সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে মেহেরপুরে ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধির কার্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল আলম বকুল। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের মেহেরপুর প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চান্দু। এছাড়াও বক্তব্য দেন ইংরেজি লেখক ও গবেষক এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের সহ-সভাপতি এম এ বাসার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সানোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, সাকিব হাসান রুদ্র, মো. রাফি হাসান, ইয়াসির ইউসুফ ইমন, আরশাদ আওসাফ রাফিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, আমরা বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগের এক যুগে বসবাস করছি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তথ্যপ্রাপ্তি দ্রুত করেছে এবং যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক ব্যবহারের প্রবণতাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে- ভুয়া খবর, গুজব, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও বিকৃত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব গুজব সামাজিক অস্থিরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং ব্যক্তিগত মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য শেয়ার করার প্রবণতা সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, না বুঝে বা যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট, ভিডিও কিংবা সংবাদ শেয়ার করা আইনগত অপরাধের পাশাপাশি নৈতিকভাবেও অনুচিত। একটি ভুয়া তথ্য যেমন একজন ব্যক্তির সম্মান নষ্ট করতে পারে, তেমনি পুরো সমাজে অশান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে।
বক্তারা গুজব প্রতিরোধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-সংবাদ বা তথ্যের উৎস যাচাই করা, সন্দেহজনক তথ্য শেয়ার না করা, ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করা, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট রিপোর্ট করা এবং পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল লিটারেসি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আলোচনা সভা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া