নন্দিত ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ পাঠচক্র আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
পাঠচক্রে বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রানী বলেন, ‘হাজার বছর ধরে’ সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি উপন্যাস। এতে গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য, সংগ্রাম, কুসংস্কার ও মানবিক সম্পর্কের চিরন্তন চিত্র ফুটে উঠেছে। লেখকের সরল অথচ গভীর ভাষা ও সমাজের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এই উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং গ্রামবাংলার হাজার বছরের অপরিবর্তিত জীবনধারার প্রতিচ্ছবি।
শুভসংঘ জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম বলেন, ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি বারবার পড়লেও পুরোনো মনে হয় না। প্রতিবার পাঠে নতুন কোনো অনুভূতি, নতুন কোনো উপলব্ধি ধরা দেয়। গল্পের সরল বুনন এবং চরিত্রগুলোর গভীর মানবিক আবেদন পাঠককে খুব সহজেই গল্পের ভেতরে টেনে নেয়। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, কুসংস্কার ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
দপ্তর সম্পাদক জাদিদ বিন খালিদ বলেন, জহির রায়হানের লেখনিতে গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবন জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। সহজ কিন্তু গভীর বর্ণনার মাধ্যমে তিনি পাঠককে ধানক্ষেত, মোগলাই সড়ক ও শাপলা ফোটা জলাভূমির মাঝে নিয়ে যান। চরিত্রগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত যে পাঠক তাদের সঙ্গে সহজেই একাত্ম হতে পারেন।
প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নুর জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও মানসম্মত সাহিত্যচর্চা বিস্তারের লক্ষ্যেই এ ধরনের পাঠচক্র আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখা শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবে।
প্রত্যাশা রানীর সভাপতিত্বে পাঠচক্রে অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘের জাবি শাখার সহসভাপতি শতাব্দী রায়, সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাকিম, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক প্রতিভা তঞ্জগা, ইভেন্ট সম্পাদক লিমু আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া আরিফা, দপ্তর সম্পাদক জাদিদ বিন খালিদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা। সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পাঠচক্রটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিডি-প্রতিদিন/এমই