ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও শিশুদের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দক্ষিণ মেদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চার নম্বর দক্ষিণ মেদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুকসানা বেগম।
এসময় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা ভোলা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বহন করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হচ্ছে, যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর।
তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিসেফের চিলড্রেন’স ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (শিশুদের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি সূচক) অনুযায়ী, জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা।
সংগঠনের ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম) বলেন, জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বে যেসব দেশের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলোর একটি বাংলাদেশ। জলবায়ুজনিত সংকট শুধু শিশুদের স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমই ব্যাহত করে না, বরং এর কারণে শিশুদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বড় সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের-বিশেষ করে কন্যাশিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার সুযোগ বেড়ে যায়, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিশুবিবাহের ঝুঁকি বাড়ছে।
সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এর কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। একই সঙ্গে শিশুশ্রম, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক চাপ এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব সমস্যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও মানবকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সভায় সংগঠনের জেলা শাখার সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, আশরাফুন নাহার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা, কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক ইসরাত জাহান নুহাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি মানবিক সংকট। শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ দূষণ রোধে বৃক্ষরোপন, নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অভিভাবকরা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, ‘শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আলোচনা সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল