Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মে, ২০১৯ ২৩:১৯

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রধান যত নদী

পৃথিবীর তিনভাগ জল, এক ভাগ স্থল। আর এই বিশাল জলরাশির একটি বড় অংশের ধারক পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রধান নদীগুলো। এসব নদী একটি দেশকে অন্য দেশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অনন্তকাল ধরে দূর-দূরান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এই নদী। প্রধান এই নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা সভ্যতা। মানব সভ্যতার উত্তরণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ছাড়াও সভ্যতা ধ্বংসেরও কারণ হয়েছে কিছু নদী। আজকের রকমারি আয়োজনে থাকছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রধান যত নদী সম্পর্কে বিস্তারিত।

তানিয়া তুষ্টি

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রধান যত নদী

নীল নদ আফ্রিকা

দৈর্ঘ ৬ হাজার ৬৫০ কিমি প্রস্থ- ২.৮ কিমি

বিশ্বের দীর্ঘতম নদ নীল নদ অবস্থিত আফ্রিকা মহাদেশে। নীলের উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিসর পাড়ি দিয়ে প্রায় পুরোটায় মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মিসরের সভ্যতা প্রাচীনকাল থেকেই নীলের ওপর নির্ভরশীল। মিসরের জনসংখ্যার অধিকাংশ এবং বেশিরভাগ শহরের অবস্থান আসওয়ানের উত্তরে নীলনদের উপত্যকায় অবস্থিত। প্রাচীন মিসরের প্রায় সমস্ত সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এর তীরেই অবস্থিত। বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে নীলনদ ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে। নীলনদের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২.৮ কিলোমিটার। এই নদ বয়ে চলেছে ৩৪ লাখ বর্গকিলোমিটার অববাহিকায়। এর দুটি উপনদী রয়েছে। একটি শ্বেত নীল নদ অপরটি নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হৃদ অঞ্চল হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। এর সর্বদক্ষিণের উৎস হলো দক্ষিণ রুয়ান্ডাতে। সেখান থেকে উত্তর দিকে তাঞ্জানিয়া, লেক ভিক্টোরিয়া, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মধ্য দিয়ে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে।

নীলাভ নীল নদ ইথিওপিয়ার তানা হৃদ হতে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে। এর দুটি উপনদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিকটে মিলিত হয়েছে। এই নদীটি বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। যেমনÑ পৃথিবীর সব নদ-নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হলেও নীল নদ দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত হয়। এই বৈশিষ্ট্য অবশ্য পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সিন্ধু নদও ধারণ করে। এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে যখন পৃথিবীর অন্যান্য নদী শুকিয়ে যায় তখন নীল নদ পানিতে থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। আর নীল নদ যখন শুকিয়ে যায় তখন অন্যান্য নদী পানিতে পূর্ণ থাকে।  খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দে নীলের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় সভ্যতা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার বিস্তৃতি। নীল নদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছে ১০টি দেশ। সেগুলো- মিসর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডা। নীল নদ একদিকে যেমন মিসরকে করে তুলত শস্য-শ্যামলা, তেমনি বন্যার সময় ধারণ করত বিরাটাকার মূর্তি। সমস্ত ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যেত, বেড়ে যেত অসুখ-বিসুখ। এই নদীর তীরে ফলানো হতো প্রধান প্রধান শস্য যেমনÑ যব, রুটির জন্য গম এবং বিয়ারের জন্য বার্লি। কাপড় ও দড়ি তৈরির উপকরণ হিসেবে ফলানো হতো একজাতীয় শনগাছ। প্যাপিরাস নামক একটি গাছের চাষ হতো যার মূল খাওয়া যেত। উপরের অংশ দিয়ে তৈরি হতো মাদুর ও নৌকা আর বানানো হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম কাগজ। এগুলো স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানিও হতো।

