চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অতিথি পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে সচেতনতামূলক সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা শুভসংঘ জীবননগর উপজেলা শাখার আয়োজনে অতিথি পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে সচেতনতামূলক সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রকৃতিপ্রেমী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং হাতে ব্যানার ও প্লাকার্ড নিয়ে অতিথি পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক এইচএম শামসুজ্জামান, সুশীল ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন, কালের কণ্ঠের জীবননগর প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম, শিক্ষক নুর কুতুল আলম, আলোকচিত্রী টুটুল নেছার, সাংবাদিক এম আর মুকুল, স্বেচ্ছাসেবক সামিউল ইসলাম অভি, জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, বনবিভাগর কর্মী প্রমুখ।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জীবননগর উপজেলা সভাপতি শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবী মো. মামুন হোসেনের সঞ্চালনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ‘প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি জীবননগরের নদী, বিল-বাঁওড় ও জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু অবৈধ শিকার, ফাঁদ পাতা এবং পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এসব পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী আজ হুমকির মুখে। তারা অবিলম্বে পাখি শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগ জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
কালের কণ্ঠ জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম পাখির উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, ‘পাখি আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাখি কৃষকের বন্ধু হিসেবে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে। পাখিসহ নিধন, পাখি ধরা আইনত অপরাধ। সকলকে পাখি নিধন ও পাখি শিকারিদের নিবৃত্ত করতে কাজ করতে হবে।’
আলোকচিত্রী টুটুল নেছার বলেন, ’প্রকৃতি টিকিয়ে রাখতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। প্রকৃতির অলংকারকে কখনেই বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সৃষ্টির প্রতি আমাদের সহানুভূতি খুব প্রয়োজন।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি শামসুল আলম বলেন, ‘অতিথি পাখিসহ আমাদের চারপাশ থেকে দিন দিন পাখি নিধনের ফলে হারিয়ে বসতে চলেছে। একসময় যে সকল পাখি আমরা দেখেছি সেসব পাখি এখন আর দেখতে পাচ্ছি না। আমরা সজাগ না হলে আমাদের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে আরো পাখি। নষ্ট হবে প্রাণ প্রকৃতি।’
সভায় আরও বলা হয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার দায়িত্ব। এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
মানববন্ধন শেষে অতিথি পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া