Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০

অযত্নে ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী

অযত্নে ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী

ভাওয়াল রাজবাড়ী। একদা ভাওয়াল রাজবাড়ী আজকে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এই ভবনটি আজও গাজীপুরবাসী তো বটেই, এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ভাওয়াল রাজপরিবারের এক অনন্য স্মারক নিদর্শন। ভাওয়াল রাজপরিবারের স্মৃতিবিজড়িত রাজবাড়ী একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজা-গাজীদের স্মৃতিচিহ্ন প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন ভাওয়াল রাজবাড়ী। সচেতন সবার দাবি দৃষ্টিনন্দন এ রাজবাড়ীটি অবিলম্বে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে একে আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা। জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, ভাওয়াল রাজবাড়ী নির্মাণ শুরু করেন লোক নারায়ণ রায় আর সমাপ্তি টানেন রাজা কালী নারায়ণ রায়। এটি একটি বিশাল আকারের ও অক্ষত রাজ প্রাসাদ। প্রায় ১৫ একর জমির উপরে এর মূল প্রাসাদ বিদ্যমান। ভূমি পরিকল্পনায় এটি অনিয়মিত আকারে তৈরি। এতে ছোট বড় মিলে ৩৬৫টি কক্ষ রয়েছে। উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত এর দৈর্ঘ্য ৪০০ ফুট এবং ত্রিতল বিশিষ্ট পরিকল্পনায় নির্মিত। দক্ষিণ দিকে মূল প্রবেশ দ্বার। প্রবেশ দ্বারটি বর্গাকার এবং এর চার কোণে ৪টি গোলাকার স্তম্ভ স্থাপন করে উপরে ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবেশ পথের কামরার এক দিকের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং প্রবেশ দ্বারের পরে একটি প্রশস্ত বারান্দা রয়েছে, এর পর হল ঘর। হল ঘরের পূর্ব ও পশ্চিমে ৩টি করে বসার কক্ষ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শাল কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়। সম্মুখ ভাগের এই অংশ পরিচিত বড় দালান হিসেবে। ইউরোপীয় অতিথিদের জন্য বরাদ্দ ছিল। এই বড় দালানের পেছনে ছিল ১০০ বর্গ ফুটের একটি খোলা প্রাঙ্গণ। প্রাঙ্গণের তিন দিক পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে ছিল আবাসনের জন্য নির্মিত বারান্দাযুক্ত কক্ষ। বারান্দা ছিল কক্ষসমূহের দিকে উন্মুক্ত এবং বারান্দাগুলোতে করিন্থিয়াস স্তম্ভের ওপর অর্ধবৃত্তাকার খিলান স্থাপন করা হয়েছিল। উপরে ফাঁকা লম্বাটে নকশা, স্তম্ভে ফুল, লতা ও লম্বা টানা নকশা ছিল। উত্তর প্রাঙ্গণের পুরো অংশজুড়ে ছিল 'নাটমন্দির' যা উৎসবের কাজে ব্যবহৃত হত। রাজবাড়ীর মধ্যে পশ্চিমাংশের (রাজদিঘির সংলগ্ন) দ্বিতল ভবনাংশের নাম 'রাজবিলাস' নিচে রাজার বিশ্রামের কক্ষ 'হাওয়া মহল' নামে পরিচিত ছিল। মধ্যের একটি দক্ষিণ দিক খোলা খিলানযুক্ত উন্মুক্ত কক্ষের নাম ছিল 'পদ্ম নাভি'। এই অংশের কিছু পশ্চাতে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত আবাসিক ভবন রয়েছে। এই অংশটিকে রানীমহল অথবা বলা হয় অন্দরমহল। রানীমহলও দ্বিতল বিশিষ্ট করে নির্মিত। তবে এখানকার বিশেষ বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অর্ধবৃত্তাকার ব্যালকনি। একে হাওয়াই বারান্দা হিসেবে নির্মাণ করা হয়। এই অংশটি এই রাজপ্রাসাদের পশ্চিম সীমানায় যেখানে নিচু প্রাচীর ও ২০০ ফুট প্রশস্ত দিঘি আজও রয়েছে। দিঘিটি প্রাসাদের সুরক্ষা ব্যবস্থারই একটি অংশ। পশ্চিম পাশে ছিল বিশাল ঘাট। ১৮৮৭ সালে ও ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে রাজবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর রাজবিলাসসহ অন্যান্য ইমারত পুনর্নির্মিত হয়। রাজেন্দ নারায়ণ রায় তা সংস্কার করেন। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ মহুকুমা থেকে গাজীপুর জেলা হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও জেলার প্রশাসনিক ভবন ভাওয়াল রাজবাড়ীতে রয়ে যায়। আলাদা প্রশাসনিক ভবন না থাকায় জেলা কালেক্টরেট ভবন হিসেবে ভাওয়াল জমিদারবাড়ী বা রাজবাড়ীটি প্রতি বছর সংস্কারের ফলে প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শনের সেই শাশ্বত রূপ প্রতিনিয়তই বিকৃত হচ্ছে। ঘরের ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে জলছাদ করা হয়েছে। বারান্দার অনেক রেলিং ভেঙে গেছে বা খোয়া গেছে। দোতলায় উঠার মেহগনি কাঠের সিঁড়িতে প্রাচীনত্বের ছাপ লেগেছে। ঘরের আসবাবপত্র এখন আর একটিও নেই। এ রাজবংশ ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার পর থেকেই ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রের অনেকগুলোই লোপাট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যা ছিল সেগুলো নিলাম করে বিক্রি করা হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহসীন বলেন, সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ ভাওয়াল রাজবাড়ীর মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে এর অভ্যন্তরে ছোট ছোট পরিবর্তন করা হয়েছে যেটা সংরক্ষণকালে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানান্তরের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খায়রুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি।

 

 


আপনার মন্তব্য

Works on any devices

সম্পাদক : নঈম নিজাম

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট নং-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট নং-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : পিএবিএক্স-০৯৬১২১২০০০০, ৮৪৩২৩৬১-৩, ফ্যাক্স : বার্তা-৮৪৩২৩৬৪, ফ্যাক্স : বিজ্ঞাপন-৮৪৩২৩৬৫।

E-mail : [email protected] ,  [email protected]

Copyright © 2015-2019 bd-pratidin.com