শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

ইমরানের লংমার্চে পথে পথে সংঘর্ষ

ইমরানের লংমার্চে পথে পথে সংঘর্ষ

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ‘আজাদি মার্চ’ ঠেকাতে গতকাল রাজধানী ইসলামাবাদের প্রবেশে বিভিন্ন পথ কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় -এএফপি

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গতকাল বিকালে সরকারবিরোধী ‘আজাদি মার্চ’ নামের লংমার্চ শুরু করেছে। পেশোয়ার থেকে শুরু হওয়া এ লংমার্চের সম্মুখে একটি খোলা ট্রাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান খান। এর আগে লংমার্চ ঠেকাতে পথে পথে ব্যারিকেড স্থাপন করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে গতকাল সন্ধ্যায় পাওয়া খবর অনুযায়ী, ব্যারিকেড এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে লংমার্চ রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় পথে পথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছিল। ডন, বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা।

পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন ইমরান খান। ইমরান তার সমর্থকদের ‘সত্যিকারের স্বাধীনতা’র জন্য পথে বের হয়ে আসতে বলেন।  সে অনুযায়ী ইমরান খান বিকাল ৩টার দিকে পেশোয়ারের সমাবেশের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ায় ওয়ালিতে হেলিকপ্টারে  নেমে তার সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সমর্থকরা ইমরানের হেলিকপ্টারকে ঘিরে ধরেছেন। এদিকে ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রথমে লংমার্চ আয়োজনের ব্যাপারে অনুমোদন দিলেও পরে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেন, পিটিআইকে বিভাজন ও  নৈরাজ্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের থামিয়ে  দেওয়া হবে। অবশ্য তার এ ঘোষণার আগেই বিরোধী দলের ওপর ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়।

গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ইসলামাবাদ সমাবেশ আটকাতে তার দলের চার শর বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পিটিআই নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ মধ্যরাতে অন্তত ১ হাজার ১০০ নেতা-কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।’

খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে পারে ইসলামাবাদ সরকার। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হতে পারে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাকেও।

সূত্রটির দাবি, ‘যদিও লংমার্চের সময় ইমরানসহ অন্যান্য পিটিআই নেতাকে গ্রেফতার করা অসম্ভব বলে মনে হলেও সরকারবিরোধী কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা এড়াতে তাদের আটক করা ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় নেই।’

এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে পিটিআই কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পিটিআই কর্মীদের ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা বন্ধ করতে মহাসড়কের ওপর শিপিং কনটেইনারও রাখা হয়। ইমরানের দলের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের  বেশকিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া লাহোরের বাটি ও ভাট্টি চক এলাকায়ও উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ছবি দেশটির  টেলিভিশন ফুটেজে উঠে আসে। এসব ভিডিও ও টেলিভিশন ফুটেজে পিটিআই কর্মীদের ওপর পুলিশকে হামলা চালাতে দেখা যায়। এ ছাড়া পাকিস্তানের অন্যান্য শহরেও সংঘর্ষের বিভিন্ন ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওতে পিটিআই কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলতে দেখা যায় এবং পুলিশ কর্মকর্তারা মিছিলকারীদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে হামলা করছে।

খবরে বলা হয়, লংমার্চকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, করাচির মতো বড় শহরগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। লংমার্চের শুরুতেই পাঞ্জাবে পিটিআইয়ের আজাদি মার্চে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের বেদম পেটাচ্ছে?এমন দৃশ্য  দেখা গেছে ভিডিওতে। লাহোরের বাটি ও ভাট্টি চকেও পুলিশ হামলা চালায়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইমরান খানের নেতৃত্বে লংমার্চ সব ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হচ্ছিল। পথে পথে পুলিশের সঙ্গে ঘটছিল ব্যাপক সংঘর্ষ।

সর্বশেষ খবর