শিরোনাম
শনিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা

বিশ্বের যত জনবহুল শহর

তানিয়া জামান ও সাইফ ইমন

বিশ্বের যত জনবহুল শহর

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ বসবাস করে শহরে। ১৯৫০ সালে এই হার ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। দিন দিন শহরমুখী মানুষের ঢল বাড়ছেই। ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যার হার অন্তত ৬৬ শতাংশ হবে। প্রয়োজনের তাগিদেই বাড়ছে শহর। গড়ে উঠছে  মেগাশহর। আধুনিক নাগরিক জীবনের সুবিধা পেতে লাখ লাখ মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। জাতিসংঘের এক তালিকায় উঠে এসেছে পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল শহরগুলোর নাম। এ তালিকায় ঢাকা শহর রয়েছে ১১ নম্বরে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর নিয়ে আজকের রকমারি—

 

টোকিও [জাপান]

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনবহুল শহর জাপানের রাজধানী টোকিও। এই শহরের বর্তমান জনসংখ্যা ৩ কোটি ৮০ লাখ। অবশ্য বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা গিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ১৯৯০ সালে শরহটির জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২৫ লাখের কিছু বেশি। শহরটির আয়তন ৮৪৫ বর্গ মাইল। এখানে গড় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শহরটিকে বিশ্বের ব্যস্ততম শহরও বলা হয়। অত্যাধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মিশেলে চলে এখানকার জীবন ব্যবস্থা। এখানে আকাশচুম্বী ভবনও যেমন দেখতে পাবেন আবার ঐতিহাসিক চিহ্ন বহনকারী মন্দিরের দেখাও পাবেন। মিইজি শিন্টো মাজারটি তার অতি উচ্চ গেট আর তাকে ঘিরে রাখা কাঠের বেড়ার জন্য বিখ্যাত। ইম্পেরিয়াল প্যালেসটি অবস্থিত বিশাল উন্মুক্ত বাগানের ভিতর। শহরটিতে তিনটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল আছে। শহরটির জাদুঘরগুলোতে ক্লাসিক্যাল আর্ট, থিয়েটার প্রদর্শন করা হয়। টোকিও গ্লোবাল ইকোনমিক পাওয়ার সূচকে প্রথম স্থান এবং গ্লোবাল সিটির সূচকে চতুর্থ।

টোকিও শহরটি নিরাপত্তার দিক থেকেও বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী। পড়াশোনায় এ দেশের ছেলেমেয়েদের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।

 

ঢাকা [বাংলাদেশ]

দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরের তালিকায় ১১তম স্থানটি দখল করেছে ঢাকা। ২০১৪ সালে শহরটির জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে এর সংখ্যা ছিল ৯৮ লাখের মতো। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউশন পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকা হবে বিশ্বের তৃতীয় জনসংখ্যাবহুল শহর। ওই সময় এর জনসংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটি ৫২ লাখ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ইতিমধ্যে রাজধানীবাসী অনুভব করতে শুরু করেছে। তীব্র যানজট আর জলাবদ্ধতায় প্রায়ই শহরবাসীকে নাকাল করে ফেলে। এখানকার গড় তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এত দূরাশার মাঝেও দ্রুত নগরায়ণ চলছে। মনোরম সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সংসদ ভবন। শহরটি মূলত সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সতেরো শতকের মুঘল রাজধানী এবং কারুকার্যময় বহু মসজিদ আছে পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। নানা ধর্মের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে শহরটিতে। প্রতি বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বর্ষাবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে।

 

দিল্লি [ভারত]

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহরের তালিকায় নাম রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দিল্লির জনসংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশি। দিল্লির বর্তমান জনসংখ্যা দুই কোটি ৫০ লাখের মতো। জাতিসংঘের ২০১৪ সালের ওয়ার্ল্ভ্র আরবানাইজেশন প্রসপেক্টাস রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে ভারতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা সর্বাধিক হবে। এমনকি জনসংখ্যার দিক থেকে চিনকেও পেছনেও ফেলতে পারে। পৃথিবীর দ্ব্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর হিসেবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দিল্লির দখলে থাকবে। দিল্লির আনুমানিক জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন কোটি ৬০ লাখে। ভারতের উত্তরাঞ্চলের একটি বৃহদায়তন মেট্রোপলিটন এলাকাজুড়ে দিল্লির অবস্থান। আয়তন ২২ হাজার ৫২২ বর্গমাইল। রাজধানীর আয়তন ৫৭৩ বর্গ মাইল। পুরাতন দিল্লির ঐতিহ্য হিসেবে ১৬০০ সালে মুঘল যুগে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতীক হিসেবে অক্ষুণ্ন রয়েছে লাল দুর্গ। একসঙ্গে ২৫ হাজার লোক ধারণের ক্ষমতা থাকায় দিল্লির জামে মসজিদ বিখ্যাত। এ ছাড়াও শহরটির চাঁদনি চক মজাদার খাবার, মিষ্টি এবং মুখোরোচক অন্যান্য খাবারের জন্য বিখ্যাত।

