শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

রস সংগ্রহ পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত বেনাপোল-শার্শার গাছিরা

বকুল মাহবুব, বেনাপোল:

রস সংগ্রহ পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত বেনাপোল-শার্শার গাছিরা

'যশোরের যশ খেজুরের রস' এই প্রবাদকে ধারণ করে বেনাপোল, শার্শাসহ গোটা যশোর জেলা জুড়ে প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে খেজুরের গুড়ের পাটালি তৈরির মহোৎসব। বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা পায়েসসহ নাম না জানা হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়েছে। তাই শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে খেজুর গাছ খিলি দিতে ও রস আহরণ শুরু করেছে।

ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের সোনালী অংশ বের করে থাকে, যাকে বলে চাঁচ দেওয়া। চাঁচ দেওয়ার সপ্তাহ খানেক পর নোলন স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় সুস্বাদু খেজুর রস আহরণের কাজ। প্রভাতের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘন কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।এই মৌসুমে খেজুরের রস দিয়ে গ্রামীন জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বাড়বে খেজুরের রসের মিষ্টি তত বাড়বে। গ্রামীন জনপদে শীতের সব থেকে বড় আর্কষণ দিনের শুরুতে শীতের সকালে খেজুরের রস, সন্ধ্যায় রস ও সুস্বাদু গুড়-পাটালি। সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরিতে আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে খেজুরের গুড় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানকার কারিগরদের দানা পাটালি তৈরীতে ব্যাপক সুনাম থাকায় খেজুরের গুড় পাটালির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশে ও বিদেশে। 

বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের ডা. আব্দুল হামিদ জানান, যশোরের খেজুরের রস ও পাটালি গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক। গুড়-পাটালির দাম বেশি পাওয়ার জন্য এ অঞ্চালের গাছিরা শীত মৌসুম আসার আগেই খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য আগাম গাছকে প্রস্তুত করে রাখে। আগাম গাছ তোলায় রস ও গুড়ের দাম বেশি পাওয়া যায়। যার এক একটি খেজুর গাছ রস আহরণের জন্য প্রস্তুত করতে গাছিকে খরচ করতে হয় প্রায় ২০০ টাকা। তিনি আরো জানান, এ মৌসুমে আমি প্রায় তিন’শ খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করবো। খেজুর গাছের রস, গুড়-পাটালি বিক্রয় করে করে খরচ বাদে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি জানান।

র্শাশা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, এ বছর সঠিক সময়ে শীত পড়ায় শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খেজুরের রস আহরণের জন্য গাছিরা আগাম খেজুর গাছগুলো প্রস্তুত করে রেখেছে। এখান থেকে গাছিরা রস আহরণ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়। শার্শা উপজেলাতে প্রায় লক্ষাধিক রস প্রদানকারী খেজুর গাছ রয়েছে। সেখান থেকে গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরী করে নিকটস্থ বাজারে বিক্রয় করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য