একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে “কেমন বাংলাদেশ গড়তে চাই- আমার স্বপ্ন, আমার অঙ্গীকার ” শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুস সালেহীন এর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সভাপতি আবু হুরায়রা আতিক, বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া তাসনিম, সূর্যসেন হলের প্রতিনিধি সোবহান হৃদয়, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রতিনিধি রিপন মিয়া, সুফিয়া কামাল হলের প্রতিনিধি প্রিয়া খাতুন, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রতিনিধি শাকিল মিয়া,শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রতিনিধি আজিজুর রহমান, বিজয় একাত্তর হল প্রতিনিধি ফরহাদ আহমেদ, জসিমউদদীন হল প্রতিনিধি হানিফ সরকারসহ বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সংগঠনের সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল মমিন বলেন, একটি নিরাপদ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে সর্বপ্রথম আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সহিংসতা সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন যদি আরও কার্যকর, দৃঢ় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করে, তাহলে এই অপসংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য, শিল্প, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুস সালেহীন বলেন, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বলতে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতাই বোঝায় না বরং নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তাই প্রকৃত ক্ষুধা মুক্তির মানদণ্ড। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, খাদ্য সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী বলেন, ব্যাংক, বীমা, চাকরি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্র থেকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যোগ্য, সৎ ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া তাসনিম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ- যেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
সূর্যসেন হলের প্রতিনিধি সোবহান হৃদয় বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে দারিদ্র্যমুক্ত। আয় বৈষম্য কমানো, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রতিনিধি রিপন মিয়া বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত ‘তিন শূন্য’- শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—দর্শন আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সামাজিক ব্যবসা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জোর দেন।
সুফিয়া কামাল হলের প্রতিনিধি প্রিয়া খাতুন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিন্নতাকে বিভেদের নয়, বরং শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রতিনিধি আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর আধুনিক ও নৈতিক ব্যবহার অপরিহার্য।
সাবেক সভাপতি আবু হুরায়রা আতিক বলেন- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আরও সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার দিকে এগোতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু কার্যক্রম ও দারিদ্র্য হ্রাস- সব খাতে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে এসডিজি সূচকে শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় সরকার ও নাগরিক অংশগ্রহণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুক্ত আলোচনায় একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা সুনাগরিক হওয়ার অঙ্গীকার করেন। তরুণ সমাজকে আরও সচেতন, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তারা। তরুণদের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ আলোকিত হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিডি-প্রতিদিস/তানিয়া