 

নিউ ইয়র্ক [আমেরিকা]

আমেরিকার সর্বাপেক্ষা জনবহুল শহর ‘নেভার স্লিপিং সিটি’ নিউ ইয়র্ক। এখানে বাস করে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার মানুষ। তালিকায় এর অবস্থান ৯। নিউ ইয়র্ক শহর পোতাশ্র দিয়ে আমেরিকায় এসে বসতি স্থাপন করেছিল লাখ লাখ অভিবাসী বা বহিরাগত! নিউ ইয়র্ক রাজ্যের রাজধানী নিউ ইয়র্ক সিটি ঘুরতে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ কোটি পর্যটক এখানে আসেন এবং শুধু ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ দর্শন করতেই আসেন বছরে প্রায় দুই কোটি দর্শনার্থী। শিক্ষা, শিল্পকলা, গণমাধ্যম, ফ্যাশন, টেকনোলজি, রিসার্স, বিনোদন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক অবস্থা-সমস্ত দিক থেকেই বিশ্বের দরবারে যে কটি শহরের নাম সবার আগে তার মধ্যে এই নিউ ইয়র্ক সিটি উল্লেখযোগ্য। বণিজ্যিক কারণও রয়েছে। কারণ এখানে আছে গ্লোবাল পাওয়ার সিটি নিউ ইয়র্ক, ব্রুঙ্কলিন ব্রিজ, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, টাইমস স্কয়ার, ওয়ালস্ট্রিট, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইত্যাদি। নিউ ইয়র্কের আধিকাংশ স্থাপনায় তাকালেই আশপাশে বোজ শিল্পরীতির রাজকীয় বৈশিষ্ট্যের। সব মিলিয়ে আমেরিকার বৃহত্তম আর রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম নিউ ইয়র্ক শহর সব মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল আশা পূরণের হাতছানি।

 

কায়রো [মিসর]

বিশ্বের দশম জনবহুল শহর কায়রো, মিসরের রাজধানী। প্রাচীনকাল থেকেই এই শহরে মানুষ বসবাস শুরু করে। নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা এই শহরের সূচনা হয় একেবারে প্রস্তর যুগে। জলপথে যোগাযোগ স্থাপনের সুবিধার্থে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে এ অঞ্চলটি। কিন্তু এটি সত্যিকারের উন্নতির মুখ দেখে প্রথম ফারাও মেনেস এর সময়ে। বিংশ শতাব্দীতে এসে সেতু এবং বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় কায়রোতে। এত সব উন্নতির কারণে এ নগরীর জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৯২৭ সালের মাথায় এক মিলিয়ন হয়ে যায়। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ১৯ হাজার মানুষ বাস করে। 

১৯৫২ সালে মিসরীয় বিপ্লবের সময়ে কায়রো এবং পুরো মিসরেই ঔপনিবেশিক শক্তির পতন ঘটে। এর পর থেকেই মিসরের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মিসরীয়রা কায়রোতে চলে আসতে শুরু করে। এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলাতেই কায়রোকে আরও বড় করে তোলা হয় এবং নগরীতে পুরনো কায়রো এবং নতুন কায়রো এ দুই অংশের মাঝে পার্থক্য প্রকট হয়ে ওঠে। নতুন কায়রোর অংশ হিসেবে রয়েছে নাসর সিটি, মুকাত্তাম সিটি এবং ইঞ্জিনিয়ার্স সিটি।

 

সাংহাই [চীন]

বিশ্বের তৃতীয় জনবহুল শহরের তালিকায় নাম রয়েছে চীনের সাংহাই। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ সাংহাইয়ের জনসংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখের মতো। ১৯৯০ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ৭৮ লক্ষ ২৩ হাজারের কিছু বেশি। চীনের সবচেয়ে বড় শহর সাংহাই গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল হাব হিসেবেও পরিচিত। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার সূচিতে ২০১৬ সালে সাংহাইয়ের অবস্থান ছিল ১৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর এটি। ২০০৯ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানে ৭৮৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার ১৭০টি বৈদেশিক অর্থায়নে গড়া। গত বছর সাংহাই স্টক এক্সেঞ্জ বিশ্ব শেয়ারবাজারে তৃতীয় স্থান লাভ করে এবং ব্যবসার দিক দিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আসে। শহরটির হৃদয় গহ্বরে একটি নদী আছে। নদীর তীর দিয়ে গড়ে উঠেছে জনবসতি। বৃহৎ প্রশাসনিক, বন্দরনগরী এবং ব্যবসায়িক শহর হিসেবে সাংহাইয়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে উনিশ শতকের প্রথম দিকেই। এরপর উনিশ শতকের মাঝামাঝি সমাজতান্ত্রিকতা বিস্তার লাভ করলে সেখানে অধিক দক্ষ জনবল গঠন সম্ভব হয়। এখানে বার্ষিক গড় উচ্চ তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও গড় নিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

মেক্সিকো সিটি [মেক্সিকো]

বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল শহর মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ মেক্সিকোর জনসংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখের মতো। ১৯৯০ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ। মেক্সিকোর মধ্যে এ শহরটি সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ধারণ করে। শহরটির আয়তন ১ হাজার ৪৮৫ বর্গ কিলোমিটার। দেশটি গণপ্রজাতন্ত্রী শাসনে পরিচালিত হয়। ২০১১ সালে মেক্সিকো সিটির জিডিপিতে যোগ হয় ৪১১ বিলিয়ন ডলার। গোছালো শহর মেক্সিকো সিটি রচনা হয় নেটিভ আমেরিকানদের হাতে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মেক্সিকো শহরের প্রাইভেট হসপিটালগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। জাতীয়ভাবেও শহরের জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ল্যাটিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে মেক্সিকো সিটি পরিচিত। ঐতিহ্য আর ইতিহাসের ছোঁয়া পাবেন শহরের প্রতিটি প্রান্তে। শহরের বসবাসরত নাগরিকের ৬৫ শতাংশ নেটিভ আমেরিকান, ৩১ শতাংশ ইউরোপিয়ান এবং ৩ শতাংশ আফ্রিকান। মেক্সিকো সিটিটি অভিবাসন প্রার্থীদের প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবেও ধরা হয়। জনগণের ৮২ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক। শহরে যান চলাচলে রয়েছে উন্নত মেট্রো লাইন। প্রতিদিন ৪.৪ মিলিয়ন লোক চলাচলের এই মেট্রো সিস্টেম বিশ্বের মধ্যে অষ্টম ব্যস্ততম। যাত্রীরা সবচেয়ে কম ভাড়ায় চলাচল করে এই শহরে। ২০১৬ সালে শহরটিতে নতুন আরও অনেক বাস চলাচলের রাস্তা যোগ হয়েছে।

 

সাও পাওলো [ব্রাজিল]

সাও পাওলো শহরটি ব্রাজিলের সবচেয়ে জনবহুল ও বিশ্বে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী শহরটির লোকসংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজারের মতো। ব্যবসার শহর হিসেবে শহরটির সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। এ ছাড়াও এখানে অসংখ্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১৯২৯ সালেই এই সাও পাওলোতে গগণচুম্বী ভবন দেখা মেলে। ল্যাটিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ হ্যামশায়ারের বৃহৎ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ শহর ব্রাজিলের সাও পাওলো। ডিজিপিতে সমৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। অভিবাসন প্রদানেও শহরটি বেশ উদার। ১৯৩০ সাল থেকে এখানে লোকজন এসে ভিড় জমাতে থাকে। শহরে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী আছে ৫৮.২০ শতাংশ। কট্টরপন্থি আছে ২২.১১ শতাংশ  এ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোক আছে। সাও পাওলোতে পর্তুগিজ ভাষায় বেশির ভাগ মানুষ কথা বলে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই সাও পাওলো ল্যাটিন আমেরিকার বৃহৎ অর্থনৈতিক শহরে পরিণত হয়। দুই বিশ্বযুদ্ধে কিছুটা ধস নামলেও পরবর্তীতে কফি রপ্তানি করে অর্থনীতিতে উন্নতি করে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে। এ ছাড়া বিলাসদ্রব্য  তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

 

ওসাকা [জাপান]

টোকিওর পাশাপাশি জাপানের ওসাকা শহরও অবস্থান করছে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহরের তালিকার শীর্ষে। প্রায় ২ কোটি ১২ লাখ ৩  মানুষ বাস করে এই শহরে। জনসাধারণের বসবাসের জন্য জাপান নিরাপদ জায়গা। এ জন্যই হয়তো ওসাকায় এত মানুষের বসবাস। তা ছাড়া ওসাকা জাপানের বাণিজ্যিক শহর হিসেবেও পরিচিত। মেটাল, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক উৎপাদন শিল্পের জন্য ওসাকা বিখ্যাত। হোন সু দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত এবং ওসাকা উপসাগরের সঙ্গে সম্মুখীন, প্রাচীনকালে ছিল কিয়োটোর বহির্বন্দর। কিয়োটো, কোবে নগর যথাক্রমে কেইহান শিন হিসেবে পরিচিত। পশ্চিম জাপান, কিনকি অঞ্চল, কেইহান শিন এবং ওসাকার প্রশাসন, শিল্প, সংস্কৃতি, যোগাযোগ কেন্দ্র ওসাকা প্রিফেকচারের অধীনে অন্তর্ভুক্ত। শহরটির বেশির ভাগ মানুষই ঘরে ফেরে অনেক রাত করে।

