রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাওয়ার পানি, তথ্য সহযোগিতা, অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও অভ্যন্তরীণ খাবারের দোকান তদারকির মতো মানবিক কর্মসূচি হাতে নেয় সংগঠনটি।
এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বরে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে একটি ‘তথ্য সহায়তা কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়। শুক্রবার ও শনিবার দুইদিনব্যাপী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপকৃত হয়েছেন।
শুভসংঘের সদস্যরা বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে পরীক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে পৌঁছে দেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আশেপাশে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। এ ছাড়াও শুভসংঘের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ দোকানগুলোতে পণ্যের দাম তালিকা যাচাই করা হয় যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে।
সংগঠনটির সদস্য মোছা. মিথিলা খাতুন বলেন, ‘শুভসংঘ সবসময়ই ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। ভর্তিচ্ছুদের চোখে-মুখে যে কৃতজ্ঞতা আমরা দেখেছি, তা-ই আমাদের বড় অনুপ্রেরণা। এই মহৎ কাজের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’
আরেক সদস্য মো. হিমেল আহমেদ হিমু ‘ভর্তিচ্ছুদের ছোটখাটো সমস্যা সমাধান করতে পারা আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। এই শুভ কাজের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা সমাজকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে চাই।’
আব্দুর রহমান নামে এক সদস্য বলেন, ‘শুভ কাজে সবার পাশে থাকাই শুভসংঘের মূল শক্তি। হাজার হাজার ভর্তিচ্ছুর এই ভিড়ে কাউকে একটু পানি দিয়ে বা সঠিক পথ দেখিয়ে সাহায্য করার মাধ্যমে অন্যধরনের তৃপ্তি পেয়েছি। এই ধরনের মানবিক কাজগুলোই আমাদের সমাজকে সুন্দর রাখার প্রেরণা জোগায়।’
এ বিষয়ে সংগঠনটির রাবি শাখা সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিক বলেন, “পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে হাজারো মুখ। আমরা চাই, এই মুখগুলোর কেউ যেন পথহারা না হয়, দিশাহারা না হয়। আমরা পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা, এবং বিনামূল্যে পানির বোতল বিতরণ করেছি। ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও খাবারের দোকানগুলোতে মূল্য তদারকি করেছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে। শুভসংঘ সবসময়ই মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চায়, এ উদ্যোগ তারই একটি অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই কার্যক্রমে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আশা করি আগামী এপ্রিলের পরীক্ষাতেও আমরা একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারবো।”
সংগঠনের রাবি শাখা সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, "ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের চোখে উদ্বেগ থাকে, অভিভাবকদের চোখে অচেনা জায়গার আতঙ্ক। আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই তাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছি। এটি শুধু সহযোগিতা নয় ; একটি মানবিক দায়বদ্ধতা, যেটা শুভসংঘ আমাদের শেখায়।"
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাখা শুভসংঘের সহ-সভাপতি মিশন চাকমা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লুবনা শারমিন, দপ্তর সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রান্ত কুমার দাশ, ক্রীড়া সম্পাদক আল ফারাবী দুরন্ত, কার্যকরী সদস্য মাহবুবা ইসলাম মেরিনা, রাসেল শেখ। সদস্য জেমি আক্তার, নাহিদা আক্তার, ফাহমিদা আক্তার, নুসরাত জাহান মৌ, মোসা. সুমাইয়া খাতুন, শুক্লা রানী সরকার, শামিম হোসেন সুজা, মোসা. শোভা আক্তার, হেলাল উদ্দিন, মো. রেজাউল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া