২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:২২

ছেলে মেয়েদের উপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছেন বলে আশ্রয় চান রহিমা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ছেলে মেয়েদের উপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছেন বলে আশ্রয় চান রহিমা

এই বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয় রহিমাকে

জায়গা-জমি নিয়ে ছেলে-মেয়েদের উপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছেন জানিয়ে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ীতে আশ্রয় নেন খুলনার দৌলতপুর বর্ণিকপাড়া থেকে নিখোঁজ রহিমা খাতুন (৫২)। দেশব্যাপী আলোচিত এ নারীকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে জীবিত উদ্ধার করে খুলনা পুলিশ। যে বাড়ি থেকে রহিমা খাতুনকে উদ্ধার করা হয় সেই বাড়ির মালিক কুদ্দুস মোল্লা দীর্ঘদিন আগে খুলনায় একটি জুটমিলে চাকরির সুবাদে রহিমা খাতুনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই সুবাদে তাদের সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতেই রহিমা খাতুন তার ছেলে-মেয়েদের সাথে পরামর্শ করেই এ নিখোঁজ নাটকের অবতারণা করেছেন। রহিমা খাতুন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে আশ্রয় নেবার পর স্থানীয়দের জানান, জায়গা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের সাথে তার মনোমালিন্য হয়েছে। এ কারণে তিনি আর বাড়িতে ফিরতে চান না। আর মানবিক কারণে রহিমা খাতুনকে আশ্রয় দেন কুদ্দুস মোল্লা।  

কুদ্দুস মোল্লার ভাগিনা মোঃ জয়নাল শেখ  জানান, সোস্যাল মিডিয়ায় মরিয়ম মান্নান তার মায়ের সন্ধান চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি  প্রকাশ করেন। সেখানে রহিমা বেগমের ছবি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে রহিমা বেগমের কাছে ছবিটি দেখালে রহিমা খাতুন নিজেই জানান এটা তারই ছবি। এসময় রহিমা খাতুন তার পরিবার সম্পর্কে নানাধরনের মন্তব্য করতে থাকেন। একসময়ে তিনি জানান তার মেয়ে এবং পরিবারের কেউ তাকে দেখতে পারে না। এ কারণে তিনি বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে রহিমা খাতুন বোয়ালমারীর সৈয়দপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন। সেখান থেকেই স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি পূর্ব পরিচিত কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান। কুদ্দুস মোল্লার প্রতিবেশী রহিমা বেগমের বিষয়ে জানতে চাইলে, প্রতিবেশীদের বলা হয়, কুদ্দুস মোল্লা যখন খুলনায় চাকরি করতেন তখন রহিমাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই সুবাদে তাদের সাথে রহিমা খাতুনের পরিচয় রয়েছে। রহিমা খাতুন বেড়াতে এসেছেন বলেও প্রতিবেশীদের জানান কুদ্দুস মোল্লার স্ত্রী।

কুদ্দুস মোল্লার মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদ ও ভাগিনা জয়নাল শেখ ইউটিউবে দেখতে পান মরিয়ম মান্নান তার মায়ের লাশ পেয়েছেন এবং আত্মচিৎকার করছেন। অথচ মরিয়মের মা রহিমা খাতুন জীবিত আছেন। এসময় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বোয়ালমারীর ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মোশারফ হোসেনের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ওয়ার্ড মেম্বার মোশারফ হোসেন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে খুলনার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করেন এবং রহিমা খাতুনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে খুলনার কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল পুনরায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী ওয়ার্ড মেম্বার মোশারফকে ফোন দিয়ে রহিমা খাতুনকে সেখানেই রাখতে বলেন। পরে রাত পৌনে ১১টায় দৌলতপুর থানা পুলিশ বোয়ালমরীর সৈয়দপুরে হাজির হন। রাত ১১টার দিকে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে রহিমা খাতুনকে উদ্ধার করে খুলনার দৌলতপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুদ্দুস মোল্লার স্ত্রী হিরা বেগম, ছোট ভাই বৌ রেহেলা বেগম ও শ্যালক আলামিন মোল্ল্যাকে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিয়ে যায়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব বলেন, 'শনিবার রাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে রহিমাকে উদ্ধার করেছে। ওই সময় কুদ্দুস মোল্লা বাড়িতে ছিলেন। রহিমার বিষয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে পুলিশ। এরপর রহিমাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।’

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর