রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই মাঠে নেমেছেন ৪৫ জন প্রার্থী। তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবারই প্রতীক হাতে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন তারা। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন প্রার্থীরা, দিচ্ছেন নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে ভোটাররাও তাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন।
বুধবার দিনভর বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীরা
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি করপোরেশন) : এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী (লাঙল), জামায়াতের রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর আহসানুল আরেফিন (কাঁচি), ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস (মোমবাতি)।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ): এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন— জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল (লাঙল), বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী (হাতপাখা) এবং জেএসডির আজিজুর রহমান (তারা)।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন): এখানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জাতীয় পার্টির জিএম কাদের (লাঙল), বিএনপির সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা), জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা), বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী (হরিণ), সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর আনোয়ারা হোসেন বাবলু (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান (সূর্যমুখী)।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া): এই আসনে আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন— বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান (লাঙল), এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর): এ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এস এম ফখর উজ জামান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব (কেটলি), সিপিবির আবু হেলাল (কাস্তে), আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুল বাছেত (ঈগল), সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর বাবুল আক্তার (কাঁচি) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান (ডাব)।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ): এখানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপির সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া (লাঙল), জামায়াতের নুরুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা), আমার বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ (ঘোড়া), খন্দকার শাহিদুল ইসলাম (ফুটবল) ও তাকিয়া জাহান চৌধুরী (সূর্যমুখী)।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন