স্লাটশেমিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আলোচনা সভা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বসুন্ধরা শুভসংঘ শাখা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটির সভাপতি প্রত্যাশা রাণী। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। খুব অল্প সময়ে আমরা দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই যোগাযোগ মাধ্যমকেই ব্যবহার করে এক শ্রেণির মানুষ স্লাটশেমিং ও সাইবার বুলিংয়ের মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন বট আইডি ও ভুয়া পেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে নারী ও তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্লাটশেমিং হলো কোনো ব্যক্তির পোশাক, চালচলন বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা। আর সাইবার বুলিং হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাউকে মানসিকভাবে হয়রানি বা উত্যক্ত করা। বুলিং কিংবা স্লাটশেমিংয়ের শিকার হলে কখনোই চুপ থাকা যাবে না। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে- অপরাধী হলো যে বুলিং করছে, ভুক্তভোগী নয়।’
সভায় সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, পোস্ট বা ছবি দেখলে তা এড়িয়ে না গিয়ে রিপোর্ট করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকার জরুরি কিছু হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছে, যেখানে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানো যায়। তাছাড়া কোথাও উগ্রপন্থা বা মব উসকানোর মতো কোনো পোস্ট চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে দ্রুত ওই আইডি বা পেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
এ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক পরান চন্দ্র বলেন, ‘সাইবার বুলিং শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত হানে না, এটি একটি পরিবারের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব এতটাই ভয়াবহ হয় যে ভুক্তভোগী হতাশা, আত্মবিশ্বাসহীনতা কিংবা আত্মহানির পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। তাই প্রতিরোধের জন্য শুধু আইন নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিত দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে স্লাটশেমিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের জাবি প্রতিনিধি মেহদী ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সহ-সভাপতি শতাব্দী রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম, প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নূর, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহান ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সৌরভ বিশ্বাস, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক প্রতিভা, দপ্তর সম্পাদক জাদিদ বিন খালেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্লাটশেমিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের সামাজিক অপরাধরোধে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া