ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত পূরণ না করে তাহলে উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, আমরা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন জোরালোভাবে দাবি করছি। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরানও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ ফের শুরু করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন গালিবাফ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের আলোচক দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের হুমকিকেও তিনি ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ অবস্থায় নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে গালিবাফ দাবি করেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। তার ভাষায়, ‘আজ সবাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারাই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে।’
এদিকে, ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে তেহরান ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে টেলিফোনে তিনি এ আহ্বান। এ সময় দুই সামরিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন। তাদের আলোচনায় তেহরান-আঙ্কারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
ইবনোলরেজা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/এএম