সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চলতি বছরে নাইজেরিয়ায় মোতায়েন করা অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র ‘লেক চাদ বেসিন’ এলাকায় যৌথ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযানের জন্য আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ২০০ সামরিক সদস্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। এই অঞ্চলে আইএসডব্লিউএপি ও বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র দলগুলো ক্রমাগত সামরিক অভিযানের মুখেও নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) ‘আফ্রিকান চিফস অফ ডিফেন্স কনফারেন্স’-এর পরবর্তী এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে ইউরোপ ও আফ্রিকায় নিয়োজিত মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ড্যাগভিন আর. এম. অ্যান্ডারসন সেনা প্রত্যাহারের কথা জানান।
অ্যান্ডারসন জানান, যৌথ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযান সফল হওয়ায় মিশনে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের অধিকাংশই নাইজেরিয়া ত্যাগ করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ওই অভিযানের জন্য সেখানে পাঠানো আমাদের বাহিনীর বড় অংশকেই আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তবে নাইজেরিয়ার অনুরোধ অনুযায়ী আমরা অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছি, যাতে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং এসব কঠিন কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া অব্যাহত রাখা যায়।
অ্যান্ডারসন আরও বলেন, নাইজেরিয়ার লেক চাদ বেসিনে পরিচালিত ওই অভিযানটি কেবল ওই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যই সহায়ক ছিল না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করেছে। এর ফলে আইএস-এর নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়েছে।
মার্কিন এই জেনারেল নাইজেরিয়াকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীসহ একটি সক্ষম নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ফলে আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমি মনে করি, নাইজেরিয়ার সঙ্গে আমাদের সাম্প্রতিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্ডারসনের মতে, নাইজেরিয়ার সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় বিশ্বব্যাপী আইএস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হয়েছিল। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এটি একটি চমৎকার উদাহরণ।
এছাড়া তিনি সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে আরও জোরদার গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের আহ্বান জানান।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়া তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
বিডি প্রতিদিন/আরকে