ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি গোলটি করতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে হিউস্টন স্টেডিয়াম। হলুদ উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে ব্রাজিলের সমর্থক। ওই গোলের পর ধারাভাষ্যকারও আনন্দে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘বেঁচে রইল বিশ্বকাপের প্রাণ।’ অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণভাগ দুমড়েমুচড়ে মার্তিনেলি যে ঠান্ডা মাথায় গোলটি করেন, তাতেই অবিশ্বাস্য জয়ে মাঠ ছাড়েন কার্লোস আনচেলত্তির শিষ্যরা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি জাপানকে ২-১ গোলে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় দিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে ব্রাজিল। সেরা ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে কিংবা আইভরি কোস্ট।
স্কটল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচের একাদশের ওপরই আস্থা রাখেন ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি। নেইমারকে বাইরে রেখে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর জন্য ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। একাদশে চার পরিবর্তন আনেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেলিয়েছেন কোচ বরাবরের ৪-১-২-৩ ফরমেশনে। বিপরীতে জাপান খেলেছে ৩-৪-২-১ ফরমেশনে।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ শুরু করেন ভিনিসাস, পাকেতা, রায়ান, কুনহারা। সেলেসাওদের আক্রমণ ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকও করেছে জাপান। কাউন্টার অ্যাটাকেই ২৯ মিনিটে পুরো হিউস্টনকে চমকে জাপানকে এগিয়ে নেন কাইশু সানো। মধ্যমাঠ থেকে প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে ডান পায়ে মাটি কামরানো শটে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে বোকা বানিয়ে জালে পাঠান (১-০)। ওই গোলে ব্লু সামুরাইরা স্তব্ধ করে ব্রাজিলসহ গোটা বিশ্বের হলুদ শিবিরকে। ব্রাজিল চেষ্টা করেছে পাকেতার মাধ্যমে আক্রমণ শানাতে। গতকাল জাপানের কোচ তার পরিকল্পনায় বাক্সবন্দি করে রেখেছিলেন ভিনিসাসকে। প্রথমার্ধে ভিনিসাসকে কোনোভাবেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও দুটি শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বলে কোনো জোর ছিল না। প্রথমার্ধ শেষ হয় জাপানের লিডে।
দ্বিতীয়ার্ধে দুটি পরিবর্তন আনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুরুতেই পাকেতার পরিবর্তে আনচেলত্তি মাঠে নামান ১৯ বছর বয়সি তরুণ ফুটবলার এনড্রিককে। তার মাঠে নামার পর আক্রমণের ধার বাড়ে ব্রাজিলের। একের পর এক আক্রমণে নাজেহাল করে ছাড়ে জাপানকে। ৫২ থেকে ৫৮ মিনিট; ছয় মিনিট ব্রাজিল যে ফুটবল খেলেছে, নিশ্চিতভাবেই সেটা ছিল ভিনগ্রহের ফুটবল! ম্যাচের ৫২ মিনিটে গিমাইরাইসের হেড অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা করেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি। পরের মিনিটে গোলবার থেকে জাপানের রক্ষণভাগ নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন। অবশেষে ৫৬ মিনিটে সমতা আনে ব্রাজিল (১-১)। গাব্রিয়েল মাগালাইসের বাঁ পায়ের ক্রসে দুর্দান্ত হেডে সমতা আনেন ক্যাসেমিরো। পরের ভিনিসাস বল ধরে অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে ডান পায়ের টোকায় প্লেসিং শট করেন। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি কোনোরকমে বলের গতি পরিবর্তন করলেও শেষ মুহূর্তে বল সাইডবারে লেগে বাইরে চলে যায়। নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ৬৬ মিনিটে কুনহার পরিবর্তে আনচেলত্তি মাঠে নামান গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিকে। এরপর গতি ধীর হয়ে পড়ে। ম্যাচ এক সময় গড়াতে থাকে অতিরিক্ত সময়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ আরও ৬ মিনিট। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নাটকীয়ভাবে গোল করে বসে ব্রাজিল। গিমারাইজের বাড়ানো বলে মার্তিনেলির কোনাকুনি শট সাইড পোস্টে লেগে জালে জড়ায় (২-১)। রেফারি ৬ মিনিটের ‘ইনজুরি টাইম’ দিয়েছিলেন। খেলা হয়েছে ১১ মিনিট।