Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৬

মাঝ রাস্তায় যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা কি খুব কঠিন কাজ?

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

মাঝ রাস্তায় যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা কি খুব কঠিন কাজ?
ছবি : রোহেত রাজীব

৫ নভেম্বর সকাল ১০টা ৫০ মিনিট। আয়াত পরিবহন। ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৮০২৫। গন্তব্য কমলাপুর থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানা। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনের সড়কটিতে ঠায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করছে। বাসটি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকায় পেছনের অন্য যানবাহন সামনে যেতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। অথচ আয়াত পরিবহনের সামনে রাস্তা একেবারেই ফাঁকা। ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এভাবে যাত্রী ওঠানো-নামানোর প্রবণতা গোটা রাজধানীজুড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিটি মোড়ে যাত্রীর ভিড়। বাসগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল পার হয়েই যেখানে ইচ্ছা সেখানেই থেমে যাচ্ছে। এতে পেছনের গাড়িগুলো সামনে এগোতে পারছে না, নির্ধারিত সময়ে যতসংখ্যক গাড়ি সিগন্যাল পেরোনোর কথা তার সামান্যই কেবল যেতে পারে। ফলে পেছনে যানজট দীর্ঘ হয়, আর সামনে ফাঁকা পড়ে থাকে রাস্তা।

শিক্ষার্থী সামিয়া, মাহমুদাসহ বেশ কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় বাসের জন্য ফার্মগেট মূল সড়কে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেল। এদের কেউ যাবেন মহাখালী, কেউ বনানী, আবার কেউ উত্তরা। অথচ যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য সেখানে আছে বেশ বড়সড় একটি বাস বে। বাস বে ছেড়ে কেন তারা মূল সড়কে? জানতে চাইলে মাহমুদা বলেন, ‘বাস বেতে খুব কম বাসই দাঁড়ায়। রাস্তায় না দাঁড়ালে সারা দিন বাস বেতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, বাসায়, ইউনিভার্সিটিতে কিংবা অফিসে আর যেতে হবে না।’

গাড়ির একজন সহকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একই রুটে একের পর এক গাড়ি আসছে। আমার গাড়িকে অতিক্রম করে একই রুটের পেছনের গাড়ি সামনে চলে গেলে আমি আর যাত্রী ধরতে পারব না। তাই রাস্তার মাঝখানে গাড়ি রেখে (ব্যারিকেড দিয়ে) যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়; যেন পেছনের গাড়ি সামনে না যেতে পারে।’

সামনে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও পেছনে দীর্ঘ যানজটÑ এ দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়ে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে। বনানী থেকে উত্তরার দিকে যেতে খিলক্ষেতের অনেক আগেই প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট থাকে প্রতিদিন। কারণ খিলক্ষেতের যে অংশে বাস বে করা হয়েছে বাসগুলো সেখানে না দাঁড়িয়ে তার আগে মূল সড়কে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো চার লেনের সড়কটিকে সংকুচিত করে এক লেন বানিয়ে ফেলে। এর প্রভাবে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা এয়ারপোর্ট। উত্তরা-টঙ্গী-সাভার-গাজীপুর থেকে রামপুরা-মহাখালী-মিরপুর-ফার্মগেট-নিউমার্কেট অভিমুখী যানবাহনের নির্দিষ্ট কোনো স্টপেজ এখানে আছে কিনা কেউ জানাতে পারেননি। এ অবস্থায় যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে মহিলা, শিশু, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের। বাসচালকরা এখানে যত্রতত্র যাত্রী ওঠান-নামান। আবার পুলিশ সার্জেন্ট চোখে পড়লে মামলার ভয়ে দ্রুত সটকে পড়তে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান।

ঢাকার সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচলকারী এলাকার অন্যতম ফার্মগেট। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ফলে যানজট তীব্র হচ্ছে। ফার্মগেটে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে না থেমে বেশির ভাগ বাস থামছে মূল সড়কের ওপর। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে বাস থামার জন্য বাস বে করা হয়েছে। কিছু বাস সেখানে থামলেও বেশির ভাগই সিনেমা হলের আগে মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠায়-নামায়। একই চিত্র রাজধানীর অধিকাংশ সড়কের।

অন্যদিকে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সাভার, উত্তরা থেকে আসা গাড়িগুলো ফার্মগেটে যাতে যাত্রী ওঠাতে-নামাতে পারে সেজন্য ফুটওভার ব্রিজের নিচে দুটি বাস বে করা হয়েছে। কিন্তু দিনভর সেগুলো বলতে গেলে ফাঁকাই থাকে। যাত্রী ওঠানো-নামানো চলে মূল সড়কে। আর যাত্রীর জন্য ডাকাডাকি করতে থাকা বাসগুলো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পেছনের গাড়ির স্বাভাবিক গতি আটকে দেয়। এতে দেখা দেয় যানজট। একই পরিস্থিতি দেখা যায় উল্টো দিকের সড়কেও। খিলক্ষেত মোড়, বিশ্বরোড মোড়, জোয়ারসাহারা ও রেডিসন হোটেলের আগে, বনানীর কাকলি মোড়ে নিত্য যানজট দেখা যায় বাস বেতে না থেমে মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকাডাকি বা ওঠানো-নামানোর জন্য। এভাবে বিশৃঙ্খলভাবে যাত্রী ওঠানো-নামানো রাজধানীর যানজটের একটি প্রধান কারণ। কখনো কখনো সড়কের মাঝখানে বাস থামানো হয়। এ চিত্র শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বনানী, মহাখালী, সিটি কলেজের সামনে, সায়েন্সল্যাব মোড়, মালিবাগসহ প্রায় সব মোড়েই। কোথাও কোথাও ডিএমপির ‘এখানে বাস থামাবেন না, থামলেই রেকারিং’ লেখা সাইনবোর্ড বসানো আছে, কিন্তু এদিকে খেয়াল নেই কারও। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সামনেই ওঠানো-নামানো হচ্ছে যাত্রী।

রাজধানীর সড়কগুলোয় যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধে বাস বেগুলো করা হয়েছে এক যুগের বেশি আগে। কিন্তু এই সময়েও এগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আর এ বিষয়ে বাহিনীটির কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ার নয়। তাদের সামনেই বাস বে ছেড়ে মূল সড়কে চলে যাত্রী ওঠানো-নামানো। যেখানে সেখানে বাস থামানোর প্রবণতার জন্য চালকদের পাশাপাশি দায় আছে যাত্রীদেরও। তারা স্টপেজে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না, মোড়ে মোড়ে ভিড় করেন বাসের জন্য।


আপনার মন্তব্য