Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫২
পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে দেবে মেগাসুনামি
তানভীর আহমেদ
পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে দেবে মেগাসুনামি

২৪ মাত্রার ভূমিকম্প? শুনে অবাক হলেও বিজ্ঞানীরা কিন্তু ঠিকই ভাবছেন— ২৪ মাত্রার ভূমিকম্প হলে কী হবে পৃথিবীর? পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে দেওয়া সেই দুর্যোগের আশঙ্কা করে আসছেন বহু গবেষক। এ নিয়ে বিস্তর কাজ চলছে। এ ধরনের সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে ভূমিকম্পই শেষ কথা নয়। ভূমিকম্পের পরপরই আঘাত হানতে পারে সুনামি। ১২ বা তারও বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে সুনামি রূপ নিতে পারে প্রলয়ঙ্করী মেগাসুনামিতে। সাধারণত ধরা হয়, সুনামিতে সমুদ্র ফুলেফেঁপে আসতে পারে বড়জোর ৩০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত। অবশ্য মেগাসুনামির কবলে পড়া পৃথিবীর ইতিহাস কিন্তু বলছে ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচু সমুদ্র জলরাশি গ্রাস করে নিয়েছিল সমুদ্র উপকূল। এর আগে গত দেড়শ বছরে ১০০ ফুটের ওপর আরও তিনটি সুনামি তার তাণ্ডব দেখিয়েছে। ১৮৫৪ সালের সুনামির উচ্চতা ছিল ৩৯৫ ফুট, ১৮৯৯ সালে ২০০ ফুট এবং ১৯৩৬ সালে ৪৯০ ফুট। সুনামির দৈর্ঘ্য কখনো কখনো ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সুনামির জন্মভূমি বলা যায় প্রশান্ত মহাসাগরকে। পৃথিবীতে সংঘটিত মোট সুনামির ৮০ শতাংশ ঘটে এখানে।

১৯৫৮ সালের পর বেশ কয়েকটি ভয়ঙ্কর সুনামি ঘটলেও মেগাসুনামি এখনো আতঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। তবে দিন যত ঘনাচ্ছে মেগাসুনামির আশঙ্কা ততই বাড়ছে। সেই আশঙ্কার কথা নতুন করে জানিয়েছেন মেহরান খোশে। এই ইরানি বংশোদ্ভূত পরমাণু ইঞ্জিনিয়ারের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মাঝে মধ্যে ৬-৮ মাত্রার যে ভূমিকম্প হচ্ছে, তা মেগা ভূমিকম্পের পূর্ব সংকেত। ভবিষ্যতে এই ভূমিকম্প আরও বড় মাত্রায় আঘাত হেনে তছনছ করে দিতে পারে আমাদের সাজানো শহর-নগর। আর মেগা ভূমিকম্প মানেই মেগাসুনামি।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোথায় মেগাসুনামি আঘাত হানতে পারে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকাতেই এই মহাদুর্যোগের সূত্রপাত হতে পারে। ভূমিকম্পের মাত্রা হতে পারে ১০ থেকে ১৬। কিন্তু এ আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কোনো কোনো অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ২৪ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ ধরনের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে ২ থেকে ৪ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে। আর ভূমিকম্পের সঙ্গে সমুদ্র থেকে উঠে আসা মেগাসুনামি ধ্বংসলীলার ভয়ঙ্কর রূপ দেখাতে পারে। এ ধরনের মেগাসুনামির কারণে চীনও বাঁচবে না। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাপানও। যারা এই পরমাণু ইঞ্জিনিয়ারের কথায় কান দিতে নারাজ তাদের স্বস্তিতে থাকার জো নেই। কারণ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ৭৩ হাজার বছর আগে আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত কেপ ভার্দে দ্বীপের ফোগো নামক আগ্নেয়গিরির গা থেকে বিশাল একটা অংশ সমুদ্রে খসে পড়ায় বিশাল এক সুনামির সৃষ্টি হয়। এই সুনামি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ছোটখাটো একটা পাহাড়কেও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা ছিল এটির। আর সেটারই প্রমাণ মিলেছে ২০০৭ সালে। সান্তিয়াগোতে একটি বিশাল আকৃতির পাথরের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা শেষে ধারণা করা হচ্ছে, পাথরটি তার মূল অবস্থান থেকে কমপক্ষে ৮০০ ফুট উপরে উঠে এসেছে। আর একমাত্র মেগাসুনামির পক্ষেই এমনটা ঘটানো সম্ভব।

 

মেগাসুনামি ফ্যাক্টস

>> ১৮৮৩ সালের পর ১৯৫৮ সালে সর্বশেষ মেগাসুনামি ঘটেছে।

>> ১৯৫৮ সালের ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আলস্কার লিটুয়া উপসাগরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে মেগাসুনামির সৃষ্টি হয়। এ সুনামিতে উপসাগরে  ঢেউয়ের উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১,৭২০ ফুট। এটিই সর্বোচ্চ ঢেউয়ের রেকর্ড।

>> মেগাসুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ১০০ ফুট থেকে ৫০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

>> সুনামিতে ঢেউয়ের তোড় ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত ভিতরে দিকে ছুটে আসতে পারে। মেগাসুনামির ক্ষেত্রে এটি গোটা দ্বীপ বা ছোট দেশ চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

>> সুনামিতে ঢেউ আসতে দেখে দৌড়ে পালানো একেবারেই অসম্ভব।

>> ২০৫২ সালের মধ্যেই পৃথিবী মেগাসুনামির কবলে পড়তে পারে— এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের মেগাসুনামিতে অন্তত ৪ কোটি থেকে ৪০ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow