন্য কোথাও যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। রাত পোহাতেই হাওর দেখতে বের হলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এক দিনের জন্য সব কাজ থেকে ছুটি। তাই সকাল থেকে সাইটে ঢুকিনি, মেইলটা পর্যন্ত চেক করিনি। দুপুরে ছবি পোস্ট করার জন্য ফেসবুকে ঢুকি।

টাইমলাইনে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ভাইয়ের একটা পোস্ট চোখে পড়লো। ভাই লিখেছেন, ‘ছাত্র ও যুব রাজনীতির কী দরকার? সহযোগী সংগঠনের মতো বিজেএমইএ সেরা। শুধু মনোনায়ন নয় দলের কেন্দ্রীয় পদও মেলে। শুভ কামনা বিজেএমইএ ...ক্ষমতার রাজনীতিতে আপনাদের কাছে আওয়ামী লীগের খারাপ সময়ের কর্মীদের শেখার আছে।’

ভাইয়ের পোস্টটা পড়ে কৌতুহল জাগলো মনে, আবার কি হলো ? মেইলে ঢুকলাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত একটা মেইলে চোখ আটকে গেল। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১তম সম্মেলনে কাউন্সিলের ক্ষমতাবলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সিদ্দিকুর রহমানকে শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক পদে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ডিজিটাল ব্যানার পোস্টার, তারা ঝলমলে নিয়ন বাতি কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে প্রতিনিধিত্ব করে না। লাখো কর্মীর রক্ত আর ঘাম শ্রম মিশে আছে এই দলটাতে। বছরের পর পর পালিয়ে বেড়ানো, রাতে বাড়িতে না ঘুমাতে পারা, মাসের পর মাস সন্তানের মুখ দেখতে না পারা। অসুস্থ বাবা মায়ের শয্যাপাশে থাকতে না পারা - এসবই একজন আওয়ামী লীগ কর্মীর এক যুগ আগের রুটিন।

আমি নিজে একজন ছাত্রলীগ কর্মী ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে মনেপ্রাণে  ধারণ করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আম জনতার দল। লাখো কর্মীর ভালোবাসা আর আবেগের জায়গা এটা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি ভুল পথে হাঁটো তাহলে প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চয়ই আমাদের আছে। যদিও উত্তর দেওয়ার দায় কারো নেই!

জলিল ভাই এবং সৈয়দ আশরাফ ভাইকে অনেকটা কাছ থেকেই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। উনাদের আশেপাশে বিদগ্ধ লোকজনকে দেখেছি। কোন নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা, মোটিভেশনাল স্পিকার, খেলোয়াড়, সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের কখনো দেখিনি। আচ্ছা বলেন তো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা এবং মন্ত্রীদের আশেপাশে যেসব লাস্যময়ী এবং হাফ লেডিজদের (আমার শব্দ চয়নের জন্য দুঃখিত) দেখা যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে তাদের অবদান কি? এদের নিজেদের কি এমন ইমেজ, যা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ব্রান্ডিং করবে? বরং আমার তো এটা মনে হয়, এসব পরজীবী আগাছারা শেখ হাসিনার নৌকায় চড়ে নিজেদের জাতে তুলছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাকে এক বেয়াড়া সাংবাদিক একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, আচ্ছা আপনাকে তো কোন দিন কোন দলীয় প্রোগ্রাম বা মিছিল মিটিং এ দেখিনি। সেই কেন্দ্রীয় নেতার উত্তর ছিল, ‘আরে আমার কি নষ্ট করার মতন সময় ছিল নাকি। আমি করতাম সরকারি চাকরি। এখন রিটায়ারমেন্টে গেছি; হাতে অখণ্ড অবসর। তাই ভাবলাম এবার একটু রাজনীতিটা করি।’

দুর্ভাগ্য আমার। আমি এমন অনেক কর্মীকে চিনি যাদের দীর্ঘ ২/৩ যুগের ঘাম শ্রম মিশে আছে এই পার্টিতে। কিন্তু সেইসব কর্মীদের নূন্যতম স্বীকৃতি বা পদ পদবি মেলেনি।

এবার কেন্দ্রীয়ভাবে একটা ঘোষণা দেওয়ার সময় এসেছে বুঝি। কর্মীর ঘাম শ্রম ত্যাগের কোন দরকার নেই আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। দলটা ব্যবসায়ী, আমলা এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের কাছে সাময়িকভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তাই দুর্দিনের কর্মীরা আপাতত দূরে থাকুন। আবার যদি কখনো কোন সংকট আছে, তখন না হয় দলটা করবেন আপনারা। আপনাদের আবেগের জায়গাটা চুরি হয়ে গেছে। হ্যাঁ, আপনারা আপনাদের প্রিয় আপার প্রশ্নে আপোষহীন থাকুন; কিন্তু দলটার কাছে কোন প্রত্যাশা রাখবেন না। ইদানীং খুব অবাক হয়ে ভাবি, রাজনীতি তুমি কার?

লেখক: সম্পাদক, বিবার্তা২৪ ডটনেট

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য