রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি আর মননের চর্চা প্রতিদিন নতুন রূপে ধরা দেয়। সেই ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণেই মহান বিজয় দিবস উদযাপন ঘিরে উৎসবমুখর ও আবেগঘন আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখা।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এ অনুষ্ঠিত হয় এই বিজয় উৎসব। দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের উচ্ছ্বাস।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে আলোচনা সভার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও চেতনার সম্মিলনে পরিবেশিত হয় দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিটি আয়োজনেই উঠে আসে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনা—যা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।
বিজয় উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পোদ্দার, বাংলা বিভাগের প্রভাষক সাবেকুন খালেক এবং সংগীত বিভাগের প্রভাষক বাবুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানটি সানজিদা শিলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সহসভাপতি জান্নাতুল সুমন, অর্থ সম্পাদক জুয়েল রানা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আত্মা খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ আক্তার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি নাইম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যামিন তাসনিম, নারীবিষয়ক সম্পাদক চৈতি গুপ্তা পায়েল, ইভেন্ট সম্পাদক শামসুর জাহান আরেফিন, ওমর ফারুক, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার বর্মন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মমো রায়, ক্রীড়া সম্পাদক অপূর্ব রায়, কার্যকরী সদস্য পবিত্র মণ্ডল, ইথেন আফরিন, সানজিদা মিমসহ আরও অনেক সদস্য।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা প্রশান্ত কুমার পোদ্দার তার বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ত্যাগ ও অর্জন আমাদের অহংকার। এই স্বাধীনতা শুধু ভোগের নয়, দায়িত্ব পালনেরও। তরুণসমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখার নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আরও বলেন, এই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ন্যায়, সততা ও সংগঠনের নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখার সভাপতি সানজিদা শিলা বলেন, বিজয় দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়, এটি আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে চাই। নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই আমাদের লক্ষ্য। বসুন্ধরা শুভসংঘ শিক্ষার্থীদের উপকারে কাজ করে, যাতে তারা সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদেরই বসুন্ধরা’, যার মাধ্যমে বসুন্ধরা শুভসংঘ তাদের নামের প্রতীককেও অর্থবহভাবে উদযাপন করে।
একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয় বিজয় শহীদদের স্মরণে কালজয়ী গান ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপান তলে কত প্রাণ হলো বলিদান’।
অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত নজরুল ও রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আত্মা খান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আয়োজকরা সবাইকে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিজয় উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
এই আয়োজন শুধু বিজয় দিবসের তাৎপর্য স্মরণ করায়নি, বরং বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখার নবগঠিত কমিটির কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ও তুলে ধরেছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি