স্বামী পরিত্যক্ত মদিনা খাতুন (৫০)। আশ্রয় নিয়েছেন দরিদ্র বাবার বাড়িতে। ১ ছেলে থাকলেও যোগাযোগ নেই। কেউ খোঁজ খবর নেন না তার। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত গরম পোশাক নেই তার। তাই শৈত্য প্রবাহে কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। বিষয়টি জেনে তাকে কম্বল পৌঁছে দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশি মদিনা খাতুন। মদিনা পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
একই গ্রামে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বসবাস করেন রহিমা খাতুন (৬০)। স্বামী ভ্যানচালক আব্দুল মমিন (৬৮)। পরিবারে শুধু তারা দুজনই সদস্য। চৌকি না থাকায় ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকতে হয় তাদের। এতে শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঠান্ডা জনিত দুর্ভোগ বেড়েছে তাদের।
বুধবার বসুন্ধরা শুভসংঘের কম্বল পেয়ে আনন্দে তিনি বলেন, 'মেঝের ঠান্ডা থেকে এখন রক্ষা পাবো এই কম্বলে।'
আশ্রয়ন প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা বাছীরন খাতুন (৬৫) তার বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে একই কারণে শীতের কষ্টে ভুগতেছিলেন। বুধবার এই হতদরিদ্র দম্পতি কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশিমনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে এমনই ৩৭ টি পরিবারকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কম্বল প্রদান করা হয়। শুভসংঘের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার উপদেষ্টা প্রকৌশলী ডক্টর জাহিদ হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই আয়োজন করা হয়।
শুভসংঘের সদস্যরা জানায়, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে শৈত্য প্রবাহ। প্রচন্ড শীতে হতদরিদ্র মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। এ অবস্থায় কিছু মানুষের দুর্দশা লাঘবে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে উপজেলার প্রত্যন্ত খানমরিচ ইউনিয়নের বড় পুকুরিয়া গ্রামের ১৪ ও পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের ২৩ টি হতদরিদ্র পরিবারকে কম্বল প্রদান করা হয়। এছাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নৌবাড়ীয়া হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় ও অষ্টমনীষা ইউনিয়নের ছোট বিশাকোল হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় পাঁচটি করে কম্বল প্রদান করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের ভাঙ্গুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক শাকিব খান বলেন, এলাকার প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবার দেখে দেখে কম্বল প্রদান করা হয়। একই দিনে নির্দিষ্ট একটি স্থানে তাদেরকে আসতে বলা হয়। কেউ আসতে না পারলে তার বাড়িতে গিয়ে কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সাথে মাদ্রাসায় শিশুদের কষ্ট লাগবেও কম্বল প্রদান করা হয়েছে। এমন মানবিক কাজ করায় এলাকার মানুষ যেমন খুশি হচ্ছেন, আমরাও তেমন আনন্দিত হচ্ছি।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক