শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মার্চ, ২০২১ ২২:২৩

বোয়িং বিমানের বাংলাদেশি ডিজাইনার

বোয়িং বিমানের বাংলাদেশি ডিজাইনার

বিমানে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা চারটি বিমান বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের নকশা ও তৈরিতে যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশি ডিজাইনার আরিফ রেজা। তাঁর নেতৃত্বে রয়েছে বোয়িংয়ের বিমান নকশা ও প্রকৌশলের বিশাল দল। বুয়েট থেকে পাস করা এই বাংলাদেশি তরুণ যুক্তরাষ্ট্রের সেরা এরোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রবাস জীবনে দারুণ অর্থকষ্ট মেটাতে দিনরাত কাজ করেছেন রেস্টুরেন্টে, মুদির দোকানে, টোয়িং কোম্পানিতে (গাড়ি টেনে নেওয়ার কাজ)। লড়াই করেছেন অধরা স্বপ্নকে ছুঁতে। বিমান বানানোর সেই স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়েছে। মেধাবী আরিফ রেজা আজ যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের সিনিয়র লিড। অত্যাধুনিক বিমান তৈরির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বে। লিখেছেন- তানভীর আহমেদ

 

ছোটবেলা থেকেই বিমানের প্রতি আমার আকর্ষণ কাজ করত। আমার সমস্ত চিন্তাজুড়ে ছিল বিমানের খুঁটিনাটি বিষয়। বুয়েট থেকে নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করি। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিমানের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার জন্য বেশি উদগ্রীব হয়ে উঠি। এরোস্পেসের মূল গন্তব্যই তো আমেরিকা। এখানকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করা যায়। বিমান কোম্পানিতে যারা আজ সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে তারাও আমেরিকার এমব্রি রিডেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। সবদিক বিবেচনা করে আমেরিকাতে স্কলারশিপের আবেদন করা হয়। ১৯৯৯ সালে আমেরিকার সবচেয়ে ভালো এরোস্পেস নিয়ে পড়াশোনা করার বিশ্ববিদ্যালয় এমব্রি রিডেল এরোন্যাটিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ মিলে যায়। এখানে সব স্টুডেন্টই যেন বিমান নিয়ে স্বপ্ন দেখে। তাদের শার্ট, মাথার ক্যাপ এমনকি পায়ের জুতাতেও প্লেনের ছবি লাগানো থাকে। আমি বুঝে গেলাম, আমার কাক্সিক্ষত জায়গায় চলে এসেছি। তাই আর দেরি না করে সেখানে ভর্তি হয়ে যাই। কিন্তু সেখানে পড়াশোনা করার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। তাই আমাকে চাকরিও করতে হয়েছে। চাকরি ও পড়াশোনা একসঙ্গে চলেছে। পড়াশোনার এই সময়টাতে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সময়ের স্বল্পতা। কারণ, এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে যথেষ্ট সময় দিতে হয়, আবার পড়াশোনা ও নিজের খরচের জন্য অর্থও উপার্জন করতে হয়। তাই চাকরি করতে হয়েছে রাত জেগে। প্রায় ১২ ঘণ্টা ছিল কাজের ব্যাপ্তি। আর দিনের বেলায় ক্লাস করতে হয়েছে। ক্লাসের পড়া তৈরি করতে হয়েছে কর্মস্থলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে। আসলে কারও যদি কোনো কাজের প্রতি একান্ত ইচ্ছা থাকে তাকে অবশ্যই এভাবেই কষ্ট স্বীকার করতে হয়। আমারও ছিল বিমানের প্রতি অত্যন্ত আকর্ষণ। তাই আমিও এভাবে দিনরাত পরিশ্রম করি। আমার চোখের নিচে কালি জমে গেছে। কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি তা নিজেরও জানা নেই। দিনের বেলায় বিশ্রাম করার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকায় অনেক সময় ক্লাসের ভিতর ঘুমিয়ে পড়তাম। শতকষ্ট হলেও আমি আমার লক্ষ্যকে ভুলিনি। তাই হয়তো সব বাধা ডিঙিয়ে আমার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে পেরেছি। এখানে ব্যাচেলর কোর্সটি তিন বছরে শেষ হয়। এরপর সেখানেই মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করি। আমার রেজাল্টও খুব ভালো ছিল। মাস্টার্স করার সময় আমি এমব্রি রিডেলের টিচার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও সেখানে ক্লাস নিয়েছি। কারণ ক্লাসে আমার উপস্থাপনায় কর্তৃপক্ষ খুবই খুশি ছিল। আমার পিছনে আমার প্রফেসরও মাঝে মাঝে বসে থাকতেন। আমি এমন অনেক স্টুডেন্টকে পড়িয়েছি যারা আজ অনেক ভালো ভালো অবস্থানে আছে। আমি জানি তারা খুব সৎ, কাজের প্রতি মনোযোগী এবং কর্মঠ। মাস্টার্স ডিগ্রি করার সময় ২০০৯ সালে বোয়িং আমাকে হায়ার করে। এখন আমিই সেখানে যাই বোয়িং থেকে রিক্রুট করতে। বোয়িংয়ে আমার প্রথম কাজ ছিল বোয়িং রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি। সেখানে অ্যাডভান্স স্টিমুলেশন অ্যান্ড টেকনোলজি টিমে কাজ করি। কিন্তু এ কাজটি আমার খুব বেশি পছন্দের ছিল না। তাই  প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চলে যাই। ওখানে গিয়ে আমি খুব তৃপ্তি নিয়ে কাজ শুরু করি। সেখান থেকে আমাকে  বোয়িং ৭৮৭-এর কাজে ইতালি পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার প্রমোশন নিয়ে অন্য একটি টিমে কাজ করি। বোয়িং চার্লসটন, বোয়িং সাউথ ক্যারোলিনা, বোয়িং লং বিচ প্রস্তুতে সাহায্য করি। এখন কাজ করছি ৭৭৭ এক্স-এ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর