ক্যারিয়ারে প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন। অথচ তাকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। স্পেনের মুসলিম ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। অল্প বয়সেই তিনি ইউরোপিয়ান কাপ ও ইউরোপিয়ান লিগে খেলেই বিশ্বের নজর কেড়েছেন। যেমন গতি, তেমনি গোল করার দক্ষতা। স্পেনে তো তারকা বা অভিজ্ঞ ফুটবলারের অভাব নেই। তারপরও ইয়ামাল আলাদাভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকরাই বলছেন, মেসি ও রোনালদো অবসরে যাওয়ার পর তিনিই হবেন মহাতারকা। বিশ্বকাপের আগেই যখন তাকে ঘিরে এত আলোচনা তখন তো চোখ তার দিকে থাকবেই।
স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাব্য দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে ইয়ামালের ম্যাজিক্যাল খেলাটাই বড় কারণ বলা হচ্ছে। মেসি, এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, ভিনিসাস বা হল্যান্ডের দিকে চোখ থাকলেও ইয়ামাল যে আলাদা দৃষ্টি কাড়ছেন তাতে সন্দেহ নেই। কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামলেও তার গতি দেখে দর্শকরা অবাক। কত যে আক্রমণ করেছেন তা হিসেব নেই। দুর্ভাগ্য ম্যাচটি জেতা হয়নি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদির বিপক্ষে তিনি গোল পান।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা একটিই। গোল একটি হলেও ইয়ামানের গতি সামাল দিতে প্রতিপক্ষরা বেসামাল। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচেও গোল নেই ১৮ বছর বয়সি এ তরুণ ফুটবলারের। সতীর্থ মিকেল ওইয়ার জাবান জোড়া গোল করে ইতিহাসও গড়েছেন। কেননা নকআউট পর্বে এর আগে স্পেনের কেউ জোড়া গোল করেননি। তারপরও সব ছাপিয়ে আলোচনাটা ইয়ামালকে ঘিরেই। কারণ একপেশে ম্যাচ অস্ট্রিয়াকে তছনছ করার পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন ইয়ামালই। আক্রমণ আরও আক্রমণ, যার কারিগর ইয়ামাল।
ইয়ামালের আক্রমণই স্পেন উজ্জীবিত। তবে তিনি নাকি এখন পর্যন্ত আসল কাজটিই দেখাতে পারেননি। স্প্যানিশ কোচ লাফয়েন্তে শিষ্যকে নিয়ে এমন মন্তব্যটা করেছেন। তাঁর কথা ‘অপেক্ষায় থাকুন, দেখুন আমাদের ইয়ামালকে।’ চলতি মাসেই ইয়ামাল ১৯ বছরে পা দেবেন। তার জন্মদিনটা কোন উৎসবে হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।