বুকভরা সাহস আর হাজারো স্বপ্ন নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আসেন দেশসেরা মেধাবীরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়তে এসে প্রথমেই অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হন। বর্তমানে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে টিউশনি পাওয়া। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীর জন্য টিউশনি পাওয়াটা বেশি কঠিন।
টাকার অভাবে কী করে পড়াশোনা করবেন ভেবে দিশাহারা হন দরিদ্র মেধাবীদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তাস্বপ্ন দেখা তরুণরা। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা হাজারো তরুণের ভরসা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় মেধাবী অথচ অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ তৈরি করছে নতুন ইতিহাস। বসুন্ধরা শুভসংঘ দরিদ্র মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য প্রয়াস, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হয়ে দেশ গঠনের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে তরুণদের।
বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃত্তি পেয়ে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া হাজারো তরুণ এখন নিজেকে সৃষ্টিশীল করে তুলতে ব্যস্ত। তাঁরা জানিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তাপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন নাহার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন জাকারিয়া জামান।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের সপ্তম পর্ব ছাপা হলো আজ
গণিত বিভাগ
আমার জীবনের পথচলা শুরু থেকেই খুব কঠিন ছিল। বাবা ছিলেন পেশায় ড্রাইভার। আমরা চার ভাই-বোন। বড় আপুর বিয়ে হয়ে যায়, যখন আমি মাত্র তিন মাসের শিশু। আমার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ ছিল সংগ্রামের। কখনো পাঁচ টাকা বাঁচাতে হেঁটে ২৫ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিয়েছি।
ইন্টারমিডিয়েটে থাকাকালে মেজো আপু একটি টিউশনির পুরো টাকাই আমাকে দিতেন, যেন আমি আমার গৃহশিক্ষকের বেতন দিতে পারি। ভাইয়া তখন ঢাকায় থেকে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন, মাঝে মাঝে আমাকে যা পারতেন সহায়তা করতেন। সংসার চলত বাবার অল্প আয়ে। ২০২২ সালে হঠাৎ করে বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ডাক্তার সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেন। ভাইয়া পড়া ছেড়ে গ্রামে এসে একটি বেসরকারি চাকরি নেন এবং সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ভাইয়ার বিয়ের পর জানতে পারি, ভাবি থ্যালাসেমিয়া মাইনর পজিটিভ। বাবার ওষুধের টাকা, ভাবির ট্রিটমেন্ট—সবকিছু মিলে অনেক খারাপ অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে। অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিটি পদক্ষেপ হিসাব করে ফেলতে হতো। ফ্রেন্ডদের সঙ্গে কখনো বাইরে বসে এক কাপ চাও খাওয়া হয়নি। ভাইয়ার কাছ থেকে ১০ দিন পর পর ৫০০ টাকা নিতাম। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারতাম না এটি ভেবে যে ভাইয়ার কাছে টাকা চাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ভাইয়াকে কখনো বুঝতে দিতাম না, আমি আসলে কেমন করে চলতাম। তখনই আমার জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আলহামদুলিল্লাহ, আমি বিশ্বাস করি এটি দোয়ার ফল। বসুন্ধরা শুধু আমাকে বৃত্তি দেয়নি, দিয়েছে মানসিক প্রশান্তি, ভালোবাসা ও আশার আলো। এখন আমি আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। টাকা নিয়ে আর টেনশন করতে হয় না। বসুন্ধরা সেই টেনশন নিয়ে নিয়েছে। আজ আমি শুধু একজন শিক্ষার্থী নই, শুভসংঘের একজন গর্বিত সদস্য। আগে শুধু নিজের জীবনে আলো চেয়েছি। এখন সেই আলো ছড়িয়ে দিতে চাই অন্যদের মাঝে। ইনশাআল্লাহ, আমি পারব। বসুন্ধরা শুভসংঘকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখব। তারা যেমন আমার জীবনে আলো এনেছে, তেমনি আমিও সমাজের প্রতিটি কোণে সেই আলো পৌঁছে দিতে চাই। বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘ আমার জীবনের একটি ভালোবাসার অধ্যায়, একটি আশার নাম। আমি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।
সংগীত বিভাগ
