অব্যাহত হুমকির মধ্যে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে তেহরান ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে টেলিফোনে তিনি এ আহ্বান। এ সময় দুই সামরিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন। তাদের আলোচনায় তেহরান-আঙ্কারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপায় নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
ইবনোলরেজা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের নৃশংসতারও সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অভিযোগ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে ইসলামি দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ইরানের এই নেতা।
ইবনোলরেজা ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরসহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
অন্যদিকে গুলের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের প্রতি সমর্থন জানান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আঙ্কারার প্রস্তুতির কথাও জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।
সূত্র: ইরানা নিউজ।
বিডি প্রতিদিন/আরকে