শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০২১ ০০:১২

অষ্টম কলাম

নিজেকেই সরকার ভাবেন মিলান কনসাল জেনারেল!

আটকে রাখা হয়েছে সাংবাদিকের পাসপোর্ট

আ স ম মাসুম, যুক্তরাজ্য

Google News

ইতালির মিলানে বাংলাদেশ মিশনের কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ, তিনি ‘নিজেকে বাংলাদেশ সরকার মনে করেন’। এমনকি ইকবাল আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বললে বা সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে আখ্যা দেন। তার ক্ষমতার অপব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক সোহেল মজুমদার শিপন ইকবাল আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ করেছিলেন। এ কারণে প্রায় এক বছর ধরে তার ও দুই সন্তানের পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছে। এতে নানা অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে পরিবারটিকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ইকবাল আহমেদের ছত্রচ্ছায়ায় দূতাবাসকেন্দ্রিক একটি দালাল চক্র পাসপোর্ট, ট্রাভেল পাস ও বাংলাদেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, বিভিন্ন সময় দূতাবাসের মিশন অফিস থেকে প্রবাসীদের জন্য যে ক্যাম্প করা হয় সেখানেও সাধারণ প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। ইকবাল আহমেদ মনোনীত দালালদের মাধ্যমে ক্যাম্পে অংশ নিতে হয়। এসব বিষয়ে কথা বললেই তাকে সরকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাসপোর্ট তদন্তে বাধাগ্রস্ত করেন। অনেক সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পাসপোর্ট আটকে রাখেন। সেই সঙ্গে দূতাবাসের প্রভাব খাটিয়ে ইতালি পুলিশকে দিয়েও অভিবাসী বাংলাদেশিদের হেনস্তা করা হয়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘দূতাবাসকেন্দ্রিক কোনো দালাল চক্র নেই। অভিযোগেরও কোনো সত্যতা নেই, সবই ব্যক্তিগত আক্রোশ।’ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাংবাদিক সোহেল মজুমদার শিপন প্রায় দশ মাস আগে তিনটি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য মিলান কনস্যুলেট অফিসে জমা দেন। এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট ফেরত দেয়নি কনস্যুলেট অফিস। কারণ সোহেল মজুমদার শিপন এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। সাংবাদিক সোহেল মজুমদার শিপন বলেন, ‘পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার ১০ দিন পর আমার অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিলান কনস্যুলেট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর সেই সংবাদটি সরিয়ে নিতে কমিউনিটির নেতা-কর্মীরা আমাকে প্রলোভন দেখান। কিন্তু আমি ওই প্রতিবেদন সরাতে অস্বীকার করি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কনসাল জেনারেল আমার পরিবারের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে।’ অপর একটি সূত্র জানায়, করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে ইতালির তোরিনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কনস্যুলেট অফিস। এতে তোরিন প্রশাসন বাংলাদেশ মিশনের কান্ডজ্ঞানহীন কাজের সমালোচনা করে। ইকবাল আহমেদকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বদলির আদেশ দেওয়া হয় আমেরিকার ফ্লোরিডার বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে। বাচ্চার পড়াশোনার অজুহাতে সেই বদলি ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।