১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধাদের সাহসী প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে হানাদারমুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে এই অঞ্চলে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, গোলাম নবী সাটুসহ আরও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। যাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের এই স্বাধীনতা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় হরিমোহন উচ্চবিদ্যালয়ের আম্রকাননে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মো. আসিফুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়—এটি আমাদের চেতনা, আমাদের অস্তিত্ব ও মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
সভায় বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা শুভসংঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম, সহসভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাবলু কুমার ঘোষ, নারীবিষয়ক সম্পাদক আসমাত জাহান সাথীসহ অন্যান্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, করোনাকালসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসুন্ধরা শুভসংঘ চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের পাশে খাদ্য ও শীতবস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও জেলার মানুষের যেকোনো ভালো কাজে এই সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাতের কাজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা সভাপতি মো. আসিফুর রহমান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের জেলার প্রতিটি সদস্য ভালো কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। আগামীতে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং রক্তদান কর্মসূচি জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত গণকবরগুলো সংরক্ষণে বসুন্ধরা শুভসংঘ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি