যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দ্রুত বাড়ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় জাহাজ মালিকদের মনে ভরসা ফিরছে এবং তাদের ওপর হামলার ঝুঁকি কমেছে।
সামুদ্রিক তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিগনাল’-এর হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই উপসাগরীয় এলাকায় দৈনিক যাতায়াত করা জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮টিতে। অথচ যুদ্ধের চরম সময়ে এই সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১ বা ২টিতে।
অবশ্য জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে এখনও অনেক কম। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, শেষ সপ্তাহে মোট ২৫৮টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে। অথচ মার্চ মাসে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে এই সংখ্যা নেমেছিল মাত্র ৪১টিতে। আমেরিকার সাথে যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হতো। তখন প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।
হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় অনেক সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, খাবার, জ্বালানি ও সার শিল্পের ওপর বড় প্রভাব পড়েছিল। তবে এই সংকটের সময়ে কিছু জাহাজ বিকল্প পথে চলে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু বন্দর বেশ লাভবান হয়েছে। কাতারের দোহায় অবস্থিত হামাদ বন্দরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া জেবেল আলী, খোর ফাক্কান ও সোহার বন্দরগুলো বিকল্প রুটের বাড়তি জাহাজের চাপ সামলে সচল ছিল।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে