শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:২৪

বিশ্বসেরা থিম পার্ক

সাইফ ইমন

বিশ্বসেরা থিম পার্ক

সাধারণ পার্কের সঙ্গে থিম পার্কের পার্থক্য হচ্ছে এটি একটি থিম বা বিষয়বস্তুর ওপর তৈরি করা হয়। সেই থিমকে কেন্দ্র করে এর স্থাপনা এবং রাইডগুলো সাজানো হয়। থিম পার্ক বিস্তৃত জায়গাজুড়ে সাজানো হয়। নানা বয়সী দর্শকের কথা মাথায় রেখে এর বিনোদনগুলো সাজানো হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রথম থিম পার্কটি হচ্ছে ‘সান্তা ক্লজ ল্যান্ড’। যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে।  বিশ্বের সেরা কিছু থিম পার্ক নিয়ে আজকের রকমারি...

 

বসুন্ধরা সিটিতে টগি ওয়ার্ল্ড

শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত থাকে ৩৭ হাজার বর্গফুটের পার্কটি...

বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ইনডোর থিম পার্ক বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত টগি ওয়ার্ল্ড। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত থাকে ৩৭ হাজার বর্গফুটের পার্কটি। টগি ওয়ার্ল্ডে শিশুরা চড়তে পারে নাগরদোলায়, কেউ ঘোড়ার পিঠে, কেউ চালাতে পারে গাড়ি। নানান গেমে সময় কাটানোর সুযোগ তো রয়েছেই। পার্কটির অষ্টম ও নবম তলায় গেলে দেখা যাবে শিশুদের ভিড়ে টগি ওয়ার্ল্ড পরিপূর্ণ। টগি ওয়ার্ল্ডে তিন থেকে আট বছরের বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বিশেষ রাইডস। এর বাইরে বড়রাও যুক্ত হতে পারছেন বিভিন্ন গেমিংয়ে। পার্কটিতে নাগরদোলার মতো মিনি ফেরিস হুইল রয়েছে। আছে মিনি টাওয়ার। এ ছাড়া রয়েছে বাম্পার কার, লিটল প্লেনসহ ১৫টি আকর্ষণীয় রাইড, ৪৩টি গেম এবং কিডস ও ভিআইপি বোলিং। আছে ৫০ শিশু-কিশোরের ধারণক্ষমতার একটি পার্টি রুম। রয়েছে আকর্ষণীয় মাদার রুম। আছে সফট প্লে জোন, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। চার বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য রয়েছে টডলার প্লে জোন, যা শিশুদের খুবই পছন্দের। আরও দুর্দান্ত মজাদার সব রাইড রয়েছে এখানে। 

এখানে এলে বাচ্চারা বের হতে চায় না। মনের আনন্দে সব সময় খেলায় মেতে থাকে। নাদরদোলার মতো মিনি ফেরিস ওয়েলে দুলছে বাচ্চারা। অন্যদিকে মিনি টাওয়ার থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছে আবার আকাশে উঠছে। ‘টগি ওয়ার্ল্ড’-এ সবার নজর কেড়েছে জাইরোস্কোপ। মালয়েশিয়া ছাড়া বাংলাদেশের নিকটবর্তী কোনো দেশে এমন আকর্ষণীয় রাইডস আর নেই। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের একঘেয়েমি কাটাতে, সুস্থ বিনোদনের জন্য বাচ্চাদের এখানে আনছেন অনেকে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রেখে পার্কে যতœসহকারে দেখভাল করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত ইনডোর থিম পার্ক ‘টগি ওয়ার্ল্ড’ যেন শিশুদের আপন ভুবন হয়ে উঠেছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে টগি ওয়ার্ল্ডে চলছে বিশেষ ছাড়। প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঢোকা যাচ্ছে পার্কে। মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন খোলা। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোয় ৪০০ টাকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপভোগ করা যাবে যে কোনো রাইড।

সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে লাগবে ৫০০ টাকা। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে টগি ওয়ার্ল্ড। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত  সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

 

ডিজনি ওয়ার্ল্ড

ডিজনি ওয়ার্ল্ড যাকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় থিম পার্ক বলা হয়, বাচ্চাদের জন্য তা হলো স্বপ্নরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত এই থিম পার্ক। আগে থেকে বুক দিয়ে রাখলে আপনি এখানকার হোটেলগুলোতে রাত কাটাতে পারবেন। অরল্যান্ডোর বে-লেক ঘিরে এই ম্যাজিক কিংডমটি তৈরি হয়েছে বিখ্যাত কার্টুনিস্ট ওয়াল্ট ডিজনির প্ল্যান অনুসারে। পুরো পার্কটি বিভক্ত ছিল ছয়টি ভিন্ন ধরনের ল্যান্ড নিয়ে। মেইন স্ট্রিট, অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড, ফ্রন্টায়ার ল্যান্ড, লিবার্টি স্কয়ার, ফ্যান্টাসি ল্যান্ড এবং টুমরো ল্যান্ড। পার্কটির মেইন অ্যান্ট্রানস থেকে সুসজ্জিত ফেরির মাধ্যমে পার্কের মূল ফটকে গিয়ে পৌঁছা যায়। যখন মেইন স্ট্রিট দিয়ে হাঁটা শুরু করবেন ভীষণ সুন্দর সাজানো দুই পাশ যেন রূপকথার রাজ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে। ছোট ছোট দোকান, থিয়েটার, উঁচু ঘোড়ার গাড়ি, কোথাও দেখা যায় রাজকন্যা, কোথাওবা মিকি-মাউসের দল। বাচ্চারা এতেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে। যে কোনো মুহূর্তে শুরু হয়ে যেতে পারে ‘পার্টি আপ’ গান। আর গানের তালে প্যারেড। ডিজনি কার্টুনের যত চরিত্র আছে তারা সব নেচে গেয়ে সবাইকে স্বাগতম জানাবে। মেইন স্ট্রিট ধরে সোজা গেলে চোখে পড়বে সিনড্রেলা ক্যাসল। এর সামনে অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে স্টেজ শো দেখতে পাবেন। অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই ল্যান্ডটি সাজানো হয়েছে আফ্রিকা, মিডল ইস্টের ঐতিহ্য অনুসারে। এর জাংগল ক্রুজ এবং ম্যাজিক কার্পেট অব আলাদিন রাইডগুলো ভালো লাগবে নিশ্চিত। এরপর ফ্রন্টায়ার ল্যান্ড, লিবার্টি স্কয়ার, ফ্যান্টাসি ল্যান্ড এবং টুমোরো ল্যান্ড। বিগ থান্ডার মাউন্টেন, দ্য লিটল মারমেইড এবং অ্যাসট্রো অরবিটার এই রাইডগুলো বাচ্চারা খুব পছন্দ করেছিল। ম্যাজিক কিংডমের স্লোগান হলো- মোস্ট ম্যাজিক্যাল প্লেস অন আর্থ। সত্যিই যেন জাদুর রাজ্য, কিছুটা সময় পরপর যার রং-রূপ বদলায়। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় উইশেস ফায়ারওয়ার্কস, পুরো পার্ক তখন  অন্ধকারে ঢাকা থাকে।

 

মালয়েশিয়ার লেগোল্যান্ড থিম পার্ক

বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি মালয়েশিয়ার লেগোল্যান্ড। এটি একটি লেগো-থিমের ওয়াটার পার্ক ও হোটেল। একে বলা হয় ইউরোপের এক নম্বর আকর্ষণীয় কার্যকরী মার্লিন এন্টারটেনমেন্টস গ্রুপের একটি অংশ। শিশুদের কল্পনাকে একটি বাস্তবসম্মত রূপদানকারী এই লেগোল্যান্ড থিম পার্ক। মালয়েশিয়ায় সাতটি থিমযুক্ত এই পার্কে শুরু থেকেই বিনোদনের নানা উপকরণ লক্ষণীয়। স্থানটিতে তাৎক্ষণিক প্রবেশের জন্য অর্থের নিবন্ধন এবং লেগো খেলনা বিক্রয়কারী বড় দোকান রয়েছে। মিনিল্যান্ড বিভাগ হলো  লেগোল্যান্ডের কেন্দ্র। মিনিল্যান্ড হলো ১৭টি এশীয় দেশের বিখ্যাত দৃশ্যাবলির চমৎকার উপস্থাপনা। যেমন পেট্রোনাস টাওয়ার, তাজমহল, আঙ্কোরভাট,  কেএলআইএ বিমানবন্দর, মার্লিন স্ট্যাচু ইত্যাদি। এটি এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে, ক্ষুদ্রকায় মডেলগুলো প্রায় ৩ কোটি লেগো ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। লেগো প্রয়োগকৌশল আপনাকে উচ্চ-গতির রাইড উপভোগ করায়; যেমন টেকনিক টুইস্টার এবং প্রোজেক্ট এক্স। ইমাজিনেশন বিভাগে আপনার সৃজনশীলতার অবাধ ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি আপনাকে লেগোল্যান্ড ও সংযুক্ত এলাকার সুদূরপ্রসারী দৃশ্য পরিদর্শনের জন্য এক বৃত্তাকার গতিতে ঘুরিয়ে টাওয়ারটির চূড়ায় নিয়ে আসে। এই বিভাগের আরও অন্যান্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডুপ্লো এক্সপ্রেস ও কিডস পাওয়ার টাওয়ার। এই কিডস পাওয়ার টাওয়ার খুবই জনপ্রিয়। লেগো স্টুডিওতে ফোরডি প্রদর্শনীর আনন্দ উপভোগ করুন। প্রদর্শনীটি সাপ্তাহিক দিনগুলোতে ৪৫ মিনিট ধরে চলে কিন্তু সপ্তাহান্তে ও ছুটির দিনগুলোতে এই প্রদর্শনীর সময় কমিয়ে ২৫ মিনিট করে দেওয়া হয়। লেগো কিংডম বিভাগে কাল্পনিক এবং কিংবদন্তিমূলক ক্ষেত্রগুলো প্রদর্শিত হয়। রোলার কোস্টার রাইড উপভোগের জন্য ক্যাসেলে প্রবেশ করতে হবে। ল্যান্ড অফ অ্যাডভেঞ্চার বা রোমাঞ্চকর ভূমিতে, আগ্নেয়গিরির ওপর থেকে লস্ট কিংডমের ভা-ার বা আভাস দেখতে পাবেন। লেগো সিটিতে রেসকিউ অ্যাকাডেমি, লেগোল্যান্ড এক্সপ্রেস, বোটিং স্কুল ও লেগো সিটি বিমানবন্দর রয়েছে। লেগোল্যান্ড ওয়াটার পার্কে ২০টিরও বেশি স্লাইড রয়েছে এবং আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে জোকার সোকার, বিল্ড-এ-রা ফট ও লেগো ওয়েভ পুল। এই প্রাঙ্গণে সাত ধরনের রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও পানীয় পরিবেশিত হয়। এখানে মার্লিনের চ্যালেঞ্জে চড়তেও আপনার  ভালো লাগবে।

 

 

নিকেলডিয়ান ইউনিভার্স

বিশেষ এই পার্কটি তৈরি হয়েছে আমেরিকায়। পুরো নাম নিকেলডিয়ান ইউনিভার্স ইনডোর থিম পার্ক। ব্লুমিংটন, মিনেসোটায় এই থিম পার্কটির অবস্থান। মিনিয়েপোলিসের নিকটবর্তী নিকেলডিয়ান ইউনিভার্সিটি তিনটি কোটার, একটি বিশাল ফিরিস চাকা এবং অন্যান্য রোমাঞ্চকর এবং কিড্ডি রাইডের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ থিম পার্ক যা আপনাকে পরিতৃপ্ত করবে পরিপূর্ণভাবে। বিশেষ এই পার্কটিকে বলা হয় আমেরিকান ড্রিমস ইন নিউ জার্সি। বিনোদনের সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে এই ইনডোর থিম পার্কটিতে। তাই ইনডোর থিম পার্কগুলোর মধ্যে এটিকে বিশ্বে অন্যতম সেরা হিসেবে মানা হয়। শিশুদের বিনোদনের জন্য কী নেই এখানে। সপ্তাহান্তে এখানে মানুষের ভিড় আর কোলাহলে পরিপূর্ণ থাকে। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাইড হচ্ছে ইনডোর রোলার কোস্টার।

 

টোকিও ডিজনিল্যান্ড

টোকিও ডিজনিল্যান্ডের ডিজাইন এতটাই থ্রিলিং করে নির্মাণ করা হয়েছে, আপনি যতক্ষণ ওর ভিতরে অবস্থান করবেন ততক্ষণ জাগতিক সব চিন্তাভাবনা আপনার মাথা থেকে উধাও হয়ে যাবে। স্বপ্নের এক জগতের নাম এই টোকিও ডিজনিল্যান্ড। রূপকথার এ স্বপ্নিল জগতে ডুবে থাকতে চাইলে টোকিও অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। এই ডিজনিল্যান্ডের গেটেই রয়েছে ব্রুসিউর অর্থাৎ পার্কের ম্যাপ ও তার ভিতর কোনদিকে কী আছে তার সূচিপত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ডিজনিল্যান্ডটির ভিতরে কয়েক ভাগে বিভক্ত। যেমন টুমোরো ল্যান্ড, ওয়ান্ডার ল্যান্ড, অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড, ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি। আরও আছে মিকি মাউস, সিন্ড্রেলা ক্যাসল, টাইম টু টাইম মন মাতানো প্যারেড, আরও কত কি! মিকি মাউসের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা থাকলে তো কথাই নেই।  এখানে মিকিমাউস অপেক্ষায় রয়েছে আপনার জন্যই।

 

মনোরঞ্জনের তীর্থ লোট ওয়ার্ল্ড

বৃহত্তম এশীয় বিনোদন পার্কগুলোর মধ্যে এই লোট ওয়ার্ল্ড অন্যতম সেরা। একে বলা সিউল শহরের গর্ব। এখানে সব আকর্ষণ সপ্তাহের জন্য বিরতি ছাড়াই মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে, যার জন্য লোটে বিশ্ব গিনেস বুক অব রেকর্ডসে প্রবেশ করেছিল। সর্বাধিক বিখ্যাত রাইডগুলো হলো জায়ান্ট লুপ রোলার কোস্টার, মিসরীয় জাদুঘর এবং স্প্যানিশ বিজয়ীদের জাহাজ। আরও রয়েছে মিনি ওয়াটার টাওয়ার। এই টাওয়ার থেকে নিচে পানিতে পড়ে যাচ্ছে আবার আকাশে উঠছে বাচ্চারা। মনের আনন্দে সব সময় খেলায় মেতে থাকে সবাই। দেখা যাবে, নাদরদোলার মতো ফেরিস ওয়েলে খেলছে বাচ্চারা। এশিয়ার বৃহত্তম এই কেন্দ্রটিতে সব সময়ই পর্যটকরা ছুটে আসেন। উপভোগ করেন এই জাদুকরী রাজ্যের মোহময়তা। সত্যিই সিউলে গেলেন আর এই জাদুকরী রাজ্য মিস করলেন তা মেনে নেওয়া দুষ্কর।

 

নোয়ার নৌকা থিম পার্ক

‘নোয়ার নৌকা’ থিম পার্ক। নাম শুনেই নিশ্চয় এই পার্ক সম্পর্কে একটা ধরণা জন্ম নিয়েছে। বাইবেলে বর্ণিত মহাপ্লাবনে নোয়া নিজ পরিবার ও অন্য প্রাণীদের রক্ষার জন্য যে নৌকায় চড়েছিলেন, তেমন একটি নৌকাসহ থিম পার্ক নির্মিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে। ২০১৬ সালের জুলাইতে এই পার্ক উদ্বোধন করা হয়। এ পার্ক নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন অ্যানসারস ইন জেনেসিস। পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, নোয়ার নৌকা থিম পার্কটি আসলে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিশাল প্রকল্পের একটি অংশ। ৮০০ একর জমিতে বিশাল প্রকল্পে এই থিম পার্কের সঙ্গে পরে বাইবেলের আরও থিম যোগ হবে। ‘নোয়ার নৌকা’ থিম পার্কে বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে থাকছে কাঠের জাহাজ। এতে থাকছে একটি রেস্তোরাঁ, একটি থিয়েটার ও পোষা প্রাণীদের একটি চিড়িয়াখানা। থিম পার্কটির ব্যাপারে আশাবাদী কেন হ্যাম জানান, পার্কটি প্রতিদিন ১৬ হাজার দর্শনার্থী ধারণ করতে সক্ষম। বছরে ১৪ লাখ দর্শনার্থী এ পার্ক পরিদর্শনে আসবেন বলে তাঁর প্রত্যাশা। যেহেতু দর্শনার্থীর চাপ বেশি হবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা, তাই উদ্বোধনের প্রথম ৪০ দিন প্রবেশ সীমিত রাখা হবে। কেন হ্যামের দাবি, ‘নিশ্চিতভাবে এটি খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের জায়গা হবে।’ প্রতিবছর এখানে প্রচুর মানুষ শিশুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। নির্মল আনন্দের জায়গা হিসেবে অনেকেই বিশ্বের সেরা পার্কগুলোর অন্যতম বলে মনে করেন এই বিশেষ থিম পার্কটিকে,  যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।


আপনার মন্তব্য