এ কারণেই দিনে হোক আর রাতই হোক সব সময় স্টেশনগুলো মানুষে সরগরম থাকে। এখানকার মানুষজন অনেক বন্ধুপরায়ণ। সেরা দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে ওসাকা ক্যাস্টেল, ইউনিভার্সাল স্টুডিও জাপান ইত্যাদি।

 

বেইজিং [চীন]

পৃথিবীর একটি ঝকঝকে শহরের নাম বেইজিং। প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস করে চীনের বেইজিং প্রথম দর্শনে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। চীনাদের আয় উন্নতি যে যথেষ্ট হয়েছে তার ছাপ সর্বত্র। একসময় বেইজিং ছিল বাইসাইকেলের শহর বলে পরিচিত ছিল। সে সময় এটিই ছিল একমাত্র সমাজতান্ত্রিক বাহন। ওয়াং ফু চিং সড়কই বেইজিংয়ের প্রাচীনতম শহর, যুগে যুগে তার চেহারাটা পালটেছে।

এই সড়কের ওপরই বেইজিংয়ের বিখ্যাত ক্যাপিটাল থিয়েটারের প্রাচীন ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। অদূরেই বিখ্যাত চায়না আর্ট গ্যালারি। বেইজিং বর্তমানে আধুনিক নগরী।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিলিওনিয়ার বাস করে এই শহরে। সর্বত্রই আধুনিকতার ছোঁয়া। সমাজতন্ত্রের যুগে চীনাদের পোশাক-আশাক ফ্যাশনের কোনো বালাই না থাকলেও বর্তমানে চীনারা অনেক ফ্যাশন সচেতন। এই শহরে ছড়িয়ে আছে নানা প্রাচীন স্থাপনা। আবার আধুনিক যুগেও গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম স্থাপত্যকর্ম। সুপ্রাচীন রাজপ্রাসাদ ফরবিডেন সিটি, সামার প্যালেস, টেম্পল অব

হ্যাভেনের পাশাপাশি আরও তৈরি হয়েছে পাখির নীড় স্টেডিয়াম, ন্যাশনাল গ্র্যান্ড থিয়েটার, সিসিটিভি টাওয়ার ইত্যাদি। এখানে আগে কলোনি করে মানুষ বসবাস করত। কিন্তু এখন সেই কলোনি ভেঙে সব অত্যাধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে উঠেছে পুরো নগরজুড়ে।

এ শহরে বর্তমানে ১০০ বিলিওনিয়ার বাস করছে। এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনুকরণীয়। অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এখানে শিল্পকলার ক্ষেত্রেও ঘটেছে বিপ্লব।

 

মুম্বাই [ভারত]

প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ৪১ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস মোম্বাইতে। বিশ্বের জনবহুল শহর হিসেবে এর অবস্থান ৬। মুম্বাই মূলত বিনোদনের ও আনন্দ আয়োজনের শহর। বিশেষভাবে মুম্বাই ফিল্মস্টারদের শহর আবার ক্রিকেট স্টারদেরও শহর। পর্যটকদের কাছে মুম্বাই সর্বদা স্বর্গরাজ্য। মুম্বাইয়ের গেট অব ইন্ডিয়ার কাছেই পাঁচতারা হোটেল তাজ। মুম্বাইয়ের একটি মজার দিক হচ্ছে এখানকার শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিদিন ছবির শুটিং হয়। এই শহরের বান্দ্রা এলাকাতে ফিল্মস্টারদের বসবাস। অনেক ভারতীয় ক্রিকেট তারকারাও এই এলাকাতে বসবাস করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এখানে রয়েছে বান্দ্রা সমুদ্রসৈকত। আর বান্দ্রা সমুদ্রের সঙ্গেই বলিউড সুপার স্টার শাহরুখ খানের বিলাস বহুল বাসভবন। সাগরের তীরে মুম্বাই শহরের অর্থনৈতিক ক্ষেত্র অনেকটাই চলচ্চিত্র নির্ভর। মুম্বাইকে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে। দেশের সামগ্রিক জিডিপির ৫ শতাংশ আসে এই শহর থেকেই। দেশের সামগ্রিক কারখানা শ্রমিক নিয়োগের ১০ শতাংশ, শিল্পোৎপাদনের ২৫ শতাংশ, আয়কর সংগ্রহের ৩৩ শতাংশ মুম্বাই থেকে আসে। মুম্বাইয়ের মাথাপিছু আয় ভারতের গড় মাথাপিছু আয়ের তিন গুণ। ভৌগোলিক- ভাবেও মুম্বাই ভারতের সবচেয়ে বড় শহর।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর