প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আজ চালু হচ্ছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার সুখবরটি দিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। আর তাতেই কলকাতার নিউমার্কেটে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। একই অবস্থায় পেট্রাপোল স্থলবন্দর ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। কলকাতা নিউমার্কেট চত্বরের হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইলের সিম বিক্রেতা, এমনকি হাতে টানা রিকশাচালক, ফলের দোকানিসহ সবাই আশাবাদী এ সিদ্ধান্তে আবার নিউমার্কেট তার প্রাণ ফিরে পাবে। মারকুইস স্ট্রিটের সংযোগস্থল চারমাথার মোড়ে ৩০ বছর ধরে ফল বিক্রি করা মুহাম্মদ আসলাম গতকাল বলেন, ‘ব্যবসা খুব খারাপ চলছে। শেখ হাসিনা সরকার চলে যাবার পর থেকেই ব্যবসায় মন্দা। এখন বাংলাদেশিরা এলে ভালো হবে।’ নিউমার্কেটের অত্যন্ত পরিচিত ‘কটন গ্যালারি’র কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক বলেন, ‘প্রায় দুই বছরে নিউমার্কেটের ব্যবসা ৬০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা আশা করছি ভারতের এ সিদ্ধান্তে নিউমার্কেট আবার প্রাণ ফিরে পাবে।’ তিনি এও বলেন, ‘বাংলাদেশিরা আমাদের কাছে মেহমান, তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আমরা চাই তারা নিশ্চিন্তে কলকাতায় আসুক।’ মারকুইস স্ট্রিট, টটি লেন, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, কিড স্ট্রিট, রয়েড স্ট্রিট, কলিন লেন, লিন্ডসে স্ট্রিটসহ নিউমার্কেট এলাকায় ছোটবড় মিলিয়ে থাকার হোটেলের সংখ্যা প্রায় শতাধিক, খাওয়ার হোটেলও নাই নাই করে ২০ থেকে ৩০টি, রয়েছে মানি এক্সচেঞ্জ, মোবাইল সিম, ফল, গার্মেন্টেসের দোকান। এ ছাড়াও সিএনজি থেকে হাতে টানা রিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী- বেশির ভাগটাই নির্ভর করে বাংলাদেশি পর্যটকের আনাগোনার ওপর। কিন্তু প্রতিবেশী দেশটিতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে পরিচিত কলকাতার নিউমার্কেট। পরিবহনের অফিস বদলে হয় পোশাকের দোকান, মরচে পড়ে বন্ধ হোটেলের তালাচাবিতে। মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমরা অনেক অসহায় অবস্থায় ছিলাম। সেই অবস্থা কাটতে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমরা যাতে আগের অবস্থানে পৌঁছাতে পারি।’
কলকাতার বিশিষ্ট দন্তচিকিৎসক সুমিত কুমার সাহা বলেন, ‘খুবই ভালো সিদ্ধান্তর জন্য আমি সাধুবাদ জানাই। এর ফলে দুই দেশের যেরকম সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে তেমনি বাণিজ্য বিশেষ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে, পর্যটন ক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী হবে। সে ক্ষেত্রে রাজ্য ও দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্তিশালী হবে।’