বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিভক্তির বাংলাদেশ চাই না। ঐক্যের বাংলাদেশ চাই। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা প্রত্যেক বেকার যুবক ভাইদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।
তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে তারা মর্যাদার সঙ্গে আয় রোজগার করবেন। এভাবে আমরা যুব সমাজকে শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই। আমরা আর বেকারের মিছিলে তাদের দেখতে চাই না। আমরা এমন একটা দেশ দেখতে চাই- যেখানে চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হবে না। আল্লাহ যতদিন আমাদের তৌফিক দেবেন। ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে চাই দেশকে এভাবে দেখার জন্য।
শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আমিরে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত ইনসাফের সমাজ গড়তে চাই। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান আমরা কারও কাছে বন্ধক রাখবো না। আমাদের লড়াই এদেশের সকল জুলুমবাজ কায়েমী স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। যা কুরআনের নির্দেশ। আর এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক ও আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা কথা দিয়েছিলাম আমাদের পার্টি দুর্নীতি করবে না, চাঁদাবাজি করবে না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আপনারা সাক্ষী আছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে বাস্তবায়ন করা হবে। বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। বগুড়ায় একটি আলাদা মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপন করা হবে। বগুড়ার মানুষের প্রাণের দাবি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন স্থাপন ও বগুড়া বিমানবন্দরকে যতদ্রুত সম্ভব সংস্কার করে এখান থেকে বিমান উড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দূর্বৃত্ত যেন ভোট সেন্টার দখল করতে না পারে। সেদিকে বগুড়ার নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। তারা ভোট সেন্টারে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা হবে। অতীতে নির্বাচনের নামে যে রকম ধোকা বাংলাদেশের মানুষকে দেওয়া হয়েছে। এরকম ধোকা যেন পরবর্তীতে দেশের মানুষকে না দেওয়া হয়। সেই বাংলাদেশ বির্নিমাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। নারীদের কর্মস্থল থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাটে চলাচলের সময় সরকারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই কাজগুলো বাস্তবায়নে বগুড়ার মানুষ শিক্ষিত, মেধাবী প্রার্থীদের ভোট দিবেন। আপনাদের ভোটেই আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বো।
সভায় বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। অনুষ্ঠানে আরও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সহ-মুখ্য সমন্বয়ক সাকিব মাহদী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি এড. মোকলেছুর রহমানর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব এস এ জাহিদ সরকার, খেলাফত মজলিমের জেলা সভাপতি রাশেদুল হাসান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাসেত, নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, জেলা পশ্চিম শিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল মতিন, শহর সভাপতি আজগর আলী, শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রফিকুল আলম, এড. আল-আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
এর আগে জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১০টায় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়। পুরো শহরজুড়ে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত