প্রায় চার বছর আগের কথা। কাতার বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচের মুখোমুখি মরক্কো-কানাডা। সে সময় দুই দলের ফুটবল শক্তি নিয়ে আলোচনা ছিল খুব কমই। কানাডাকে ফুটবলের তৃতীয় সারির দলই বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে আফ্রিকার সেরা দলগুলোর বাইরে ছিল মরক্কোর নাম। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বরের ম্যাচ অনেক কিছু বদলে দেয়। মরক্কো ২-১ গোলে কানাডাকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। সেই বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলটি সেমিফাইনালে পৌঁছে বিস্মিত করে দেয় ফুটবল দুনিয়াকে।
এরপর কেটে গেছে প্রায় চার বছর। কানাডা নতুন রূপে নতুন এক স্বপ্ন বুকে ফুটবল বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে যে কয়টি দল চমক দেখিয়েছে, তাদের মধ্যে কানাডার নাম শীর্ষেই থাকবে। তৃতীয় সারির দল থেকে এক লাফে তারা অভিজাত ক্লাবে চলে এসেছে। নকআউট পর্বে একটা ম্যাচ জয় করার জন্য কোনো দলকে যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হয়। কানাডা সেই অপেক্ষাটা ঘুচিয়েছে অল্পতেই। স্বাগতিক হওয়ার মর্যাদাও রক্ষা করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে হারানোর পর কানাডাজুড়ে উৎসব করেছেন সমর্থকরা। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অর্জন নিয়ে এখনো উৎসব কমেনি দেশটিতে। এমনকি কানাডার জাতীয় দিবসের উৎসবেও ছিল এই জয়ের আমেজ।
কানাডা এখন নতুন লক্ষ্যে ছুটে চলা এক দল। যাদের সামনে সত্যি বলতে নির্দিষ্ট কোনো কিছু নেই। যতদূর যাওয়া যায়। আর এমন দলগুলোই হয় ভয়ংকর। কানাডা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে? গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক দেশটি খেলেছে সুইজারল্যান্ড, বসনিয়া এবং কাতারের সঙ্গে। বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। কাতারকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬-০ গোলে। সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হারলেও নিজেদের লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। এরপর নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের অন্যতম দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করা কানাডা কতটা ভয়ংকর হতে পারে মরক্কোর জন্য?
আফ্রিকার সেরা দল হিসেবে মরক্কোর নাম এখন নেওয়াই যায়। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছে তারা। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয় করেছে দলটি। বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিনিধি হয়ে এখনো টিকে আছে। কেবল তাই নয়, ফেবারিটের তালিকায় নিচের দিকে হলেও মরক্কোর নাম নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দলের পক্ষে কত কিছুই না করা সম্ভব! আশরাফ হাকিমি আর ইয়াসিন বোনোকেই এতদিন চিনত ফুটবল দুনিয়া। এবার ইসমাইল সাইবারি নিজেকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে এরই মধ্যে করেছেন তিনটি গোল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হাতে হাতেই পেয়ে গেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। মরক্কো এখন অনেক বড় দল ফুটবল দুনিয়ায়।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা-মরক্কো। ম্যাচটা জিতলেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বাদ পাবে কানাডা। অন্যদিকে মরক্কো জিতলে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কে জিতবে? বলা নিঃসন্দেহে কঠিন। বিশ্বকাপের এই ধাপে এসে যেকোনো ঘটনাই ঘটতে পারে। যেকোনো দলই হারিয়ে দিতে পারে যেকোনো দলকে। প্যারাগুয়ে যেমন বিদায় করেছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। মরক্কো যেমন বিদায় করেছে তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসকে।বিশ্বকাপ এখন শেষ ধাপে চলে এসেছে। এখন থেকে ফুটবল সমর্থকদের সামনে যেকোনো ঘটনাই আসতে পারে। প্রিয় দলগুলো বিদায় নিতে পারে। অনাকাক্সিক্ষত কোনো দল পৌঁছে যেতে পারে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। সেই দল কে হতে পারে? মরক্কো কি? নাকি কানাডার স্বপ্ন বাধা হয়ে দাঁড়াবে মরক্কোর পথে!