Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৫৯
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৫৮

আসছে পর্যটক হাসছে পাহাড়

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

আসছে পর্যটক হাসছে পাহাড়

একদিকে হিম শীতের আমেজ। অন্যদিকে নতুন বছরের আগমন। পার্বত্যাঞ্চলে এখন বাইছে উৎসবের জোয়ার। তাই বলা চলে, আসছে পর্যটক, হাসছে পাহাড়। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের হৈ হৈ আনন্দে-উল্লাসে মেতেছে রাঙামাটি। জমছে উপচেপড়া ভিড়। যেন তীর ধরানোর ঠাঁই নেয়। তাই পাহাড় এখন উৎসবের নগরী। সর্বত্র সাজ সাজ রব। 

চারদিকে মানুষের হই হুলোড়। পর্যটকের পদাভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়ি এ জনপদ। সৃষ্টি করেছে বর্ণিল আনন্দঘন পরিবেশ। 

শীতের ঘন কুয়াশা। আর সবুজ ঘাসের শিশির। পাহাড়ে বুকে মেঘের লুকোচুরি খেলা। এমনি এক আকর্ষণীয় পরিবেশের মধ্যদিয়ে পার্বত্য জনপদে আগমন হচ্ছে এবারের ইংরেজি নতুন বছরের। তাই এ আমেজে ছুটে আসছে দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত তরুণ-তরুণী। শুধু রাঙামাটিতে প্রায় প্রতিদিন আসছে ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যটক। 

অন্য দুই পার্বত্যাঞ্চলেও একই অবস্থা। পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকরাও। আবাসিক হোটেলেগুলোতে ভিড় লেগেই আছে। রয়েছে অগ্রিম বুকিংও। কোথাও রুম খালি নেই। কানায় কানায় পূর্ণ রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্স।

রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ জানান, ইংরেজি নববর্ষকে সামনে রেখে প্রায় প্রতিদিন অগ্রিম বুকিং লেগে আছে। বুকিং থাকবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এভাবে পর্যটক আসা অব্যাহত থাকলে পর্যটন ব্যবসায় ধস কাটিয়ে উঠতে বেশি দিন সময় লাগবে না। 

বর্তমানে রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনসহ ইংরেজি নববর্ষকে সামনে রেখে পিকনিক পার্টির আগমনও অধিক লক্ষণীয়। তবে রাঙামাটি পর্যটন কপ্লেক্সে বেড়াতে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অনেকে পর্যটক। 

পর্যটকদের অভিযোগ, নামেই পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও রাঙামাটি পর্যটন কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সব আনন্দ বিলীন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসে দেখি ঝুলন্ত সেতু ছাড়া উপভোগ করার মতো তেমন কোন সুবিধা রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে নেই। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় দোলনা ও বসার জন্য টুল, ছাতা কিছুই নেই। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ৩০ টাকা করে নিলেও আলাদা কোন সুবিধা বাড়ানো হয়নি। অথচ, প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে ২০ টাকা। তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক মো. আকবর।

অন্যদিকে, রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনার ৬ মাস পর পর্যটন মোটেলে প্রচুর রাজস্ব আয় বাড়েছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে রাজস্ব আয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। 

রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সূর্য্যসেন ত্রিপুরা জানিয়েছেন, পর্যটন মোটেলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটছে। তার মধ্যে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটকও রয়েছে। রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের দৈনিক রাজস্ব আয় হচ্ছে গড় প্রায় লাখ টাকা। এখন পর্যটন মোটেলের কটেজসহ সমস্ত আবাসিক কক্ষ বুকিং রয়েছে। 

এদিকে, ইংরেজি নতুন বছরকে সামনে রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে ৩১ ডিসেম্বর ও পহেলা জানুয়ারিকে ঘিরে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। তিনি বলেন, রাঙামাটি একটি সম্প্রীতির শহর। 

পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দে রাঙামাটিতে ঘুরে বেড়াতে পারে তার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বাত্রক নিয়োজিত রয়েছে। ৬টি মোটরবাইক নিয়ে একটি ট্যুরিস্ট পুলিশেরটিমও গঠন করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর রাঙামাটিতে অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোরাঁ, পৌর পার্ক, সুখী নীল গঞ্জ, উপজাতীয় যাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ ইত্যাদি মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা সত্যিই যে কোন পর্যটককেই কাছে টানে। শিহরিত করে তোলে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌ বিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌভ্রমণ।

বিডি প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০১৭/আরাফাত


আপনার মন্তব্য