বাবা দীর্ঘদিন হৃদরোগে আক্রান্ত থাকার কারণে বর্তমানে কোনো ধরনের ভারী কাজ করতে পারেন না। আমরা তিন ভাই-বোন। ভাই এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এবং বোন ক্লাস সেভেনে পড়াশোনা করছে। ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ এবং অন্যান্য খরচসহ আমাদের পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো বাবার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। ঢাকায় এসে আমিও প্রথম বর্ষে টিউশনি পাচ্ছিলাম না। আর সংগীত বিভাগ ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ার কারণে টিউশনি পাওয়া আরো কঠিনতর হয়ে পড়েছিল। কিভাবে যে দিনগুলো পার করেছিলাম! প্রায়ই টাকা বাঁচানোর জন্য এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থেকেছি। একদিকে আমার খরচ, অন্যদিকে ভাই সায়েন্সে পড়ার কারণে তার পেছনে খরচ। আবার বোনটার পড়াশোনার খরচ চালানো পাহাড় সমান চাপ হয়ে পড়েছিল বাবার ওপর। আমি না পারতাম কিছু বলতে, না পারতাম সইতে। বাবার কাছ থেকে কোনোভাবেই টাকা চাইতে পারছিলাম না। কিছু জমানো টাকা দিয়েই চলছিলাম খুব কষ্টে। প্রথম বর্ষে বড্ড কষ্টে মাসের পর মাস চালাতে হয়েছিল। দ্বিতীয় বর্ষে হঠাৎ একদিন হলের এক ফ্রেন্ডের মাধ্যমে বসুন্ধরা শুভসংঘের কথা জানতে পারি। আমার সমস্যার কথাগুলো লিখে ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি। ভগবানের কৃপায় এবং বসুন্ধরা গ্রুপের শুভ উদ্যোগের কারণে আজ আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। বাবার ওপর থেকে অনেকটা চাপ কমাতে পেরেছি। কী পরিমাণ উপকার যে হয়েছে, আমি তা ভাষায় হয়তো বলে বোঝাতে পারব না। আমি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের মহৎ উদ্যোগের কারণে আমার মতো হাজার হাজার অসহায় শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। বসুন্ধরার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।
আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ
বাসভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে হেঁটে পথ চলেছি। হলের ক্যান্টিন থেকে শুধু পাঁচ টাকার ভাত খেয়ে থেকেছি, সঙ্গে হলের ফ্রি ডাল। কখনো বা ডাল না পেলে লবণ আর পানি দিয়ে ভাত খেয়ে নিয়েছি।
আমার বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। অনেক সংগ্রাম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। তারপর শুরু হলো আমার নতুন সংগ্রাম, কিভাবে টিকে থাকা যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাসভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে হেঁটে পথ চলেছি। হলের ক্যান্টিন থেকে শুধু পাঁচ টাকার ভাত খেয়ে থেকেছি, সঙ্গে হলের ফ্রি ডাল। কখনো বা ডাল না পেলে লবণ আর পানি দিয়ে ভাত খেয়ে নিয়েছি। অনেকের কাছ থেকে টাকা ধার করে চলেছি। আব্বা জিজ্ঞেস করতেন, ‘ও ঝি (মেয়ে), টাকা-পয়সা আছেনি?’ আমি বলতাম, ‘আছে আব্বা, আছে। তোমরা কোনো টেনশন কোরো না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি জমা দিতে হবে। প্রায় ১২ হাজার টাকা! এত টাকা আমি কই পাব, কিভাবে পাব? নানা দুশ্চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। আল্লাহকে ডাকছিলাম, আল্লাহ, একটা ব্যবস্থা করে দিন। চেষ্টা করছিলাম কোনো বৃত্তির ব্যবস্থা করা যায় কি না। বসুন্ধরা শুভসংঘের কথা জানতে পারলাম। মিলন স্যার বরাবর সব জানিয়ে আবেদন করলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়ায়। এর পর থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার ৬০ টাকা করে বৃত্তি পাই আমি। এই টাকা দিয়ে এখন আমি অনেক ভালোভাবে চলতে পারি। পড়াশোনা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে না। বাবাকেও আর মিথ্যা বলতে হচ্ছে না। তাঁকে বলতে পারি, আমি ভালো আছি, আব্বা। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার কাছে একটি ভরসার নাম। অনেক দোয়া করি বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের জন্য। তারা আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীর বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের চলার পথ সুগম করেছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ অসহায় মানুষের আশার প্রতীক।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জীবনে কখনো কখনো এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা মানুষের পথচলাকে আমূল বদলে দেয়। আমার জীবনে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি তেমনই একটি মোড় পরিবর্তনের গল্প। খুবই সাধারণ পরিবারের মেয়ে আমি। জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রামের সঙ্গে পথচলা। আমাদের পরিবার চার সদস্যের। বাবা কৃষক, যাঁর মাসিক আয় খুব সীমিত। মা গৃহিণী, বাড়ির সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বাবার সামান্য আয় দিয়েই আমাদের পরিবারের খরচ, ভাই-বোনদের পড়াশোনা এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হতো। এর মধ্যে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম, তখন তা ছিল আমাদের পরিবারের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি এক বিশাল চ্যালেঞ্জও। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শামসুন নাহার হলে উঠি। প্রথম থেকেই টাকার অভাবে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিছুদিন পর পর টিউশনির খোঁজে দৌড়াতে হতো। এ জন্য নিজের পড়াশোনায় ঠিকমতো সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ঠিক এই সময়েই বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি আমার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে। এই বৃত্তি পাওয়ার পর আমার জীবনে বাস্তবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন অন্তত মাসের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় না। প্রয়োজনীয় বই কেনা, মোবাইল রিচার্জ, প্রিন্ট-ফটোকপি, ক্লাসের প্রজেক্ট—সবকিছুতে এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে এগোতে পারি। সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটা এসেছে তা হলো, আমার মন থেকে অনিশ্চয়তা আর ভয় দূর হয়েছে। আমি এখন পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগ দিতে পারছি, স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছি। শুভসংঘ শুধু টাকা দেয়নি, দিয়েছে সম্মান, ভালোবাসা, আর এক ধরনের মানবিক বন্ধন, যা একজন শিক্ষার্থীর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। এই বৃত্তি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, সমাজে এখনো এমন মানুষ আছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে অন্যের পাশে দাঁড়ান, স্বপ্নপূরণে সহায়তা করেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু আমার জীবন বদলায়নি, আমার মতো অনেক অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে নতুন সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। এই সহানুভূতিশীল উদ্যোগের প্রতি আমি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে শিক্ষা ও কর্মজীবনের মাধ্যমে নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন আমিও কারো পাশে দাঁড়াতে পারি।
সংস্কৃত বিভাগ
বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার জীবনে আশীর্বাদ। হৃদয়ের গভীর থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার জীবনে বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি অনুপ্রেরণার অধ্যায়, যা আমাকে প্রতিনিয়ত সাহস দিয়ে চলেছে। হাজার মানুষের স্বপ্নপূরণের সারথি বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে মাসিক বৃত্তির মাধ্যমে আমাদের যে সহায়তা করা হচ্ছে, এটি কেবল আর্থিক নয়, স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি বলা যায়। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই, তখন আমার পরিবারসহ আমি অনেক আনন্দিত হয়েছিলাম, পাশাপাশি ঢাকায় এসে টিকে থাকার ভয় ছিল। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার ভয়কে দূরে সরিয়ে শক্তি হয়ে আবির্ভূত হয়। ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বসুন্ধরা শুভসংঘ পাশে থাকায় আমি দুশ্চিন্তা থেকে বের হয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি। শুধু আমার স্বপ্নই না, দেশের শত সহস্র অসহায় অবহেলিত নারী-পুরুষের স্বপ্নপূরণে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পথশিশুদের কাছে টেনে তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। লাখো মানুষের স্বপ্নপূরণের জীবন্ত সাক্ষী বসুন্ধরা শুভসংঘ। মানুষের হারিয়ে যাওয়া সুখ ও মুখের হাসি ফিরিয়ে দিতে সারা দেশে কাজ করে তারা। অসহায় মানুষের পাশে বটের ছায়ার মতো দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমিও জীবনে বড় মানুষ হয়ে এভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এভাবে মানুষ মানুষের পাশে থাকলে পৃথিবী হয়ে উঠবে আনন্দময়। বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য অনেক দোয়া ও শুভ কামনা। এভাবেই তারা মানুষের পাশে থাকুক, মানুষের হারিয়ে যাওয়া হাসিগুলো ফিরিয়ে আনুক। বসুন্ধরা শুভসংঘের একজন সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত।
দর্শন বিভাগ
বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু একটি সংগঠন নয়, আমার জীবনের জন্য একটি বড় নিয়ামত। আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ছয় ভাই-বোনসহ ৯ জনের একটি বড় পরিবার আমাদের। বাবা খুবই অসুুুস্থ হওয়ায় শেষ বয়সসীমা পর্যন্ত চাকরি করতে পারেননি। নির্দিষ্ট সময়ের ছয় বছর আগে অবসরগ্রহণ করেছেন। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। হার্টের অসুখে ভুগছেন। কোনো ধরনের কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র ১১ হাজার টাকা মাসে পেনশন পান বাবা। তাঁর প্রতি মাসে ওষুধের খরচ অনেক। আবার ৯ জনের একটি বড় পরিবার চালানো। তাঁর সীমিত পেনশনের টাকা দিয়ে এটি প্রায় অসম্ভব। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া, প্রতি মাসের খরচ এবং বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায় আমাদের। আমার খরচ চালাতে বাবাকে খুব হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমানে আমি বসুন্ধরা শুভসংঘ থেকে যে বৃত্তির টাকা পাই, তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়াশোনা ও ভরণ-পোষণের খরচ চালাতে পারছি। এই বৃত্তিটা যদি না পেতাম, আমার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর হতো। প্রথম বর্ষে পড়াশোনার খরচ নিয়ে অনেক টেনশনে থাকায় ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। পড়াশোনা ভালোভাবে করতে পারছিলাম না। বর্তমানে বসুন্ধরার বৃত্তি পাওয়ায় আমাকে আর খরচ নিয়ে টেনশন করতে হচ্ছে না। আমার জীবনে সমস্যা সমাধানের একটি বড় উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমার পড়ালেখা বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারছি। আমার জীবনের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিয়ামত।
ছাপচিত্র বিভাগ
অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা নিয়ে বলছি, বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কঠিন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে যে সাহস ও সহায়তা শুভসংঘ দিয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মা কিডনি রোগী, যাঁর নিয়মিত চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আমার পড়াশোনার খরচ জোগানো পরিবারের একটা বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কখনো কখনো নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে ভয় লাগত। জানতাম বাসা থেকে টাকা চাওয়া মাত্রই মা-বাবার মুখে চিন্তার ছাপ পড়ে যেত। তখন নিজের প্রয়োজনকে গোপন করে মন খারাপ নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম। একসময় মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। পড়াশোনায় মন বসত না, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা গ্রাস করত। ঠিক তখনই আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির কথা শুনি এবং মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি। যখন জানতে পারি আমি এই বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছি, সেটি আমার জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছিল। এই বৃত্তি শুধু অর্থ নয়, আমার আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে। সমাজে এখনো কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ান এবং স্বপ্ন দেখা মানুষের হাত ধরেন। এই সহায়তা শুধু আমার পড়াশোনাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেনি, বরং আমাকে একটি মানবিক বার্তাও দিয়েছে। আমরা কেউই একা নই, যত দিন বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের পাশে আছে। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা শুভসংঘকে। ভবিষ্যতে আমি নিজেও এমনভাবে কারো পাশে দাঁড়াতে চাই। স্বপ্ন দেখি একদিন বড় মানুষ হব এবং সমাজের গরিব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব।
আরবি বিভাগ
আমি অনেক ছোট থাকতেই বাবা মারা যান। আমরা চার বোন, ভাই নেই। মা একাই অনেক কষ্টে আমাদের বড় করেছেন। পরিবারে একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকলেও সংসার চালাতে যেখানে কষ্ট হয়, সেখানে আমার মায়ের পক্ষে আমাদের চার বোনকে মানুষ করা অনেক কঠিন ছিল। এটা কল্পনাই করা যায় না। আমার বড় তিন বোনকে অল্প কিছু পড়িয়েই বিয়ে দিয়ে দেন মা। কারণ অর্থনৈতিকভাবে আমাদের অবস্থান খুব দুর্বল ছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই মায়ের পরিশ্রম দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। তিনি সব সময় চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে বড় মানুষ হই। আমিও সেই স্বপ্ন নিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যাই। শিক্ষকদের সহানুভূতি ও উৎসাহে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাই। সেই বৃত্তির টাকা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি এসএসসি শেষ করি। টাকার অভাবে কোনো প্রাইভেট পড়তে পারিনি। কলেজেও তেমন ক্লাস হতো না। টিউশনি করে এবং বোনদের সহায়তা নিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজের চেষ্টায় পড়ালেখা চালিয়ে যাই। আলহামদুলিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। ঢাকায় এসে আরেক ধাপ কষ্ট শুরু হয়। নতুন শহর, কাউকে চিনি না, হলে সিট পাইনি, বাসাভাড়া চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিল। তখনই বসুন্ধরা শুভসংঘ সম্পর্কে জানতে পারি। ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি শিক্ষাবৃত্তির জন্য। আমার সমস্যাগুলো স্যার মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কোনো শর্ত ছাড়া আমাকে বৃত্তি প্রদান করেন। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই বৃত্তি আমার শিক্ষাজীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এখন আমি নিশ্চিন্তে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি। শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, শুভসংঘের পক্ষ থেকে যে সম্মান, ভালোবাসা এবং আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, তা সত্যি অসাধারণ। বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের মতো শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল। তারা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, আমাদের স্বপ্নপূরণের পথকে সহজ করে দিচ্ছে। আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি।