নগর ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে ডিজিটাল সেবার ওপর জোর দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নসহ বেশ কিছু সেবা এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে বাস্তবে এসব সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং সেবার গতি বাড়াতে গত কয়েক বছরে একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন, ই-ট্যাক্স পেমেন্ট, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন অন্যতম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এতে সময় ও খরচ দুটিই কমেছে।
তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক নাগরিক জানান, অনলাইনে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত কাগজপত্র যাচাই বা অনুমোদনের জন্য অফিসে যেতে হয়। এতে ডিজিটাল সেবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাগজ জমা দিতে ও স্বাক্ষরের জন্য সিটি করপোরেশনে যেতে হয়েছে। এতে সময় বাঁচেনি।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে যাওয়া এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন করা গেলেও ফি জমা ও অনুমোদনের জন্য সরাসরি অফিসে যেতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটা এখনো অফলাইন নির্ভর।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সেবা কার্যকর করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ থাকতে হবে। আংশিক ডিজিটালাইজেশন নাগরিক ভোগান্তি কমাতে পারে না। স্থানীয় আইটি বিশেষজ্ঞ খাজা খালিদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস, সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। নয়তো সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে সব সেবা পুরোপুরি অনলাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অনেক সেবা ডিজিটাল হয়েছে, বাকিগুলোও শিগগিরই যুক্ত হবে।’