শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২০ ২১:৫২

করোনার কবল থেকে ফেরা স্নাইডারের গল্প

সাইফ ইমন

করোনার কবল থেকে ফেরা স্নাইডারের গল্প

করোনাভাইরাস হলো নিদুভাইরাস শ্রেণির করোনাভাইরদা পরিবারভুক্ত করোনাভাইরিনা উপগোত্রের একটি সংক্রমণ ভাইরাস প্রজাতি।

এ ভাইরাসের জিনোম নিজস্ব আরএনএ দিয়ে গঠিত। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৬ থেকে ৩২ কিলো বেস পেয়ারের মধ্যে হয়ে থাকে; যা এ ধরনের আরএনএ ভাইরাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ। করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন করোনা থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ মুকুট। কারণ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো। ভাইরাসের উপরিভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিন সংক্রামিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে। ভাইরাসটি ডাইমরফিজম রূপ প্রকাশ করে। ধারণা করা হয় প্রাণীর দেহ থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানবদেহে প্রবেশ করে। করোনাভাইরাসে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু চীনেই মারা গেছেন ৩ হাজার ১৭৬ জন। বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাবে, বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজারে। নতুন করে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ও কেনিয়ায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে ফিরে আসার সংখ্যাটা ৭২ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এলিজাবেথ স্নাইডার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে আবার তিনি সুস্থও হয়ে উঠেছেন। নিজের সেই গল্পই গত ৮ মার্চ তিনি শেয়ার করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে।

এলিজাবেথ স্নাইডারের ধারণা ছোটখাটো একটা হাউজ পার্টি থেকেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। সেখানে কেউই হাঁচি-কাশি দিচ্ছিল না, অসুস্থতার সামান্যতম নমুনাও দেখা যায়নি কারও মাঝে। তবে সেই পার্টিতে যারা এসেছিল, তাদের মাঝে ৪০ ভাগই শেষপর্যন্ত আক্রান্ত হয়। মিডিয়ার মাধ্যমে বারবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় এবং উপসর্গ দেখা দিয়েছে এমন যে কারও সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা হয়। এলিজাবেথ স্নাইডার বলেন, মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ছাড়া এ রোগ থেকে বাঁচার কোনো উপায়ই নেই। সেদিন যারা পার্টিতে এসেছিল, তাদের শতকরা ৪০ ভাগই তিন দিনের ভিতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের সবাই জ্বরে ভুগছিল। সবার উপসর্গও ছিল প্রায় কাছাকাছি ধরনের।

তবে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা কিংবা বয়সভেদে এ উপসর্গগুলোও ভিন্ন হয়ে থাকে। এলিজাবেথ স্নাইডারের পরিচিতদের মাঝে যারা এতে আক্রান্ত হয়েছিল। তাদের সবার বয়সই ছিল ৪০ থেকে ৫০ বছরের ভিতর। এলিজাবেথ স্নাইডারের বয়স ৩০-এর মাঝামাঝি। তিনি বলেন, আমাদের বেলায় উপসর্গের মাঝে ছিল মাথাব্যথা, জ্বর, শরীরে প্রচ- ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা এবং বেশ ক্লান্তি অনুভব করা।

আমার জ্বর প্রথম দিনই ১০৩ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকে। এরপর ধীরে ধীরে সেটা ১০০ ডিগ্রি এবং আরও কমে পরবর্তীতে ৯৯.৫ ডিগ্রিতে আসে। কয়েকজনের ডায়রিয়া হয়েছিল। একদিন আমার বমি বমি ভাবও হয়েছিল। জ্বর চলে যাওয়ার পর কারও আবার নাক বন্ধ, গলাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

আমাদের মাঝে কয়েকজনের কফ হয়েছিল। খুব অল্প কয়েকজনের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও দেখা দেয়। এলিজাবেথ স্নাইডার হাসপাতালে ভর্তি হননি। কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেই যেসব দেশে মানুষজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে তা না। এলিজাবেথ স্নাইডার বলেন, আমি ডাক্তারের কাছেও যাইনি, কারণ আমি নিজে নিজেই সেরে উঠছিলাম।

 

ভ্যাকসিন পরীক্ষা

মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখনো কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ইঁদুরের ওপর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছে লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজ। চলতি বছরের শেষে  লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিনটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে গবেষক পল ম্যাককে বলেছেন, ব্যাকটেরিয়া থেকে তার দল এ ভ্যাকসিন বের করেছে এবং ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ইঁদুরে ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়া দেখার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি নির্ধারণে তারা সক্ষম হবেন।


আপনার মন্তব্য