আমাজন যুক্তরাষ্ট্র

দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার

পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন। তবে আয়তনের দিক থেকে এটি সবচেয়ে বড়। এর উৎপত্তিস্থল আন্দিজ পর্বতমালার ব্রাজিল অংশের নেভাদো মিসমি নামক চূড়া। আমাজন নদী দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পেরু, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। আমাজন নদী যে স্থানটিতে সাগরে গিয়ে মিশেছে সেখানে প্রতি সেকেন্ডে ৪.২ মিলিয়ন ঘন ফুট পানি পতিত হয়। অন্যান্য যে কোনো নদীর থেকে এর পানি ধারণক্ষমতাও অনেক। বর্ষা মৌসুমে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘন ফুট। পৃথিবীর সব নদী একত্রে যে পরিমাণ পানি সমুদ্রে ফেলছে আমাজন একাই তার প্রায় ২০ ভাগ পানি সমুদ্রে বহন করে। এ কারণেই আমাজনকে অনেক সময় ডাকা হয় ‘সাগরনদী’ নামে। এর প্রায় ১ হাজার ১০০টি উপনদী আছে যার প্রায় ১৭টির দৈর্ঘ্য ১ হাজার মাইলের বেশি। আমাজনের বেসিন হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পানি নিষ্কাশন বেসিন যা প্রায় ৭০ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত। ইউরোপীয়দের কাছে নদীটি শুরুতে মারুন নামে পরিচিত ছিল। পেরুভিয়ানরা এখনো সেই নামে চিনে থাকে। স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজরা নদীটিকে রিও আমাজনাস নামে ডাকে আর ইংরেজিতে একে বলা হয় আমাজন।

 

ইয়াংজি চীন

দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার

পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম নদী চীনের ইয়াংজি। নদীটি শুধু চীনা সভ্যতা গড়ে তুলতে নয়, চীনের আর্থ-সামাজিক টেকসই উন্নয়নেও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ইয়াংজি নদীর দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। ইয়াংজি নদীর অববাহিকার আয়তন ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার যা চীনের মোট আয়তনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। দেশটির ১৯টি প্রদেশ, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও কেন্দ্রশাসিত মহানগরের সঙ্গে ইয়াংজি নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এ ছাড়াও বেশকিছু নদী, হৃদ এবং বদ্বীপ সমতলভূমি ইয়াংজি নদীর অববাহিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় গোটা চীনের এক-তৃতীয়াংশ লোকের বসবাস। চীনের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যশস্য এই ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় উৎপাদন হয়। নদীর অববাহিকা থেকে চীন পেয়ে থাকে ৩৬.৫ শতাংশ জলসম্পদ ও ৪৮ শতাংশ ব্যবহার্য জলশক্তি সম্পদ। দেশটির ৫২.৫ শতাংশ নাব্য নদীপথ ও এক- তৃতীয়াংশ শহর রয়েছে ইয়াংজি নদীর অববাহিকায়। ইয়াংজি নদীর অববাহিকা চীনের প্রধান জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাঁটি। আন্তর্জাতিক বাজারে ইয়াংজি নদীর অববাহিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালানোর সামর্থ্য সবচেয়ে বেশি। এই নদীর অববাহিকা রণনৈতিক অবস্থানের দিক থেকেও অদ্বিতীয়। প্রাকৃতিক সামর্থ্যরে দিক থেকে নদীটি অতুলনীয়।

 

মিসিসিপি যুক্তরাষ্ট্র

দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ২৭০ কিলোমিটার

অজিবওয়ে শব্দ মিসি-জিবি থেকে এসেছে মিসিসিপি যার অর্থ ‘মহানদী’। এই নদীর সঙ্গে মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দীর্ঘতম নদী মিজুরি। দুই নদীর দৈর্ঘ্য একসঙ্গে হিসাব করলে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের চতুর্থ দীর্ঘতম নদী মিসিসিপি-মিজুরি। এর দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ২৭০ কিলোমিটার (৩ হাজার ৯০০ মাইল)। মিসিসিপির প্রধান শাখা ওহাইও নদী। উত্তর আমেরিকার ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যবস্থাপনার প্রধান সহায়ক মিসিসিপি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই নদীটি প্রবাহিত হয়েছে। এর ড্রেনেজ সিস্টেম এতটাই দীর্ঘ যে, তা কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃতিলাভ করেছে। এর মধ্যে আমেরিকার ৩১টি রাজ্য এবং কানাডার দুটি রাজ্য রয়েছে। মিসিসিপির তীর ঘেঁষে বসতি আছে আদিবাসী মার্কিনিদের। তাদের অধিকাংশের পেশা শিকার করা বা কৃষিকাজ। তবে ১৫০০ সালে নদীটির তীরে ইউরোপিয়ানদের অনুপ্রবেশ ঘটলে আদিবাসী মার্কিনিদের জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে নদীটির তীরে চাষাবাদ আর জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে, তা রীতিমতো পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। নদীটি নিউ স্পেন, নিউ ফ্রান্স এবং আমেরিকা আবিষ্কারের প্রথম দিকে নদীপথে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়তই নদীর তীরে গড়ে উঠছে নতুন শিল্প-কলকারখানা ও আবাসন প্রকল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩১টি রাষ্ট্রের পানি সরবরাহের কাজ করে এই নদী। ১৮২০ সালে এই নদীপথে বিখ্যাত বাষ্পচালিত নৌকায় বাণিজ্য চালু হয়।

