আমার এক ছোটভাই বলল, তেল নিয়ে মানুষ যে তেলেসমাতি শুরু করেছে, কী আর বলব। এটা মানা যায় না। সারা দুনিয়ায় তেল নিয়ে একটা টানাটানি চলছে, ঠিক আছে। তাই বলে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে হবে? আমি জানতে চাইলাম, কেন, কী হয়েছে? ছোটভাই বলল, কী হয়নি, তাই বলেন। একটা খবরে দেখলাম একজন নাকি পানির ট্যাংকি ভরে রেখেছে তেল দিয়ে। বোতল ভরা, কলসি ভরা, জগ ভরা এসব কাণ্ড-কারখানা তো আছেই। কেন ভাই, এসব কেন করতে হবে? আমি বললাম, কেন যে করতে হবে, এই প্রশ্নের উত্তর তারা নিজেরাও দিতে পারবে না। ছোটভাই বলল, আমি অন্য বুদ্ধি করেছি। আর বুদ্ধিটা বেশ কাজেও দিয়েছে। আমার পাশের বাসার এক ভদ্রলোক তেল জমাচ্ছিল। সে এখন সব তেল গোডাউন থেকে বের করে এলাকাবাসীর
মধ্যে বিতরণ করে দিচ্ছে। আমি বললাম, তুই আবার কী বুদ্ধি করলি? ছোটভাই বলল, আমি ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বললাম, তেলাপোকা তেল খুব ভালোবাসে। যার বাসায় যত তেল তার বাসায় তত তেলাপোকা! এইটুকু বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই লোকের দৌড়াদৌড়ি দেখে কে। মুহূর্তে গোডাউন ফাঁকা।
আমি বললাম, এসব ভুয়া খবর তাহলে ভালোই ছড়িয়েছিস। ছোটভাই বলল, গুজব তো ভাই আরেকটা ছড়িয়েছি। আমি জানতে চাইলাম সেটা কী রকম। ছোটভাই বলল, কৌশলে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যদি তেল যেখানে-সেখানে স্টক করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর সেই তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে জিনিসটা আর তেল থাকে না। শরবতের মতো কিছু একটা হয়ে যায়। তবে এই শরবত মানুষ খেতে পারে না। এই শরবত হয়ে যায় টিকটিকি আর তেলাপোকার খাবার। তারপর এই খাবার খাওয়ার জন্য টিকটিকি আর তেলাপোকা লাইন দেয়।
কী আর বলব ভাই, এই গুজব ছড়ানোর পর আমার পাশের বিল্ডিংয়ের এক বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমি বললাম, তোর কথা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। তেল একটা সময় গুণাগুণ হারিয়ে টিকটিকি তেলাপোকার খাবার হয়ে যাবে, টিকটিকি তেলাপোকারা সেটা খাওয়ার জন্য লাইন দেবে, এটা আর তেমন কী গুজব? এই গুজব কেউ কানে তোলে? ছোটভাই বলল, দেয় ভাই, দেয়। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, তেলের ওই অসাধু মজুতদার লোক নিজে ভয় পায় টিকটিকিকে, আর তার বউ ভয় পায় তেলাপোকাকে। এবার বাকিটা মিলিয়ে নেন।