বাগেরহাটের শরণখোলায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শরণখোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নবগঠিত বসুন্ধরা শুভসংঘ শরণখোলা উপজেলা শাখার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মহিদুল ইসলাম। শুরুতেই তিনি নবগঠিত কমিটির উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
উপকূলীয় বাস্তবতা ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শরণখোলা একটি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অধিকাংশ মানুষ বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবননির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা এখানে তুলনামূলক বেশি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. মতিয়ার রহমান খাঁন বলেন,“শরণখোলার বেশিরভাগ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মাঝপথে শিক্ষাজীবন হারাচ্ছে। এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা, সচেতনতা ও মানবিক সহায়তার বিকল্প নেই। আমি আশা করি বসুন্ধরা শুভসংঘ এই অঞ্চলের ঝরেপড়া শিক্ষার্থী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াবে।”
বসুন্ধরার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা মো. আব্দুল জলিল আনোয়ারী, অধ্যক্ষ, রায়েন্দা-রাজৈর ফাজিল মাদ্রাসা বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি মানবিক নাম। করোনা মহামারীসহ দেশের প্রতিটি সংকটে বসুন্ধরা যে ভূমিকা রেখেছে, তা প্রশংসনীয়। শুভসংঘের মাধ্যমে শরণখোলার সামাজিক উন্নয়নেও সেই মানবিক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
কার্যনির্বাহী সদস্য-১ ও শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘের কার্যক্রম শুধু সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে স্বাবলম্বী করার একটি উদ্যোগ। দরিদ্র পরিবার ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই সংগঠন শরণখোলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
আলোচনা সভায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-ঝরে পড়া ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা ও উপবৃত্তি, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও সচেতনতা কার্যক্রম, যুব সমাজকে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল ইসলাম বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন। এখানে যুক্ত হতে হলে সবার আগে মানবিক হতে হবে। আমরা সবাই মিলে পিছিয়ে পড়া জনপদ শরণখোলাকে এগিয়ে নিতে চাই। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী সদস্য ও শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, সহসভাপতি মো. শাহীনউজ্জামান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলিম আল রাজি মুক্তি, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তারসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া