রণাঙ্গনের সম্মুখ সমরের বর্ণনা। মহান মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অনুপ্রেরণার গল্প। যুদ্ধে যাওয়ার প্রশিক্ষণ কিভাবে হলো। কিভাবে বিজয় এলো। বিজয়ের এমন নানা গল্প তুলে ধরলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জমসেদ শাহ্।
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত কামাখ্যা রঞ্জন ঘোষের কাছ থেকে শুনা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা কথা তুলে ধরলেন তাঁর ছেলে দীপংকর ঘোষ নয়ন। বললেন, ‘এখনো গা শিউরে উঠে বাবার বলে যাওয়া কথাগুলো মনে পড়লে। মুক্তিযুদ্ধ মানে হলো আমাদের প্রাণ, আমাদের অস্তিত্ব।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে তারা বলছিলেন কথা। তবে এখানেই আয়োজনের শেষ নয়। ২০ জন শিক্ষার্থী এসব গল্প শুনে খাতায় লিখলো। শিক্ষকরা নম্বর দেওয়ার পর পেলো পুরস্কার। ব্যতিক্রম এ আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা শাখা রবিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা নাগাদ রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাালয়ে চলে এ আয়োজন।
গল্প শুনে লেখার এ প্রতিযোগিতায় কবি জয়দুল হোসেনের লেখা 'মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া' বইটি তিনজনকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। গল্প শুনে ১০টি প্রশ্নের উত্তর লিখে বড়দের গ্রুপে প্রথম হয় নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রান্তিকা সাহা প্রথা। ছোটদের গ্রুপে ১ম ও ২য় পুরস্কায় পায় যথাক্রম আবদুর রহিম ওয়াসিফ ও সিয়াম খান, যারা রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে এতে অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শওকত হোসেন খান সোহাগ, আখাউড়া টেকনিক্যাল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম, দিনকালের আখাউড়া প্রতিনিধি এম এ জলিল, ব্যবসায়ি মো. আমিন, শিক্ষক আয়েশা আক্তার। সমন্বয় করেন কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।
উপস্থিত সুধীজন, শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা এ আয়েজনের প্রশংসা করলেন। তাঁরা বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম আয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানবে তেমনিভাবে কোনো কিছুতে মনযোগি হওয়ার বিষয়েও আগ্রহী হবে।’
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল