যশোরের মনিরামপুরে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মনিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় চিকিৎসক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোমিনুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র হালদার, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, মো. আক্তারুজ্জামান, মাসুদ ইকবাল, ওয়াহিদুজ্জামান, মো. ইয়াছিন আলী, শাহরিয়ার রহমান, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, মিলন মন্ডল, মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান, প্রবীর সরকার, মাসুদ রানা, শিক্ষার্থী স্বপ্নীল মল্লিক রিজু, এস এম আনাছ প্রমুখ।
বক্তব্যে ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, নিপাহ ভাইরাস বর্তমানে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর তথ্যমতে, ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ৩৪৭ জন নিপাহ আক্রান্তের মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ভাইরাস এখন আর শুধু শীতকাল বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; খেজুরের কাঁচা রস ও বাদুড়ের আংশিক খাওয়া ফলের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও মানুষে মানুষে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনসচেতনতার অভাবই অনেক সময় সংক্রমণ বাড়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীরা সমাজের সচেতন নাগরিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি স্কুল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, গুজবে কান না দেওয়া ও সঠিক তথ্য জানার আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশ বলেন, যেহেতু নিপাহ ভাইরাসের এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই আতঙ্ক নয়—সচেতনতা ও প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। খেজুরের কাঁচা রস পান না করা, আধখাওয়া ফল পরিহার করা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা ও সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ জরুরি। তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।
সভা থেকে খেজুরের কাঁচা রসের অনলাইন বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল