শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২২:২৩

‘স্যুটকেস’ গার্ল থেকে রাজবধূ মেগান

সাইফ ইমন

‘স্যুটকেস’ গার্ল থেকে রাজবধূ মেগান

ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারি প্রেমে পড়েন মার্কিন টিভি সিরিয়াল ‘স্যুইটস’-এর অভিনেত্রী মেগান মারকেলের। তারা প্রেমের শুভ পরিণতি ঘটিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বর্তমানে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মারকেলের রাজপরিবার ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারে তৈরি হয়েছে সংকট। প্রিন্স হ্যারির এই সিদ্ধান্তকে অনেকে তুলনা করছেন অষ্টম এডওয়ার্ডের রাজসিংহাসন ত্যাগের সঙ্গে। গণমাধ্যমে চলছে তীব্র শোরগোল। মেগান মারকেলের জীবনের নানা দিক নিয়ে আজকের রকমারি...

 

রানীকে না জানিয়ে ঘোষণা

আচমকা এই ঘোষণা এসেছে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মারকেলের কাছ থেকে...

প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মারকেল রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে কানাডায় চলে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ব্রিটিশ রাজপরিবার সংকটে পড়ে। যে রকম আচমকা এই ঘোষণা এসেছে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মারকেলের কাছ থেকে তা রীতিমতো হতবাক করে দেয় সবাইকে। রানীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে এখন চলছে তীব্র শোরগোল। প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মারকেল এরই মধ্যে কানাডায় চলে গেছেন। গত ৮ ডিসেম্বর হ্যারি এবং মেগান ঘোষণা করেন, তারা রাজপরিবারের সামনের কাতারের দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে চান। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের সময় ভাগাভাগি করে থাকতে চান। তারা আর্থিকভাবেও স্বাধীন হতে চান, যাতে রাজকোষের অর্থের ওপর তাদের নির্ভর করতে না হয়।

 

রাজকীয় বিয়ে

বিয়ে দেখার জন্য উইন্ডসর ও শহরটির বিভিন্ন জায়গায় বড় স্ক্রিন লাগানো হয়

রাজপরিবারের সদস্য হওয়ায় প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মারকেলের বিয়ের  প্রতি সবারই অনেক কৌতূহল। ২০১৮ সালের মে মাসে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই সরাসরি দেখানো হয়। বিয়ে দেখার জন্য উইন্ডসর ও শহরটির বিভিন্ন জায়গায় বড় স্ক্রিন লাগানো হয়। এ ছাড়া গির্জা ও বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বড় স্ক্রিনে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখানো হয়। পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন বিশ্বখ্যাত টিভি পারসোনালিটি অপেরা ইউনফ্রে। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকাও বিয়ের প্রতি মুহূর্তের আপডেট জানিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। অনলাইন পত্রিকাগুলোতেও বিয়ের অনুষ্ঠান, অতিথি আগমনসহ বিয়ের পুরো আনুষ্ঠানিকতা লাইভ দেখানো হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বরে তাদের বিয়ের ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

বিয়ের আগের প্রেম

হ্যারির আগেও সম্পর্কে ছিলেন মেগান। ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পযন্ত মার্কিন অভিনেতা এবং প্রযোজক ট্রেভর এনগেল্টনের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক চলে। তারা ২০১১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সে বিয়ে টিকেনি তাদের। ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে রাজপুত্র হ্যারির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কে জড়ান।  ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যম। এরপর শুরু হয় নানা জল্পনা- কল্পনা। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাজপরিবারের যোগাযোগ সচিব একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেন। যেখানে ‘অপব্যবহার এবং হয়রানিমূলক সংকেত’ হ্যারির প্রতি উদ্দিষ্ট করে সম্বোধন করা হয়।

 

মেগান চান অর্থনৈতিক মুক্তি

সোভেরেইন গ্র্যান্ট গ্রহণ না করলেও প্রতি মাসে নিরাপত্তা বাবদ ১ লাখ পাউন্ড পাবেন হ্যারি ও মেগান দম্পতি

‘সিনিয়র রয়্যাল’ পদ থেকে সরে যাওয়ায় মেগান-হ্যারি সোভেরেইন গ্র্যান্ট আর গ্রহণ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের জন্য রাজপরিবারের সদস্যদের সোভেরেইন গ্র্যান্ট দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সোভেরেইন গ্র্যান্ট হিসেবে ৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৯১০ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এত সম্পদ আর রাজপরিবারের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে হুট করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কানাডাতে ফিরে গেছেন মেগান-হ্যারি দম্পতি। সেখানেই নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন। বড় পর্দায় হয়তো ফেরা হবে না মেগানের। তবে কানাডার টেলিনাটক স্যুইটস-এর প্রতিটি পর্বে অভিনয়ের জন্য ৫০ হাজার ডলার করে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন মেগান। অভিনয় ছাড়াও ‘প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট’ মর্যাদায় কোনো বড় পদে চাকরি করতে পারেন তারা। শোনা যাচ্ছে এই দম্পতি কোনো একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগের পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়াও বন্ধুদের কাছ থেকে বিলাসবহুল নানা উপহার নিয়মিতই পান তারা। তবে ভবিষ্যৎই জানা যাবে তারা কীভাবে তাদের জীবনটা অতিবাহিত করতে যাচ্ছেন।

 

বেড়ে ওঠা হলিউডে

মারকেলের জন্ম হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের ইভানস্টন শহরে অবস্থিত নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা বিষয়ের ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলা কাটে হলিউডে। মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথমে হলিউড লিটল রেড স্কুল হাউস। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ইমেক্যুলেটহার্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি ২০০৩ সালে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের পাশে অবস্থিত। এর পাঠ্যক্রমের মধ্যে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে শিক্ষানবিস হিসেকে কাজ করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই হিসেবে তিনি সেখানেও কাজ করেছেন।

 

টিভি প্রোগ্রামে ডোনেশনের টাকা তুলতেন

অভিনয়ের জন্য সবার কাছে পরিচিতি পান মেগান। ২০১১ সাল থেকে মারকেল মার্কিন অপরাধমূলক নাট্য ধারাবাহিক স্যুটস্-এ র‌্যাচল জেইন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়াও তিনি কল্পবিজ্ঞান এবং গোয়েন্দা কাহিনীসমৃদ্ধ মার্কিন ধারাবাহিক ফ্রিংগিয়ের বিশেষ গোয়েন্দা অ্যামি জেসাপ ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। টিভি প্রোগ্রামে ডোনেশনের টাকাও তুলেছেন। ২০০২ সালে জেনারেল হসপিটাল, ২০০৪ সালে সেঞ্চুরি সিটি, ২০০৫ সালে কাটস্ কোরি             ‘মাই বয়ফ্রেন্ডস ব্যাক’, ২০০৫ সালে লাভ আইএনসি, ২০০৬ সালে ওয়ান ভার্সেস হানড্রেড, ২০০৬ সালে দ্য ওয়্যার অ্যাট হোম সুসান ইত্যাদি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

 

বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন

২০১৮ সালের মে মাসে ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী হ্যারির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেলিভিশন অভিনেত্রী মেগানের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি মেগানের বাবা টমাস মারকেল। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বাবাকে চিঠি লিখেছিলেন মেগান। চিঠিতে বাবার সঙ্গে মেগানের সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়টি ছিল। এবার জানা গেছে, ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মারকেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন তারই বাবা টমাস মারকেল। বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে সম্প্রতি।

 

 

 

  


আপনার মন্তব্য