হোয়াংহো চীন

দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৪৬৪ কিলোমিটার

চীনের হোয়াংহো নদীর পানিতে রয়েছে প্রচুর বালি। এই বালি মিশে পানিকে পুরোপুরি হলুদ দেখায়। আর হলুদ পানির কারণেই  নদীটির নাম হোয়াংহো। চীনা শব্দ হোয়াং অর্থ হলুদ আর হো অর্থ নদী।  হোয়াংহো নদীর অপর নাম হলো পীত নদী। কারণ নদীটি কুনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে পীত সাগরে পতিত হয়েছে। আর যতদূর জানা যায়, পীত সাগরের নামকরণও হয়েছিল তার হলুদ পানির কারণে। হোয়াংহো চীনের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘ নদী। এর উৎস চীনের ছিহাই-তিব্বতি মালভূমি। হোয়াংহো নদীটি চীনের ৯টি প্রদেশের মধ্য দিয়ে মোট ৫ হাজার ৪৬৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। প্রাচীন চীন প্রায়ই হোয়াংহো নদীর জন্য বন্যা প্লাবিত হতো। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নদীটি ২৬ বার নিজের গতিপথ বদলেছে। এর ফলে চীনের জনগণ  ভোগ করেছে অবর্ণনীয় দুঃখদুর্দশা। আর এই কারণেই হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, এ নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ চীনা সভ্যতা। হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় পশুচারণভূমি অত্যন্ত উর্বর ছিল। এ কারণে প্রায় চার হাজার বছর আগে হোয়াংহো নদীর দুই তীরে বেশ কিছু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস শুরু করে।

কঙ্গো কঙ্গো

দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ নদী পশ্চিম আফ্রিকার কঙ্গো নদী। এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। স্থানীয়ভাবে নদীটি জায়ারে নামেও পরিচিত। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোজুড়ে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। নদী অববাহিকার আয়তন ৩.৭ লাখ বর্গকিলোমিটার। কঙ্গো নদী অববাহিকায় কঙ্গো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পুরো এলাকা রয়েছে। এ ছাড়াও জাম্বিয়া, উত্তর অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন এবং তানজানিয়া অঞ্চলের অধিকাংশ অংশ এই নদীর অববাহিকার অন্তর্গত। আফ্রিকার এই নদী অববাহিকার জলবায়ু উষ্ণ আদ্র এবং ঘন বিষুব রেইনফরেস্ট রয়েছে। নদী অববাহিকায় অবিরাম বৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে এই অঞ্চলের বন অত্যন্ত ঘন সবুজ, চিরহরিৎ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। নদীটির সঙ্গে সংযুক্ত উপনদীগুলো দিয়ে নৌচলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সরাসরি ভূমিকা রাখে। অবাক করার বিষয় হলেও সত্য, কঙ্গোতে যে পরিমাণ পানি মজুদ রয়েছে তা বিশ্বের পানিসম্পদের ছয় ভাগের একভাগ।

আমুর চীন

দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৮৭৪ কিমি

পূর্ব মধ্য এশিয়ার একটি নদী আমুর। শিল্কা ও আর্গুন নদীর মিলিত স্রোতধারায় এর উৎপত্তি। আমুর নদী দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে রাশিয়া ও গণচীনে প্রায় ১ হাজার ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। এরপর এটি উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে নিকোলাইয়েভস্ক-না-আমুরে শহরের কাছে তাতার প্রণালিতে পতিত হয়েছে। আমুর নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার।  এটি বিশ্বের দীর্ঘতম নদীগুলোর একটি। এর প্রধান উপনদীগুলোর মধ্যে আছে জেয়া, সোঙ্গুয়া, উসসুরি এবং বুরেয়া। উপনদীগুলোর দৈর্ঘ্য এর সঙ্গে যোগ করলে আমুর নদীর মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ৪ হাজার ৪১৬ কিলোমিটার। সমগ্র আমুর নদীটিই নৌপরিবহনের উপযোগী। শিল্কা উপনদীটি রাশিয়ার স্রেতেন্সক শহর পর্যন্ত প্রবাহিত। শীতকালে ছয় মাস আমুর নদী নৌপরিবহনের উপযোগিতা হারায়। কারণ এ সময় নদীটি বরফাবৃত থাকে। নদীটি চীনে হেইলং জিয়াং নামে পরিচিত। অন্যদিকে আমুর তীরবর্তী প্রধান রুশ শহরগুলো হলো ব্লাগোভেশ্চেন্সক, খাবোরভস্ক, কোমসোমোলস্ক-না-আমুরে এবং নিকোলাইয়েভস্ক-না-আমুরে।

ভলগা রাশিয়া

দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৬৪৫ কিমি

ইউরোপের বৃহত্তম নদী ভলগা প্রবাহিত হয়েছে রাশিয়ার মধ্য দিয়ে। এটি রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম নদী। একে রাশিয়ার জাতীয় নদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মস্কোসহ রাশিয়ার বৃহত্তম ১১টি শহর ভলগা অববাহিকায় অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম জলাধারগুলোর অধিকাংশই এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। রাশিয়ান সাহিত্য ও রূপকথায় ভলগাকে ‘ভোলগা মাতুস্কা’ বা ভোলগা মা বলে আখ্যায়িত করা হয়। মস্কোর ভলগে পাহাড়ের উত্তর-পশ্চিমে ২২৫ মিটার উঁচুতে এর উৎপত্তি। ৩ হাজার ৬৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিশেছে কাসপিয়ান সাগরে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ভলগা নদীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে বছরে তিন মাস এই নদীর পানি জমে বরফ হয়ে যায়। ভলগা অঞ্চলের অববাহিকাটি ব্যাপকভাবে প্রটো-ইন্দো-ইউরোপীয় সভ্যতার উৎস হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়াও প্রথম শতাব্দীর খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দাস, হুন ও তুর্কি জনগণের বসবাস গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া ইতিহাসে নদীটির নাম রাহা হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। পশ্চিমা রাশিয়ান ও বুজানদের পূর্ব স্ল্যাভিক উপজাতিরও উত্থান ঘটে এই নদীর তীরে।

গঙ্গা ভারত

দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৫২৫ কিমি

ভারত-বাংলাদেশে প্রবাহিত একটি আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গা। এই নদী ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় নদী হিসেবে খ্যাত। এর দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার। গঙ্গার উৎপত্তিস্থল পশ্চিম হিমালয়ে ভারতের উত্তরাখ- রাজ্যে। জলপ্রবাহের ক্ষমতা অনুযায়ী এটি বিশ্বের প্রথম ২০টি নদীর একটি। গঙ্গা নদীর অববাহিকায় প্রায় ৪০ কোটি জনগণের বাস। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নদী অববাহিকা। এ অঞ্চলেই ইন্দো-আর্য সভ্যতা বহু শতাব্দী ধরে বিকাশ লাভ করছে। মূলত গঙ্গা দুটি উপনদী ভাগীরথী এবং অলকানন্দা থেকে সৃষ্ট। হিন্দু সংস্কৃতিতে ভাগীরথীকে মূল গঙ্গা হিসেবে মেনে নেওয়া হয় যদিও অলকানন্দা তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর নদী। গঙ্গার মূল উৎস হিমালয় পর্বতমালার প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মিটার উচ্চে অবস্থিত গঙ্গোত্রী হিমবাহ। গঙ্গোত্রী তীর্থস্থানটি গোমুখ থেকে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে অবস্থিত। গঙ্গার পানির উৎস অনেক ছোট নদী। এর মধ্যে ছয়টি দীর্ঘতম ধারা এবং গঙ্গার সঙ্গে তাদের সঙ্গমস্থলগুলোকে হিন্দুরা পবিত্র মনে করে। এই ছয়টি ধারা হলো অলকানন্দা, ধৌলীগঙ্গা, নন্দাকিনী, পিণ্ডার, মন্দাকিনী ও ভাগীরথী।


আপনার মন্তব্য