Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:০৬
মহাকাশে অবাক জীবন
সাইফ ইমন
মহাকাশে অবাক জীবন

মহাকাশযানে অভিকর্ষ বল হয় শূন্য। তাই পৃথিবীতে আমরা যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারি, মহাকাশচারীরা ততটা করতে পারেন না।

তবে তারা আমাদের মতোই সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা-আনন্দে মেতে উঠেন। তারা অবসর সময় কাটান গান শুনে, সিনেমা দেখে, কার্ড-দাবা খেলে কিংবা বই পড়ে। পৃথিবীকে ৪৫ মিনিট পর পর ঘুরে আসে বলে সেখানকার মহাকাশচারীরা ২৪ ঘণ্টায় ১৬টি সূর্যাস্ত দেখেন! আজকের রকমারিতে থাকছে মহাকাশচারীরা কীভাবে কাজ করেন, কী ব্যবহার করেন এবং কীভাবে জীবনযাপন করেন ইত্যাদি।

 

মূত্র থেকে

তৈরি পানি

মূত্র থেকে তৈরি পানি দিয়েই মহাকাশে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন মহাকাশচারীরা। বিশুদ্ধ পানি মহাকাশে নিয়ে যাওয়াটা খুবই খরচের ব্যাপার। এক লিটার পানি মহাকাশযানে নিয়ে যাওয়ার খরচ হয় ৪৮ হাজার ডলার! তাই মহাকাশচারীদের মূত্র থেকেই আবার তাদের পানের জন্য পানি তৈরি করা হয় রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায়। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা এর চেয়েও দূরে মহাকাশযাত্রার জন্য জরুরি অনুষঙ্গ হলো পোর্টেবল ড্রিঙ্কিং ওয়াটার। স্মিথসোনিয়ান চ্যানেলে প্রকাশিত এক ডকুমেন্টারি, আমেরিকাস সিক্রেট স্পেস হিরোজ থেকে জানা যায়, নাসার গবেষকরা মূত্র নিয়ে অনেকদিন গবেষণা করেন এবং এমন একটি শোধনযন্ত্র তৈরি করেন যার মাধ্যমে মহাকাশচারীর মূত্রকে পানিতে পরিণত করা যায়। মহাকাশযানের কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে এই যন্ত্র বা ডিস্টিলারি কাজ করে।

ঘূর্ণনরত সন্ট্রিফিউজের কারণে মূত্র যন্ত্রটির পেছনের দেয়ালে ছিটকে পড়ে। ভারী তরল আটকে থাকে দেয়ালে এবং হালকা তরল বাষ্প হয়ে যায়। সেই বাষ্প যন্ত্রের পরের অংশে চলে যায় এবং সেই তরল থেকে আরও বিস্তারিত ছাঁকন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাকাশচারীদের জন্য পানি তৈরি হয়।

 

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে

টয়লেট ব্যবস্থা

প্রাকৃতিক কাজ নিয়ে আমাদের সবার মাথায় প্রায় একই প্রশ্নই আসে, মহাকাশচারীদের টয়লেট ব্যস্থা কি জিরো গ্র্যাভিটিতে?

মহাকাশচারীরা ভরশূন্য পরিবেশে নিশ্চয়ই আমাদের মতো সহজ স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক কাজ সারতে পারেন না। মহাকাশযানের ভরশূন্য পরিবেশের কারণে বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হয়। একে বলে ‘স্পেস টয়লেট’ বা ‘জিরো গ্র্যাভিটি টয়লেট’। পৃথিবীতে অভিকর্ষ বল কাজ করে, তাই আমরা বর্জ্য শরীর থেকে বের করে দিলেই তা নিচে চলে যায়। কিন্তু মহাকাশে জিরো গ্র্যাভিটির জন্য এক ধরনের ফ্যানযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার টাইপের কমোড ব্যবহার করা হয়। এতে বায়ু প্রবাহের বাধ্যমে দূষিত বায়ু, কঠিন ও তরল বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আমরা যেমন একই কমোডে মল-মূত্র ত্যাগ করি তেমনি মহাকাশচারীদের ব্যবস্থা কিন্তু সে রকম নয়। তারা মূত্রত্যাগ করে আলাদা ভ্যাকুয়াম টিউবে। মেয়েরা চাইলে সেটা মূত্রদ্বারেই লাগিয়ে নিতে পারেন। আর পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য। এসব বর্জ্য রিসাইকেল প্রক্রিয়ায় পুনরায় ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোতে দেখা যায় এসব বর্জ্য দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়।

 

কেন ভরশূন্য মহাকাশযান?

মহাকাশযান সবসময় ভরশূন্য হয়। এর কারণ অনেকেই ধারণা করেন পৃথিবী থেকে দূরে যাওয়ার ফলে মহাকর্ষ বল কমতে কমতে শূন্য হয়ে যায়। আদতে ঘটনা ভিন্ন। নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র বলছে মহাকর্ষ বল দূরত্বের বর্গের অনুপাতে কমে, অর্থাৎ দ্বিগুণ দূরত্বে সরে গেলে বল কমবে চারগুণ, চারগুণ দূরত্বে সরে গেলে কমবে ষোলো গুণ। কাজেই আমরা একটা মহাকাশযানে মাধ্যাকর্ষণ বল কতটুকু হবে তা সহজেই অনুমান করতে পারি। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠের দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। ধরা যাক পৃথিবীকে ঘিরে একটি মহাকাশ স্টেশন ঘুরছে এবং মহাকাশচারীরা একেবারে ভরশূন্য বসবাস করছে। যদি এই মহাকাশ স্টেশনটির উচ্চতা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক চারশ কিলোমিটার হয়। তবে তার মাধ্যাকর্ষণ বল সহজেই বের করতে পারি। মাধ্যাকর্ষণ বল যদি দূরত্বের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে কমত তাহলে ওজন কমত মাত্র সাত শতাংশ। কিন্তু যেহেতু এটি দূরত্বের সঙ্গে বর্গের হারে কমে তাই ওজন কমে প্রায় চৌদ্দ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষ যদি মহাকাশ স্টেশনের সমান উচ্চতায় হাজির হয় তাহলে তার ওজন মাত্র ৭ কেজি কমে হবে ৫৩ কেজির কাছাকাছি! ৬০ কেজি ওজনের মানুষের যদি নিজেকে ৫৩ কেজি মনে হয় এটি মোটেও ভরশূন্য নয়। কাজেই মহাকাশযানে মহাকাশচারীরা যে ভরশূন্য পরিবেশ অনুভব করেন সেটি অবশ্যই উচ্চতার কারণে নয়, এখানে অন্য ব্যাপার আছে। সেটি ব্যাখ্যা করতে খুব সহজ একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। উঁচু বিল্ডিং থেকে লিফটে নামার সময় ঠিক শুরুতে আমরা এক মুহূর্তের জন্য একটুখানি হালকা অনুভব করি। এটা নিশ্চয়ই অনেকে লক্ষ্য করেছেন। আবার নাগরদোলা নিচে নামার সময় সেটি আরও অনেক তীব্রভাবে অনুভব করা যায়। এটি কিন্তু শুধু কাল্পনিক অনুভব নয়, তখন আমরা সত্যি সত্যি হালকা হয়ে যাই। যদি কল্পনা করি লিফটের দড়ি ছিঁড়ে পুরো লিফটটা একেবারে মুক্তভাবে নিচে পড়তে পারত তাহলে সেই সময়টুকু আমরা পুরোপুরি হালকা কিংবা ভরশূন্য হয়ে যেতাম। মহাকাশযানে মহাকাশযাত্রীরা যখন ভরশূন্য পরিবেশে এক গ্লাস পানি ঢালেন সেই পানি নিচে না পড়ে তাদের সামনে ভাসতে থাকে কিংবা ঝুলতে থাকে। মুক্তভাবে পড়তে থাকা একটা লিফটের ভিতরে যদি এক গ্লাস পানি ঢেলে দিই তাহলে আমরা হুবহু একই ব্যাপার দেখব। পানিটা নিচে না পড়ে আমাদের সামনে ভেসে আছে।

কারণ আসলে আমরা যে বেগে নিচে পড়ছি পানিটাও সেই একই বেগে নিচে পড়ছে। কাজেই আমাদের তুলনায় সেটা স্থির। লিফটের দড়ি ছিঁড়ে মুক্তভাবে পড়তে দিয়ে তার ভিতরে ভরশূন্য পরিবেশ তৈরি করার আইডিয়াটা যত সহজই হোক না কেন, সেটা তো কেউ কখনো চেষ্টা করে দেখেনি। কিন্তু মহাকাশচারীরা এই অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়েই যায়।  

 

দাঁত ব্রাশ করা

দাঁত ব্রাশ প্রতিদিনের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য মহাকাশচারীরা যে কোনো ধরনের এবং পছন্দের ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। অন্য বিষয়গুলোর মতো এক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। তবে নিয়ম আছে খুব সীমিত পরিমাণে টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত টুথপেস্ট ফেনার সৃষ্টি করে যা দাঁত ব্রাশ করার সময় মুখের ভিতরে জমা হয়ে থাকে। এটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। আর একটা কারণ হলো দাঁত ব্রাশের পর কুলকুচি করেন না তারা। ভেজা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন।

 

বেঁধে ঘুমায়

মহাকাশ স্টেশনে যারা অবস্থান করেন সেখানের ভরশূন্য পরিবেশে তারা ঘুমানোর সময় নিজেদের স্লিপিং ব্যাগের সঙ্গে বেঁধে নেন। মহাকাশচারীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ঘুমানো বাধ্যতামূলক। মহাকাশে দিনরাত বলে কিছুই নেই, তাহলে তাদের ঘুমানোর উপায় কী। আসলে সবারই ঘুমানোর একটা নির্দিষ্ট সময় বাঁধা থাকে। ঘুম থেকে উঠার সময় হলে অটোমেটিক অ্যালার্ম বাজে। অনেকেই মহাকাশে থাকার উত্তেজনাবশত এবং মহাকাশযানের ঘূর্ণনের কারণে দুঃস্বপ্ন দেখেন, কেউবা নাক ডাকেন বলেও জানা যায়।

 

পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী

পানির অপর নাম জীবন। মহাকাশ স্টেশনগুলোতে একসঙ্গে কয়েকজন মহাকাশচারী কাজ করেন বিধায় তাদের নিজস্ব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই দরকার। এই জন্য প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত পানির। স্পেস স্টেশনগুলোতে মহাকাশচারীদের ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দেওয়া হয়। বিশেষ এক ধরনের পানির ব্যাগ তারা ব্যবহার করেন। এই ব্যাগের গায়ে চাপ দিলে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি বের হয়। যার পরিমাণটা থাকে খুবই সীমিত যাতে অতিরিক্ত পানি নষ্ট না হয়। যেহেতু পুরো মহাকাশযান কিংবা স্পেস স্টেশনে নানারকম বৈদ্যুতিক তার এবং যন্ত্র থাকে। তাই এই অতিরিক্ত পানির ফোঁটা সে সব যন্ত্রে বা তারে লেগে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আচ্ছা, এত কিছুর পরেও একটি বিষয় কিন্তু থেকেই যায়। আর তা হলো পানি কি কখনো হিসাব করে খরচ করা যায়! একেকজনের চাহিদাওতো একেক রকম।

 

মহাকাশে চুলের যত্নে শ্যাম্পু

মহাকাশচারীদের দিনের পর দিন নাওয়া-খাওয়া সবই যদি ভাসতে ভাসতে করতে হয়, নিশ্চয়ই তা খুব সুখকর কিছু নয়। তেমনি মহাকাশে যারা যান তাদের নিজেদের যত্নও নিশ্চয়ই নিতে হয়। এখন কেউ যদি চুলে শ্যাম্পু করতে যান তখন কীভাবে তা করেন।

কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যারা কাজ করেন, মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় পৃথিবীর অনেক সহজ কাজও তাদের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। কঠিন কাজ সহজ করে নিতে তারাও আবিষ্কার করছেন নতুন নতুন পদ্ধতি।   মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় অন্য সবকিছুর মতো চুলও মাথা ছেড়ে ওপরের দিকে চলে যেতে চায়। তাই আর সব কাজের মতো, শ্যাম্পু করাতেও নিতে হয় বিশেষ ব্যবস্থা? ভাসমান অবস্থায় চুল  ধোয়ার জন্য প্রয়োজন নো-রিন্স শ্যাম্পু এবং গরম পানি, চিরুনি এবং তোয়ালে। প্রথমে প্যাকেট করা গরম পানি দিয়ে মাথা ভেজাতে হয়। কিন্তু প্যাকেট থেকে পানি বের হতেই তা মাথায় না গিয়ে ভাসতে ভাসতে চারপাশে সরে  যেতে থাকে। ফলে ভাসমান পানির কণাকে মাথার চুলে নিয়ে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়। সেই অল্প পানিই ভালো করে চুলে মাখিয়ে নিতে হয়। দ্বিতীয় ধাপে শ্যাম্পু নিয়ে একইভাবে চুলে লাগাতে হয়। যেহেতু স্পেস স্টেশনে শাওয়ার নেওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাই চুলের ময়লা মুছে ফেলতে হয় তোয়ালে দিয়ে। তারপর আবার একটু পানি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিলেই শেষ। তবে মহাশূন্যে চাইলেই অঢেল জিনিসপত্র পাওয়া যায় না। যে অল্প পরিমাণ পানি চুল ধোয়ার কাজে লাগল, সেটিও বাষ্প হওয়ার পর প্রক্রিয়াজাত হয়ে পরিণত হবে আবারও ব্যবহারযোগ্য পানিতে।

 

স্পেস ওয়াক ও অন্যান্য

খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো আর বাকি সব প্রাত্যহিক কাজের পাশাপাশি মহাকাশচারীরা কিন্তু প্রচুর কাজ করে করেন। কিন্তু মহাকাশচারীরা স্পেস স্টেশন কিংবা মহাকাশযানে কীভাবে কী কাজ করেন তা জনার আগ্রহ সবারই। মহাকাশচারীরা গবেষণার পাশাপাশি অধিকাংশ সময় যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা কিংবা স্পেস স্টেশনের বাইরে যে কোনো ধরনের কাজ করে থাকেন। স্টেশনের বাইরের অংশে গেলে ক্রুকে ঝঢ়ধপব ডধষশ করতে হয় প্রায় ৭ ঘণ্টা। প্রত্যেক ক্রুকে নিয়মিত আপডেট পাঠাতে হয় পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। অপরদিকে মহাকাশে নানা ধরনের গবেষণা করা হয়। যেমন : শূন্য অভিকর্ষ বলে মানবদেহ কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে সেখানে টিকে থাকা যায়, নতুন প্রাণের অস্তিত্ব ইত্যাদি। এই সংক্রান্ত আরও অনেক গবেষণাই স্পেস স্টেশনে চলমান রয়েছে।   প্রত্যেক মহাকাশচারীকে নিয়মিত তার কাজের আপডেট কিংবা ভিডিও ইন্টারভিউ দিতে হয়।

 

মহাকাশের খাওয়া-দাওয়া

মহাকাশে খাওয়া-দাওয়ার নিয়মও কিন্তু আলাদা। মহাকাশচারীরা আমাদের মতো তিন বেলা খাবার খান। তবে তাদের ক্ষেত্রে ক্যালরি হিসাব করে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কারণ খাবার-দাবার খুবই সীমিত। তাই একজন মহাকাশচারীর জন্য দৈনিক যতটুকু ক্যালরি প্রয়োজন সেটি হিসাব করে ঠিক ততটুকু ক্যালরিই গ্রহণ করে একজন মহাকাশচারী। যেমন : একজন মোটা মানুষের প্রায় ৩,২০০ ক্যালরি খাবার লাগে আর একজন পাতলা মানুষের লাগে ১৮০০ ক্যালরি। মহাকাশচারীরা চাহিদামতো খাবার পছন্দ করে খেতে পারেন। যেমন : ফলমূল, মুরগি বা গরুর মাংস, চকোলেট, বাদাম-বাটার ইত্যাদি। মহাকাশযান কিংবা স্টেশনে কোনো রেফ্রিজারেটর দেওয়া হয় না। সুতরাং খাবার যা রাখার তা শুকনা করেই সংরক্ষণ করতে হয়। তারা চাইলে খাবার গরম করে কিংবা সেদ্ধ করেও  খেতে পারেন। মহাকাশযানের মাইক্রোওয়েভে মহাকাশচারীরা খাবার গরম করে খেতে পারেন। আর লবণ আর মরিচ তরল রূপে থাকে।

 

ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশে মহাকাশচারীদের জন্য। আমরা যারা পৃথিবীতে অর্থাৎ অভিকর্ষের মাঝে বাস করি বলে আমাদের দেহে ৩ ধরনের পেশি অভিকর্ষের বিপরীতে কাজ করে। এদেরকে বিজ্ঞান বলে অ্যান্টি গ্র্যাভিটি পেশি। এই অ্যান্টি গ্র্যাভিটি পেশিগুলো হলো মেরুদণ্ডের পেশি, উরুর সামনের পেশি এবং হাঁটুর পেছনের পেশি। পৃথিবীতে চলাফেরা করতে এই পেশিগুলো খুব সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মহাকাশে জিরো গ্র্যাভিটিতে চলাফেরায় এই পেশিগুলোর ব্যবহার করা হয় না বললেই চলে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম না করলে এই পেশিগুলো ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একে মাসল অ্যাট্রফি (Muscle Atrophy) বলে। ফলে মহাকাশচারীরা যখন পৃথিবীতে ফিরে আসেন তখন অভিকর্ষের কারণে প্রচণ্ড পেশির টান অনুভব করেন। তাই নিয়ম করে মহাকাশচারীদের দৈনিক প্রায় ২.৫ ঘণ্টা সময় ব্যায়াম করতে হয়। নইলে পৃথিবীতে এলে নানা শারীরিক উপসর্গও দেখা দেয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow