শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৫০

লুকাকুর জীবনের কঠিন যুদ্ধ

লুকাকুর জীবনের  কঠিন যুদ্ধ

সেরা হওয়ার গল্পটি কখনই সহজ হয় না। তবে কারও ক্ষেত্রে গল্পের কাহিনী থাকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। জীবন নামক যুদ্ধ ময়দানে কঠিন যুদ্ধের নায়ক রোমেলু লুকাকু। বেলজিয়াম দলের বিস্ফোরকের নাম এটি। দলকে অনেক কিছু দিলেও নিজের জীবন শুরু হয়েছে একদম নিঃস্ব পরিস্থিতি থেকে। বাবা এতটাই গরিব ছিলেন যে চলার মতো টাকা থাকত না। লুকাকু বলেন, ‘আমরা শুধু গরিব ছিলাম না, ছিলাম নিঃস্ব।’ তারা যে বাসাটায় থাকতেন সেখানে ঠিকঠাক বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতেন না। কারণ তার বাবার কাছে মাস শেষে ইলেক্ট্রিক বিল দেওয়ার টাকা থাকত না। মাকে দেখতেন দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে পরিমাণটা বাড়াতে, যেন আরও দুটা বেলা বেশি খাওয়া যায়।  যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানে ছিল ইঁদুরের উৎপাত। ঠিকঠাক ফুটবল খেলতে পারতেন না। কিন্তু লক্ষ্য ছিল ইস্পাত কঠিন। একদিন বড় হবেন, দুঃখ ঘোচাবেন মায়ের, সচ্ছলতা আনবেন সংসারে। বাবা নিজেও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। তবে, সন্তান আর পরিবারের জন্য সময় দিতে পারেননি ফুটবলকে। বেশ পরে নিজের দেশ কঙ্গো  ছেড়ে বেলজিয়ামে ঘাঁটি গড়ে লুকাকুর পরিবার। আর তাতেই যেন ভাগ্য ফিরতে শুরু করে তাদের। বেলজিয়ামের জার্সিতে কঙ্গোর কালো ছেলেটা এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪০ গোল)। বেনার্ড ভুরহুফের ৩০ গোল ছাড়িয়েছেন সে অনেক আগেই। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দুই গোল দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশি গোল করা বেলজিয়াম ফুটবলার হয়েছেন। অথচ একটা সময় পর্যন্ত কত না অভাবে কেটেছে লুকাকুর। আজ ফুটবলার বাবার স্বপ্ন বাস্তব হলেও লুকাকুর আফসোস ঘোচেনি। তার নানা পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। লুকাকুর আফসোসটাও এখানেই। কারণ নানাকে দেখাতে পারেনি তারা আজ কতটা সুখে আছে। নাতির সফলতায় মেয়ে কতটা সুখে আছে তা জানা হলো না তার। ‘আজ চাইলেও তাকে ফোন করে বলতে পারি না দেখে যাও তোমার মেয়েটা সুখে আছে। আমাদের ঘরে আজ কোনো ইঁদুর নেই। আমরা এখন আর মেঝেতে ঘুমাই না। আমরা খুব ভালো আছি।’


আপনার মন্তব্য