মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ফ্রান্স শিবিরে যোগ দিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশম। নরওয়ে ম্যাচের আগে ফরাসি কোচের মা জিনেট দেশম মারা যান। আরলিং হলান্ডদের বিপক্ষে ম্যাচ রেখেই প্যারিস উড়ে গিয়েছিলেন এমবাপ্পেদের কোচ। প্যারিস থেকে ফিরে শিষ্যদের সঙ্গী হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ৩টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সুইডেন। ম্যাচটির ডাগআউটে থাকবেন দেশম। সেরা ১৬-তে ওঠার লড়াই। বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স ও সুইডেন দুই দলই পরিচিত মুখ। ফ্রান্স দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং সুইডেন একবারের রানার্সআপ। অথচ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম দুই দেশ পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে। নরওয়ে ম্যাচে কোচের মায়ের মৃত্যুর শোকে এমবাপ্পেরা জার্সিতে কালো বন্ধনী পরে খেলতে চেয়েছিলেন। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন অনুমতি চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল। ফিফা রাজি হয়নি। ওই ম্যাচে দেশম না থাকায় ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন সহকারী কোচ গাই স্টিফেন। দেশমের অনুপস্থিতিতে জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিধ্বস্ত করেছে নরওয়েকে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মূল ভরসা এমবাপ্পে। প্রথম দুই ম্যাচে ৪ গোল করে সব আলো কেড়ে নেন ফ্রেঞ্চ অধিনায়ক। সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ১৬। তিনিই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মূল স্কোরার। অথচ নরওয়ে ম্যাচে সেরা পারফরমার ছিলেন পিএসজি উইঙ্গার ওসমান দেম্বেলে। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেন। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের পাতায় নাম লেখেন দেম্বেলে।
বিশ্বকাপের সুপার থার্টি টু-তে মাত্র তিনটি দল উঠেছে শতভাগ জয় নিয়ে। স্বাগতিক মেক্সিকো, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দেশমের শিষ্যরা তিন ম্যাচে গোল করেছে ১০টি। হজম করেছে মাত্র দুটি। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে, দ্বিতীয়টি ইরাককে ৩-০ গোলে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স। লা ব্লুজরা র্যাঙ্কিংয়ে এখন দুই নম্বরে। প্রতিপক্ষ সুইডেনের র্যাঙ্কিং ৩৬। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি বিশ্বকাপের সর্বশেষ চার আসরের তিনটিতেই খেলেনি।
১৯৯০ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এ ছাড়া ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৫-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেশটির এটাই সেরা সাফল্য। গ্রাহাম পটারের সুইডেন নকআউট পর্বে গ্রুপের তিন নম্বর দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ পর্বে দেশটি প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ১-৫ গোলে বিধ্বস্ত হয় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে করে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা নেয় তারা। দলটি ৭ গোল করে সমান ৭ গোল খেয়েছে। এতেই স্পষ্ট দলটির আক্রমণভাগ যতটা শক্তিশালী, রক্ষণভাগ ঠিক ততটাই দুর্বল। পটারের দল ব্লা গুল্টদের ভরসা আক্রমণভাগে আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেস। দেশমের দলের মূল ভরসা এমবাপ্পে ছাড়াও উইঙ্গার দেম্বেলে। এ ছাড়া সালিবা, ওলিসে, দ্যু ও কুন্ডে রয়েছেন ছন্দে। দুই দল এবারই প্রথম বিশ্বকাপে পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে। এর আগে তারা মুখোমুখি হয়েছিল ২৩ বার। ফ্রান্সের ১২ জয়ের বিপরীতে সুইডিশদের জয় ৬টি। ড্র হয়েছে ৫টি। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে ফ্রান্স জিতেছিল ৪-২ গোলে। সেই জয়ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে ছন্দে থাকা এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের। ম্যাচটির ফল নিয়ে সুপার কম্পিউটার বলছে, ফ্রান্স জিতবে ৩-১ বা ৪-১ গোলে।