বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা যদি নিজেদের ক্রীড়াঙ্গনে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে মাদকের মতো খারাপ জিনিস থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারব।’ গতকাল সকালে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘অলিম্পিক ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশের মান-মর্যাদা সমুন্নত রাখতে অলিম্পিক অঙ্গনে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করবে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহযোগী।’
এ সময় ২০৩০ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ভিলেজ আয়োজনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বের বুকে তারা বুক উঁচিয়ে দেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।’ এ ক্ষেত্রে তিনি ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে অলিম্পিক মূল্যবোধ-এক্সিলেন্স, ফ্রেন্ডশিপ ও রেসপেক্ট এক্সিলেন্স সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সবাইকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এর আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহায়তায় ঢাকায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ওই শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান।
‘ইউ ক্যান ডু দিস, লেটস মুভ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্রীড়াবিদ ও সর্বস্তরের জনগণকে শরীরচর্চা এবং ক্রীড়া কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করা। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের অন্য সাতটি বিভাগীয় শহরেও অলিম্পিক ডে উপলক্ষে শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঢাকায় আয়োজিত কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা সকাল ৭টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে স্টাফ রোড লেভেলক্রসিং প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এসে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রা শেষে একটি চিত্তাকর্ষক ক্রীড়া প্রদর্শনী পরিবেশিত হয় এবং সেনাবাহিনী প্রধান অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।